প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

‘কীভাবে পালাবেন প্রস্তুতি নিন’, হুঁশিয়ারি সহজ তবে-

দীপক চৌধুরী : নিরুত্তাপ রাজনীতি উত্তপ্ত হতে কতক্ষণ? বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপট ও আমাদের রাজনৈতিক কৃষ্টি থেকে অনুমান করা সহজ, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে উত্তাপ এক সময় ঠা-া হবে। কিন্তু গাজীপুর তো শেষ কথা নয়। রাজনীতিতে আরো বড় খেলা রয়েছে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব  মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কম্বাইন্ড মিলিটারি হসপিটালে (সিএমএইচ) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থার অনুমতি দিয়েছে সরকার। কিন্তু বিএনপি নেতারা ‘পণ’ ধরেছেন, ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া চিকিৎসা করাবেন না খালেদা জিয়ার।

এখানে যেন চিকিৎসা জরুরি নয়, ‘জরুরি’ বিষয় হাসপাতাল। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনাকে ওয়ান-ইলেভেনের সময় চিকিৎসার জন্য স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, রেফারেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু এটা বলা হয় না, সাজাপ্রাপ্ত আর বিচারাধীন বিষয় দুটিকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। শেখ হাসিনার সাজা হয়নি। সুতরাং বিএনপি নেতাদের কথা থেকেই অতীতের নানান ইস্যু মনে পড়ে । ইতিহাস বড়ই নিষ্ঠুর। খুব কঠিন এবং ‘বিতর্কিত রাজনীতি’ অতিক্রম করেছে এদেশের মানুষ। মানুষ পুড়িয়ে মারার নাম প্রতিবাদ হতে পারে না। না হতে পারে রাজনীতি, গণতন্ত্র। মানবতার মৃত্যুও দেখেছে জনগণ কিন্তু মুখ খুলতে দেখেনি মানবতাবাদী নেতাদের।

ইতিহাস থেকে একটি উদাহরণ নিচ্ছি। প্রেসক্লাবের সম্মুখে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে রাজনীতির গল্প শুনছি। নানান কথা আলোচনায়। ২০১৩-এর মে মাসের  কথা।  খ্বু সম্ভবত ৬ তারিখ ছিল। চারদিকেই উত্তাপ। কী হতে যাচ্ছে। টালমাটাল রাজনীতির বহুবিধ সংবাদ উপস্থাপন করছিলেন বিএনপি ঘরানার একজন সাংবাদিক। ঠিক এর কিছুক্ষণ পরই সংবাদ এলো, হেফাজতের সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি  ঘোষণা এসেছে,  ‘কীভাবে পালাবেন প্রস্তুতি  নিন।’ দুশ্চিন্তার কথা। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ঢাকার ছয়টি প্রবেশপথে অবরোধ  শেষে  বেলা দুইটা  থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ শুরু  হয়। এর আগে পুলিশের কাছে সমাবেশের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়। পুলিশ সমাবেশের অনুমতি  দেয়।

এর আগে  রোববার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক  বৈঠকে একটি সমাবেশ করারও সিদ্ধান্ত হয়। রাজধানীর নয়াপল্টনে  সোমবার সমাবেশ করবে বিএনপি। বিকেল তিনটার দিকে এ সমাবেশ হবে। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের দাবি  মেনে নিতে সরকারের প্রতি খালেদা জিয়ার  বেধে  দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামের সময়সীমা সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শেষ হবে।  এগুলো আলোচনা ও গল্পের উপাদান ছিল তখন কয়েকদিন। এরপর কী হয়েছে আমরা সবাই জানি। হেফাজত কীভাবে পালালো তাও দেখেছি। যিনি  শেখ হাসিনা সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছিলেন, তিনি এখন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি। সুতরাং রাজনীতি কখন নিষ্প্রভ হয়, এর গতি কখন শিথিল হয়, রাজনীতি কখন ঠা-া সময় কাটায় আর উত্তপ্ত হয় এর আভাস দেওয়া মুশকিল।

সরকারি দল ও বিএনপি নেতাদের কথার চালাচালি কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে দুই পয়সা মূল্যেরও নয়। তবে, এটা ঠিক বিএনপির ‘ভারতনীতি’ নিয়ে অনেকের প্রশ্ন এখন। বিস্মিতও অনেকে। তাদের জিজ্ঞাসা, আসলেই কী বিএনপির মতিভ্রম হয়েছে? কারণ, বিএনপি কোনোকালেই ভারতকে সহ্য করতে পারতো না। ফলে সাধারণ মানুষের ‘ইন্টারেস্ট’ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে নয়, দলটির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং হাসপাতাল নিয়ে এখনো মারামারি দেখা যায়নি। এটা কথা চালাচালির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে কি না বিএনপি; এটাও একটি প্রশ্ন। কারণ, বিএনপি চায় ‘ইস্যু’।

সুচিকিৎসা আর সুস্থতা এক বিষয় নয়; খালেদা জিয়া ‘কোথায়’ চিকিৎসা করাবেন এটা মূখ্য করে ফেলেছে  দলটি।    অতীতের দিকে গেলে আমরা দেখবো, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ১৯৭১ থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, দিল্লি আর ইসলামাবাদের চরিত্র। পাকিস্তান কী জিনিস আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাই। অথচ পাকিস্তানের ‘অস্থি’ পছন্দ বিএনপির। ১৯৯১ সালে প্রকাশ্যে বিএনপির ভারতবিরোধী অবস্থান বাংলাদেশের রাজনীতিকে ভীষণভাবে কলুষিত করে। এটা এখন আর গোপনীয় ধারণা নয় যে, ইসলামাবাদের সহানুভূতি রয়েছে বিএনপির দিকে। তারা চায় বিএনপি ক্ষমতায় বসুক। কিন্তু চাইলেই কী হয়? চাইলেই কী ষড়যন্ত্র করা যায়?

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ঔপন্যাসিক/সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত