প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

গাজীপুর সিটি নির্বাচন, আ.লীগ বিএনপির পাল্টা অভিযোগ

মো. ইউসুফ আলী বাচ্চু: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ বিএনপির পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন বিএনপি নেতারা শুরু থেকেই নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করছে যার কোন সত্যতা নাই। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিএনপি ভোটের পরিবেশ নিয়ে মিথ্যাচার করছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, গাজীপুর সিটিতে নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে তারা কোন নির্বাচনী এজেন্ট দেয়নি। নিশ্চিত পরাজয় জেনেই তারা নির্বাচনী এজেন্ট দেয়নি। দুই কারণে বিএনপি কোনো এজেন্ট দেয়নি। প্রথমত, প্রার্থীর দুর্বলতা। দ্বিতীয়ত, দলীয় কোন্দল। তারা দলীয় দৈন্যতায় ভুগছে। তাই নানা অভিযোগ করে উধোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে তারা।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, গাজীপুরের মানুষ ২০১৩ সালে বিএনপিকে ভোট দেয়। কিন্তু ওই সময় গাজীপুরের কোনো উন্নয়ন হয়নি।
এ কারণে এবার স্বভাবতই বিএনপিকে সেখানকার জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করবে। ভোটাররাই আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে বিপুল ভোটে জয়ী করবে।

অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গাজীপুরে যে খবর পাচ্ছি তা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার। আমরা চমৎকার নির্বাচন চাইনি। সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বারবার সরকারের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করছে। যা সম্পূর্ণ জালিয়াতি ও ভোট ডাকাতির। এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক কেন্দ্রে দখল, জাল ভোট, এজেন্ট গ্রেপ্তার ও বের করে দেয়া হচ্ছে।

রিজভী বলেন, গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে আমরা বার বার যে আশঙ্কা করছিলাম তারই প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।

রিজভী বলেন, আমাদের কাছে খবর এসেছে বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে, ভোটারদের ভোট দিতে দেয়া হচ্ছে না। সকাল ৬টা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার শুরু করে পুলিশ। এভাবে চলছে গাজীপুর সিটি নির্বাচন।

উল্লেখ্য সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। একটানা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ভোট শুরুর আগে থেকেই কেন্দ্রে আসেন ভোটাররা। বৃদ্ধ থেকে তরুণ সব শ্রেণিপেশার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে এক এক করে ভোট দিচ্ছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

প্রায় ১১ লাখ ৩৮ হাজার ভোটারের নগরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ মেয়র পদে ৭, কাউন্সিলর পদে ২৫৬ ও সংরক্ষিত নারী আসনে ৮৪ জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ৪২৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট নেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে ৩৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে বিশেষ নজরদারি।

নির্বিঘ্নে ভোট সম্পন্ন করতে নগরজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে র‌্যাব, পুলিশের পাশাপাশি ২৯ প্লাটুন বিজিবি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা ভোটারদের। প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে জানান, কোথাও কোনো গোলোযোগ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত