প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোট দেয়া মানে সাক্ষ্য প্রদান করা

আমিন মুনশি: ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে ভোটের অবস্থান সাক্ষ্য প্রদানতুল্য। মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান যেমনিভাবে হারাম ও নাজায়েজ তেমনিভাবে প্রয়োজনের মুহূর্তে সত্য সাক্ষ্য গোপন করাও হারাম। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে ব্যক্তি সাক্ষ্য গোপন করবে, তার অন্তর গোনাহগার হিসেবে গণ্য হবে।’ [সুরা বাকারা: আয়াত:২৮৩]
হযরত আবু মুসা আশআরী রা. হতে বর্ণিত, মহানবি সা. বলেছেন, কোন ব্যক্তিকে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ডাকা হলে সে যদি সাক্ষ্য গোপন করে তাহলে সে ঐ ব্যাক্তির মত, যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করে। [সূত্র: জামউল ফাওয়ায়েদ। ভলিউম: ২, পৃ: ৬২]
উপরোক্ত প্রমাণাদির আলোকে বলা যায়, ইসলাম ভোট না দেয়ার প্রবণতাকে প্রত্যাখান করেছে। এ মত ব্যক্ত করেছেন বর্তমান মুসলিম বিশ্বের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন আল্লামা তাকি উসমানি।

বস্তুত কাউকে ভোট দেয়ার অর্থ হলো তার ব্যাপারে এ সাক্ষ্য দেয়া যে, তিনি সৎ ও যোগ্য। এর বিপরীতে কোনো অসৎ ও অযোগ্যকে ভোট প্রদান বস্তুত ওই প্রার্থী সম্পর্কে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। এটা মহাপাপের কাজ। কোরান ও হাদিসে এমন কাজ করতে বারণ করা হয়েছে। মিথ্যা সাক্ষ্য প্রসঙ্গে কোরানে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে : ‘তোমরা মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত থাক।’ [সুরা হজ : ৩০]

তাই ভোটের প্রাক্কালে প্রার্থীদের অতীত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। ভোট প্রদানের সময় প্রার্থীর সততা ও যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নির্বাচন যেমন একটি প্রাচীন পদ্ধতি তেমনি একটি ইসলামিক বিধানও বটে। তাই তো দেখা যায়, আল্লাহর নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর তার কাফন-দাফনের আগে ইসলামি বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান এবং খলিফা নির্বাচনকে প্রাধান্য দিয়ে হজরত আবু বকর (রা.) কে সাহাবাদের মতামতের ভিত্তিতে খলিফা নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ইসলাম সর্বদা ব্যক্তির সততা, যোগ্যতা, খোদাভীতি, ঈমান, জ্ঞান, আমল, চারিত্রিক গুণাবলী ও বংশকে প্রাধান্য দিয়েছে।

অতএব জাতীয় কিংবা স্থানীয় নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী দেখে ভোট দিতে হবে। যারা ভোটারদের মিথ্যা কথা বলে লোভ-লালসা দিয়ে প্রলুব্ধ করে, নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়, অন্যায় ও অবৈধ কার্যক্রমে লিপ্ত হয়, ভোট ক্রয়-বিক্রয় করে, জাল ভোট প্রদান করে, ভোটকেন্দ্র দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়; তাদের বর্জন করতে হবে। ভোটের মতো একটি পবিত্র আমানতকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে ভোটের বিষয়টি শুধু পার্থিব নয়, পরকালেও এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

এক হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যারা মানবতার সেবার জন্য দৌড়ঝাঁপ করবে তাদের মর্যাদা হবে সে লোকের মতো যে সারারাত ইবাদত করে এবং সারাদিন রোজা রাখে।’ অন্যত্র বলা হয়েছে- ‘প্রত্যেক কাজের সফলতা, ব্যর্থতা, সুফল ও কুফল ব্যক্তির নিয়তের ওপর নির্ভর করে। সুতরাং প্রার্থী যদি নির্বাচিত হয়ে দেশ, ধর্ম ও মানুষের জন্য কল্যাণকর এবং সওয়াবের কাজ করেন শুধু তখনই তিনি সে সম্মান ও মর্যাদা পাবেন। যারা ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করবেন তারাও অনুরূপ সওয়াব ও মর্যাদার অধিকারী হবেন। কারণ, ভোটারদের কারণেই তিনি এমন পুণ্যময় কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যারা ভালো বা মন্দ কাজ করে বা করার ক্ষমতা ও সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় তারা ওই কর্ম সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব বা গুনাহ অর্জন করবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত