প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এবারের বিশ্বকাপ ‘মেড ইন চায়না’?

স্পোর্টস ডেস্ক: বলুন তো এবার বিশ্বকাপ কোথায় হচ্ছে? এমন প্রশ্ন শুনে নিশ্চয়ই অবাক হয়ে গেছেন। ভাবছেন, বিশ্বকাপটা যে রাশিয়ায় হচ্ছেÑএটা কে না জানে! এমন প্রশ্নের মানেটা কী? আসলে বিশ্বকাপে চীনা পৃষ্ঠপোষকদের সংখ্যা জানলে বিশ্বকাপ রাশিয়ায় হচ্ছে নাকি চীনে হচ্ছেÑএটা নিয়ে বিভ্রান্ত হতেই পারেন। বিশ্বকাপে এবার চীনা পৃষ্ঠপোষকের সংখ্যা ৭! মোট ১৯ পৃষ্ঠপোষকের ৭টিই যদি চীনা প্রতিষ্ঠান হয়, তাহলে মনে প্রশ্ন আসতেই পারেÑবিশ্বকাপটা চীনাদের কি না!

বিশ্বকাপে চীন নেই। বিশ্ব ফুটবলে চীনের উপস্থিতি বেশ দুর্বলই। বিশাল জনসংখ্যার দেশটি ২০০২ সালে একবারই বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে খেলেছিল। সেবার ৯ গোল খেয়ে শেষ হয় তাদের মিশন। হালে চীনা প্রিমিয়ার লিগে টাকার ছড়াছড়ি আর সেই টাকার হাতছানিতে কিছু তারকা খেলোয়াড়ের আকৃষ্ট হয়ে পড়ার কারণে চীনা ফুটবল আলোচনায় থাকছে। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে যেখানে চীনা পৃষ্ঠপোষকের সংখ্যা মাত্র একটি ছিল, সেখানে চার বছরের মাথায় এটি সাতটিতে উন্নীত হওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগায়।

২০১৪ সালে বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় ছিল ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। যার মূল উৎস ছিল টিভি স্বত্ব। পরের চার বছরে ফিফার আয়ের যে চক্র নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেটি ভেঙে পড়ে ২০১৫ সালে দুর্নীতি-সংক্রান্ত ব্যাপার-স্যাপার সামনে চলে আসে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি অনুসন্ধান সংস্থা ফিফার প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তার বিপক্ষে দুর্নীতির অভিযোগ আনে। ছাড় পাননি ফিফার দ-মু-ের কর্তা সেপ ব্ল্যাটারও। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ফিফার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এমিরেটস, কন্টিনেন্টাল, জনসন অ্যান্ড জনসন ও সনির মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানি। ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে ফিফা।

২০১৮ বিশ্বকাপ সামনে রেখে ৩৪টি পৃষ্ঠপোষকের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল ফিফা। যার মধ্যে ১৯টি দরপত্র বিক্রি হয়। এখানেই সামনে চলে আসে চীন। নিজেদের ফুটবলকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ফিফার সঙ্গে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। যার পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন স্বয়ং চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। ফুটবলপ্রেমী সি চিন পিং চীনের বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেন বিশ্বকাপে বিনিয়োগ করার। চীনের এই বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ খোঁজা। ফিফার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক যেটিতে বড় প্রভাব ফেলবে। চিন পিং এখন চীনে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বপ্নে বিভোর।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের। অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্বে চীন এগিয়ে গেলেও ফুটবলে তারা পিছিয়ে। এটা নিয়ে ভাবছে তারা। চীন চায় দ্রুতই ফুটবলে এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে উঠে নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ করে নিতে। প্রথমআলো

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত