প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাদক প্রবেশ রুখতে সীমান্তে সেন্সর বসানো হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুজন কৈরী : মাদকের ভয়াবহতা রুখতে ও চোরাচালান রোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে সকলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত রক্ষা ও মাদক প্রবেশ রুখতে সীমান্তে পর্যায়ক্রমে সেন্সর বসানো হচ্ছে। এর ফলে সীমান্তের কাছে কেউ গেলে সেন্সরের মাধ্যমে বিজিবি টের পেয়ে ব্যবস্থা নিবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে একসাথে কাজ করে যাচ্ছি। মাদক নির্মূলে সারাদেশে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমাদের দেশে কোনো মাদক উৎপাদন হয় না বা তৈরি হয় না। আমরা সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করছি। আমরা বিজিবি ও কোস্ট গার্ডকে শক্তিশালী করছি, যাতে কোনোভাবেই মাদক প্রবেশ করতে না পারে। আমরা ভারত সরকারের সাথে কথা বলে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের মাদকের কারখানাগুলো বন্ধ করেছি। কিন্তু মায়ানমার সরকার আমাদের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করলেও তারা মাদকের কারখানা বন্ধ করছে না।

তবে মিয়ানমার কোনো এক সময় বাংলাদেশকে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আমি নিজে কথা বলেছি। আমাদের সমস্যার কথা বলেছি।

তিনি আরো বলেন, মাদকাসক্তদের নিরাময়ের জন্য জেলা শহরগুলোতে নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বিভাগীয় শহরগুলোতে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র চলছে। বর্তমানে দেশে ২৩৪টি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র কাজ করছে। ঢাকায় রয়েছে দেশের একমাত্র মাদকদ্রব্য পরীক্ষাগার। পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় শহরগুলোতে মাদকদ্রব্য পরীক্ষাগার স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, মাদকবিরোধী যে অভিযান চলছে তাতে আমরা আশা করছি, মাদক নির্মূল করতে না পারলেও অন্তত কন্ট্রোল করতে পারবো। পাশাপাশি সমাজের শিক্ষক, ইমাম, শিল্পী, বাবা-মাসহ সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে আরো ঢেলে সাজানো হবে। নতুন আইন হলে আরও গতি আসবে। ইয়াবা নিয়ে আইন হচ্ছে, সেখানে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদ-ের বিধান আসছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে আমরা যেমন সফল হয়েছি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস মাদক নিয়ন্ত্রণেও আমরা সফল হবো। আমরা যে অভিযান শুরু করেছি। মাদক নিয়ন্ত্রনে না আসা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।

তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের স্থান হবে হয় কারাগার, নয়তো কোথায় যাবেন তা আপনারাই ঠিক করে নেবেন। তবুও কাউকে এ ব্যবসার সাথে জড়িত থাকতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ছাড়াও যারা এ পেশায় পৃষ্ঠপোষকতা করছেন গোয়েন্দাদের মাধ্যমে তাদের নামের তালিকা তৈরি করার কাজ চলছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব।

তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৫ ভাগ যুবক। তাদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই কর্মক্ষম। এরা জাতির ভবিষ্যৎ, আমরা এদের কথা চিন্তা করি। তাই তাদের কর্মক্ষম ও সৃজনশীল রাখতেই আমাদের এই মাদকবিরোধী অভিযান। কারন আমরা দেখে শুনে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে ধ্বংস হয়ে যেতে দিতে পারি না।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মাদক এমন একটি সমস্যা যা ক্যান্সারের চেয়ে ভয়াবহ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছি। আমরা নিয়মিত ডিএমপির বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালাচ্ছি। মাদক ব্যবসায়ীর পরিচয় যাই হোক, তাকে ছাড় দেয়া হবে না। মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত মাদক বিরোধী অভিযান চলমান থাকবে।

তিনি বলেন, আপনার সন্তানকে মাদক থেকে রক্ষা করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একটি পরিবারের কোনো সদস্য মাদকাসক্ত হলে পুরো পরিবারটি আক্রান্ত হয়। পরিবারের সকল সদস্যে জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়।

সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী বলেন, মাদক নির্মূলের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধন করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যু দন্ড রেখে এই আইন সংশোধন করা হচ্ছে। এই সংশোধনে আলাদা বিচারিত আদালত, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জনবল বৃদ্ধি ও মহাপরিচালকের ক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাস্কফোর্স গঠনসহ নানান বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মাদক নির্মূলের জন্য আমরা সবাই একসাথে কাজ করব।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমান সরকারের সদইচ্ছায় বর্তমানে প্রতিটি জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এর অফিস রয়েছে। গত বছরে মাদক সম্পর্কিত ১২ হাজার  ৫’শ মামলা দায়ের ও ১৩ হাজার আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অধিদপ্তরের মাত্র ৪৫০ জন অপারেশনাল সদস্য রয়েছেন। আমাদের জনবল কাঠামো ১ হাজার ৭০৬ থেকে ৮ হাজার ৫০৮ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। এই জনবল পাওয়া গেলে কাজের গতি আরো বাড়বে। এছাড়া প্রতিটি জেলা অফিসে একটি করে গাড়ির পাওয়ারও দাবি জানান তিনি।

এর আগে মাদক বিরোধী একটি র‌্যালী জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে বের হয়ে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। বেলুন উড়িয়ে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০১৮ এর শুভ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ