প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাড়ছে মাটির অম্লতা

মতিনুজ্জামান মিটু : উত্তরাঞ্চলে কমছে মাটির পিএইচ, বাড়ছে অম্লতা। ১৯৮৮ সালের চেয়ে ২০১৫ সালে ওই অঞ্চলের কোথাও কোথাও প্রায় দিগুন জায়গায় বিস্তৃত হয়েছে এই অম্লতা। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় অম্লতা বেড়ে ২০১৫ সালে হয়েছে ৩১ হাজার ৬০৪ হেক্টর। ১৯৮৮ এখানকার ১৫ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে অম্লতা ছিল। একই ভাবে ওই সময়ে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্দা উপজেলার অম্লতা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ১৪২ হেক্টর জমিতে। ১৯৮৮ সালে এখানে ১৭ হাজার ১২২ হেক্টর জমিতে অম্লতা ছিল।

জমির অম্লতা বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে এসআরডিআই এর ‘মৃত্তিকা গবেষণা এবং গবেষণা সুবিধা জোরদারকরণ (এসআরএসআরএফ)’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আবদুল বারী বলেন, অম্লতা বেড়ে যাওয়ায় মাটি থেকে গাছের খাদ্য গ্রহণের সক্ষমতা কমে যায়। মাটির পিএইস কমলে অম্লতা বেড়ে যায়। উদ্ভিদ বা গাছ মাটি থেকে খাদ্য উপাদান গ্রহন করে বেঁচে থাকে। ক্রমাগভাবে অত্যাধিক সার ব্যবহার ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মাটির এই অম্লতা বাড়তে পারে।

‘মৃত্তিকা গবেষণা এবং গবেষণা সুবিধা জোরদারকরণ (এসআরএসআরএফ)’ প্রকল্পের মাধ্যমে এ বিষয় খাতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেয়া হবে। এই প্রকল্পের আওতায় দেখা হবে কি কি কারণে মাটির অম্লতা বেড়ে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কি করতে হবে। কিভাবে অম্লতা দূর করা যায় এবং অম্লতায় আক্রান্ত জমিতে কি কি ফসল হতে পারে গবেষণায় তার সুপারিশ বেরিয়ে আসবে। সাধারণত চুন দিয়ে মাটির অম্লতা দূর করা যায়। কি পরিমাণ চুন প্রয়োগ করতে হবে সে বিষয় এবং অম্লতা দূরিকরণের আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টা করা সম্ভব হতে পারে গবেষণায়।

গাছের মৃত্তিকা বিজ্ঞানী স. ম. শহিদ বলেন, মাটিতে এসিড থাকলে ব্যাকটেরিয়া থাকেনা। ব্যাকটেরিয়া না থাকলে মাটির উর্বরতা হারায়। গাছ অস্কিজেন, হাইড্রোজেনসহ প্রয়োজনীয় ১৭ টি উপাদানের প্রায় সবই মাটি থেকে গ্রহন করে। মাটির এসিডিটি নির্ণয় করা হয় পিএইচ মানের মাধ্যমে। পিএইচ কমার অর্থ পানিতে দ্রবনীয় উদ্ভিদের খাবার মাটির গভীরে চলে যাওয়া। মাটির বেশি গভীর থেকে গাছ খাদ্য উপাদান গ্রহন করতে পারেনা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ