প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেনজির ভুট্টোর হত্যার দায় অস্বীকার করল তালেবান শীর্ষ কমান্ডার

সাইদুর রহমান : ২০০৭ সালে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর হত্যাকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাকিস্তান তালেবানের একাংশের নেতা ইকরামুল্লাহ। প্রায় ১০ বছর পর এক ভিডিও বার্তায় তিনি হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। পাকিস্তান তালেবানের পূর্বাঞ্চলীয় আফগানিস্তানভিত্তিক বিচ্ছিন্ন একটি অংশের প্রকাশ করা একটি ভিডিও হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিবিসি। ওই ভিডিওতে ইকরামুল্লাহকে গ্রুপটির ‘ঊর্ধ্বতন নেতা’ আখ্যায়িত করে বলা হয় তিনি বেনজির হত্যায় জড়িত ছিলেন না, এমনকি বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না।

তবে এখনও পাকিস্তানের অন্যতম সন্দেহভাজন জঙ্গি তালিকায় রয়েছেন ইকরামুল্লাহ। বেনজির হত্যা মামলার আদালতের নথিতেও দ্বিতীয় হামলাকারী হিসেবে নাম রয়েছে তার। ধারণা করা হয়, ওই ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে অন্যতম জীবিত ব্যক্তি তিনি। অন্য হামলাকারীদের অনেকেই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, সম্ভবত পূর্বাঞ্চলীয় আফগানিস্তানে ধারণ করা এক ভিডিওতে বেনজির হত্যায় ও জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন ইকরামুল্লাহ। প্রতিদ্বন্দ্বি গ্রুপ আর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে তার পরিবার হুমকি পাওয়ার পর তিনি এই ভিডিও বার্তা দিয়ে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পাকিস্তান তালেবানের নতুন নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এই ভিডিও সামনে এনেছে বিচ্ছিন্ন আরেকটি অংশ।

তবে ভু্ট্েটার এক ঊর্ধ্বতন সহকারী বলছেন, ইকরামুল্লাহ মিথ্যা বলছেন। বেনজিরের ঘনিষ্ঠ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তানের সিনেটর রেহমান মালিক বিবিসিকে বলেছেন, ইকরামুল্লাহ ভিডিওতে সম্পূর্ণ মিথ্যে বলেছেন। অন্য সন্দেহভাজন হামলাকারীরা আদালতের স্বাক্ষ্যে তাকে দ্বিতীয় হামলাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পাকিস্তান তালেবানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, এই ভিডিও প্রকাশের আগে প্রকাশ্যে আর গর্ব নিয়ে বেনজির হত্যায় জড়িত থাকার কথা বলে বেড়াতেন ইকরামুল্লাহ। কিন্তু গত বছর আফগানিস্তানে প্রতিদ্বন্দ্বি সশস্ত্র গ্রুপের হামলার মুখে পড়েন তিনি। আর তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
পাকিস্তানের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেছেন, বেনজির হত্যার অভ্যন্তরীণ তথ্য নিয়ে বেঁচে থাকা একমাত্র মানুষ ইকরামুল্লাহ। বাকিদের বেশিরভাগই বিভিন্ন সময়ে নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ইকরামুল্লাহ সম্ভবত আফগান কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হয়ে পাকিস্তানে প্রত্যাবাসিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে দায় অস্বীকার করেছেন। এছাড়া পাকিস্তান তালেবানের নতুন নেতৃত্বকেও চ্যালেঞ্জ জানাতেও তিনি এটি করে থাকতে পারেন বলে মনে করেন রেহমান। তিনি ইকরামুল্লাহকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, বেনজির ভুট্টো ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডির এক নির্বাচনি সমাবেশে আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন। দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, ১৫ বছর বয়সী হামলাকারী নিজেকে উড়িয়ে দেওয়ার পর বেনজির নিহত হলে সেখান থেকে হেঁটে বেরিয়ে যান ইকরামুল্লাহ। এছাড়া টিটিপি নামে পরিচিত পাকিস্তান তালেবানের সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রধান নুর ওয়ালি মেহসুদ তার প্রকাশিত বইয়ে এই হামলায় তার সংগঠনের জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে নিয়েছেন।
বেনজির হত্যায় জড়িত থাকার দায়ে পাঁচ জঙ্গিকে অভিযুক্ত করে রায় ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের আদালত। এখন আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে ওই মামলা। সূত্র : বিবিসি উর্দূ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত