প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক
স্বল্প সুদে আমানতের নিশ্চয়তা চান এমডিরা

যুগান্তর রিপোর্ট: ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে স্বল্প সুদে সরকারি আমানতের নিশ্চয়তা চান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীরা। সোমবার বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) একটি প্রতিনিধি দল বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে এবিবির প্রতিনিধিরা এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এবিবির প্রস্তাবটি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

উল্লেখ্য, ২০ জুন বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ব্যাংকে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। বিএবি বলেছে, ১ জুলাই থেকে ব্যাংকে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ ও ৬ শতাংশ সুদে আমানত নেয়া হবে।

এবিবির চেয়ারম্যান ও বেসরকারি ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও পর্ষদের সিদ্ধান্ত আমরা বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত। আমাদের অভিভাবক বাংলাদেশ ব্যাংককে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি। ১ জুলাই থেকে নতুন বিনিয়োগের সুদহার ৯ শতাংশ হবে। এটি জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে আমাদের তারল্য জোগান দিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা আগে ছিল ২৫ শতাংশ। সেটি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। তাছাড়া সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে তারল্য রয়েছে। এসব তারল্যের অংশ আমাদের বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় আসতে হবে। আর সেটি ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদে। এর বেশি সুদ যাতে সরকারি ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠান তহবিল জোগানে না চায়, সেটি সরকারিভাবে জানিয়ে দিতে হবে।

এদিকে বৈঠক সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক এক অঙ্কে ঋণের সুদ নামিয়ে আনার ঘোষণা বাস্তবায়নে সব ধরনের নীতি সহায়তা দেবে। এজন্য কিছুটা ছাড় দিতে হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মনোভাব এবং অর্থনীতির স্বার্থে দেবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। তাই এবিবির দাবি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটি নিয়ে গভর্নর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবেন। প্রয়োজনে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা যায় কি না, সেটিও প্রস্তাব করা হবে।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারবে কি না, সেটি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তাছাড়া অর্থ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করলেও অন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো সেটি আদৌ আমলে নেবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তুলে এ ব্যাপারে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সরকারি ব্যাংক, মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিকনির্দেশনা দিতে হবে। যাতে ওইসব প্রতিষ্ঠান তহবিল সরবরাহ করার ক্ষেত্রে বেশি সুদ দাবি না করে।

এবিবির প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দিকনির্দেশনাও দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কিছুটা ছাড় দেয়া হলেও খুব বেশি আইনি ব্যত্যয় বরদাস্ত করা হবে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলো বাস্তবায়ন করছে কি না, সেটি নজরদারি করবে। প্রয়োজনে তাদের কাছে বিতরণ করা ঋণের হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং উপদেষ্টা এসকে সুর চৌধুরী বলেন, এবিবি ১ জুলাই থেকে সার্বিকভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্র“তি দিয়ে গেছে। আমরা বলেছি, ভালো কথা। তবে ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা পরিপালন করতে হবে। ব্যাংককে কোনোভাবে ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। স্বাভাবিক ঋণপ্রবাহ অব্যাহত রাখতে হবে। এছাড়া ঋণের মান নিশ্চিত করতে হবে। ঋণ আমানত হার যাতে লঙ্ঘন না হয় এবং আগ্রাসী ব্যাংকিং করে ব্যাংকে যাতে নতুন সংকট তৈরি করা না হয়, সেটিও আমরা জানিয়ে দিয়েছি।

জানা গেছে, বৈঠকে এবিবির প্রতিনিধিদের খেলাপি ঋণ আদায়ে মনোযোগ দিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে তাদের সক্ষমতা বাড়বে। তাছাড়া সম্পদ দায় ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকতে বলেছে। আর পুরো প্রক্রিয়ার ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নজর থাকবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান, এসএম মনিরুজ্জামান, এবিবির চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান, বর্তমান কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম, সদস্য এনআরবি ব্যাংকের এমডি মো. মেহমুদ হুসাইন, ইউসিবিএলের এমডি এ ই এ মুহাইমেন উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত