প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

এরদোয়ানের জয়-পরাজয় আমাদের বাহুল্য

কাকন রেজা

এক.

তুরস্কে এরদোয়ান বা এরদোগান পুনর্বার নির্বাচিত হয়েছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের লোকজন আনন্দ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। হচ্ছে বিতর্কও। আমার নিজের এ নিয়ে আনন্দ বা ক্ষোভ কোনটাই নেই। তবে বিষাদ আছে। কেন আছে এমন প্রশ্নের জবাবে বলবো, তুলনায়।

তুরস্কের মানুষের লিভিং স্ট্যান্ডার্ড আমাদের চেয়ে ভালো। তুরস্কের অর্থনীতি আমাদের চেয়ে পোক্ত। ব্যাংকে ২১ হাজার কোটির মতন মূলধন সমস্যা তাদের নেই। তুরস্ক সংস্কৃতিগত দিক থেকেও এগিয়ে, সিনেমা স্ট্যান্ডার্ডের ধারে কাছেও নেই আমরা। শক্তি-সামর্থ্য কোনটাতেই নেই। তুরস্কে একজন সাধারণ মানুষ সকালে ঘর বেরোলে রাতে ফিরবে কী-না এমন চিন্তা হয় না। তুরস্কের রাজধানীতে যানজট, পরিবেশ দূষণ, পানিবদ্ধতা নেই।

যারা আনন্দ ও ক্ষোভের রাজনৈতিক রসায়ন নিয়ে ভাবছেন, তাদের সবচেয়ে আগে ভাবতে হবে বেঁচে থাকার জন্য রাজনীতি না রাজনীতির জন্য বেঁচে থাকা। যদি বেঁচে থাকার জন্য রাজনীতি হয়, তবে উপরের স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে ভাবতে পারেন। আমরা কেনো ওই স্ট্যান্ডার্ডে পৌঁছাতে পারছি না, তা নিয়ে ভাবতে পারেন। আর যদি রাজনীতির জন্য বেঁচে থাকা এমনটা ভেবে থাকেন, তবে আপনাকে নিয়ে আর ভাবনার কিছু নেই। আপনি ‘গনকেইস’।

 

দুই.

ঈদের পরে এক সপ্তাহে সড়ক দুর্ঘটনায় কতজন মারা গেছেন, তার হিসাব কি কেউ রেখেছেন? রাখেননি। অর্থাৎ সড়কে মৃত্যুর বিষয়টি আমাদের কাছে স্বাভাবিক দাঁড়িয়েছে। আমরা ভেবেই নিয়েছি আমাদের সড়কে দুর্ঘটনা ঘটবে এবং মানুষ মারা যাবে। গুলিতে, ছুরিতে, চাপাতিতে, ধর্ষণে মানুষ মরছে, আমরা ধরেই নিয়েছি এভাবে মানুষ মরবে। যারা এমন ধরে ভেবে থাকেন তারাই সম্ভবত এরদোয়ানকে নিয়ে চিন্তা করেন। কেউ ভাবেন ইসলামিস্ট এরদোয়ান ক্ষমতায় থাকলে সেক্যুলারিজমের বারোটা বাজবে, কেউ ভাবেন তিনি থাকলে ইসলাম রক্ষা পাবে।

বছরে বারো হাজার মানুষ সড়কে মারা যায়, আহত হয় হয় পয়ত্রিশ হাজার এবং তা আমাদের দেশে। এটা বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব। অন্য হিসাবে আরো বেশি। অবশ্য বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে এই মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজারের মতন। হিসাবের জটিলতা থাক। আমাদের সড়কগুলো যে মৃত্যুফাঁদ, খালি চোখে দেখা এই সত্যকে বোঝানোর জন্য কোনো উপমা-উদাহরণের আদৌ প্রয়োজন আছে কি? নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর প্রধান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় যত মানুষ মারা যায়, পৃথিবীর কোন দেশে যুদ্ধেও এত মানুষ মারা যায় না।’

‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’ এমন কথা যে দেশে কবিতা প্রবন্ধে হরহামেশাই লিখতে হয় সেখানে ‘এরদোয়ানে’র জয়-পরাজয়ে কী-বা আসে যায়।

 

তিন.

সেদিন খবরে পড়লাম, মধুপরের গজারি বন এক যুবতির গলিত লাশ উদ্ধার হয়েছে। ওই দিনই অন্তত আরো পাঁচটা লাশ উদ্ধারের খবর রয়েছে গণমাধ্যমে। এমন খবর নিত্যদিনের। আর নিত্যদিনের এসব লাশের অনেকগুলোই অসনাক্ত যায়। মধুপুরের সেই যুবতির পঁচা গলা লাশটিও সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তেমনি আমাদের দেশেও যারা এরদোয়ান বিষয়ে মাথা ঘামান তাদের পক্ষে আসলে নিজের সমস্যা সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, হয় না। ফলে সমস্যা জমে পুরানো হতে হতে ওই যুবতির লাশের মতন পঁচে গলে যায়। দুর্গন্ধে কাছে যাওয়া সম্ভব নয়, এমনি অবস্থা। হতে পারে সে কারণেই এরদোয়ান বিশেষজ্ঞদের নিজ সমস্যার কাছে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না! রুমালে নাক চেপে তাই অন্যের সমস্যা নিয়ে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে!

ফুটনোট : বাংলা প্রবাদ-প্রবচনগুলো আমরা প্রায় সবই ভুলে গুলে খেয়েছি। এরমধ্যে একটা ছিল, ‘আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও’, এটাও আমাদের বিস্মৃতির খাবারে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট/সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত