প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এনসিটিবি’র বই ছাপা নিয়ে জটিলতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক : বছরের প্রথম দিন পাঠ্যবই শিশুদের হাতে তুলে দিয়ে প্রতিবছর বই উৎসব করা হলেও এবার সেই আয়োজনে ভাটা পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুই দফায় দরপত্র আহ্বান করেও প্রাক প্রাথমিক ও প্রাথমিকের সাড়ে ১১ কোটি বইয়ের টেন্ডার এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নির্বাচনের বছর বলে একটু আগেভাগেই বইয়ের দরপত্র আহ্বানসহ যাবতীয় কাজ শুরু করার পরও সময়মতো শিশুদের হাতে বই তুলে দেওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি দাম নির্ধারণ করে প্রথম দরপত্র আহ্বানের পরও নতুন করে দ্বিতীয়বার দরপত্র আহ্বান করা হয়। দ্বিতীয় দফার দরপত্রে প্রথম দরপত্রের প্রাক্কলনের চেয়ে প্রায় ৪৫ পয়সা দাম বেশি রাখা হয়। এরপরও প্রকাশকরা আরও বেশি দামে দরপত্র জমা দেন। এতে দ্বিতীয় দরপত্রটিও বাতিল হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা কারিগরি ও মাদ্রাসা পর্যায়ে পাঠ্যবইয়ের ক্ষেত্রেও। খবর বাংলা ট্রিবিউন’র।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব জটিলতায় আগামী অক্টোবরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় বই পৌঁছে দেওয়ার সরকারের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এনসিটিবি সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর ড. মিয়া ইনামুল হক রতন সিদ্দিকী বলেন, ‘পুনঃদরপত্রের কারণে কিছু সময় নষ্ট হয়েছে। তবে পুনঃদরপত্রের কাজ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আশা করছি এ সংকট থাকবে না। এরই মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে বই ছাপার কাজও শুরু হয়ে গেছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার আগেভাগে আগামী শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। অক্টোবরের মধ্যে ছাপার কাজ শেষ করতে এনসিটিবি প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ের বই ছাপার কাজে দরপত্রে দাম বাড়ানোর কারণে সংকট তৈরি হয়। প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয় ২ টাকা ২৫ পয়সা। কিন্তু গত ১২ এপ্রিল দরপত্র খোলার পর দেখা যায়, প্রকাশকরা দরপত্রে দাম ধরেছেন ২ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ২ টাকা ৮২ পয়সা। এতে প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রাথমিক পর্যায়ে বইয়ে সরকারের অতিরিক্ত খরচ বেড়ে যায় ১১১ কোটি টাকা। এ কারণে বাতিল হয় দরপত্র। দ্বিতীয় দরপত্র খোলা হয় গত ২০ ও ২১ জুন। এতে ৪২ দিন বেশি সময় নষ্ট হয়েছে।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, দ্বিতীয় দরপত্রে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ টাকা ৬৯ পয়সা করে। আর প্রকাশকরা ২ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে দাম ধরে দরপত্র জমা দেন। ফলে সরকারের ১২০ কোটি টাকা অতিরিক্ত গচ্চা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, পুনঃদরপত্র মূল্যায়ন কমিটি দরপত্র যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। তবে দ্বিতীয় দরপত্রে কাজ পেলেও আরও ২৮ দিনের সময় লাগবে এই প্রক্রিয়া শেষ হতে। প্রকাশকরা আরও ৮৪ দিন সময় পাবেন। আর জরিমানা দিয়ে আরও অতিরিক্ত সময় পাবেন প্রায় ২ সপ্তাহ। সব মিলিয়ে অক্টোবরে মধ্যে বই দেওয়া কোনোভাবে সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন এনসিটিবি কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি দাম পড়ায় কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের বই এবং প্রাথমিকেও পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে। এতে বই সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে মুদ্রণ শিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, ‘পুনঃদরপত্রে প্রাথমিকের বইয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা হয়তো সময়মতো ঠিক হয়ে যাবে। মাধ্যমিকে প্রাক্কলন ব্যায় ধরা হয়েছে ২ টাকা ৭৭ পয়সা আর প্রাথমিকে ধরা হয়েছে ২ টাকা ৬৯ পয়সা। এখানে ৮ পয়সা দাম কমানো হয়েছে। মাধ্যমিক ১০ ভাগ বাড়িয়ে কমিটি কাজ দিতে পারে। একইভাবে প্রাথমিকে ১০ ভাগ দাম বাড়িয়ে কাজ দেওয়া হলে এখানে কোনও সংকট থাকবে না।’

তিনি জানান, শতকরা ১০ ভাগ বাড়ানো হলে ৫ থেকে ৬ কোটি বেশি টাকা লাগবে। এতে সরকারের সফল এ প্রকল্প আলোর মুখ দেখবে। তৃতীয়বারের মতো এনসিটিবি আর কোনও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেবে না বলেও মনে করেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত