প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নৈশ প্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় এএসআই বদলি!

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল: উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরসহ চারটি সরকারী অফিসে চুরির ঘটনায় থানার ওসি’র নির্দেশে এক নৈশ প্রহরীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার অপরাধে বরিশালের গৌরনদী থানার এএসআই আমিনুল ইসলামকে থানা থেকে আরআরএফ ক্যাম্পে বদলি করা হয়েছে। এনিয়ে এখনও ওই নৈশ প্রহরীর প্রভাবশালী ভাইদের হুমকির মুখে রয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন কর্মচারী। তাদের মাঝেও বদলির আতংক বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার সকালে এএসআই আমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নৈশ প্রহরী একেএম শাহীনের এক ভাই রাষ্ট্রপতি ও অপর ভাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চাকরি করার সুবাদে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাকে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ চাকরিচ্যুতর হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর তিনি গৌরনদী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে চাইলে ওসি জিডি গ্রহণ করেননি। নিরূপায় হয়ে ওই মামলার দায়িত্বভার থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি (আমিনুল) গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। এরপরেও তিনি রেহাই পাননি। নৈশ প্রহরী শাহীনের ভাইদের প্রভাবের কারণে গত ১৯ জুন তাকে (এএসআই আমিনুল ইসলাম) গৌরনদী মডেল থানা থেকে বরিশাল আরআরএফ ক্যাম্পে বদলি করা হয়।

অপরদিকে ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পরেও পুলিশ চুরির রহস্য উদঘাটন করতে পারেননি। এনিয়ে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চুরির ঘটনার পর রহস্যজনক কারণে কর্তৃপক্ষ নৈশ প্রহরীদের কোন কারণ দর্শনোর নোটিশও প্রদান করেননি। ফলে ফের চুরির আতঙ্কে অধিকাংশ অফিসের কর্মকর্তারা এবার ঈদ-উল ফিতরের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেননি।

জানা গেছে, সংঘবদ্ধ একদল চোর গত ৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে উপজেলা পরিষদ ভবনের দোতলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারীর কক্ষ, উপজেলা এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলীর কার্যালয় ও এলজিইডি অফিসের হিসাব রক্ষকের কক্ষ, পিআইও অফিস, ওই ভবনের নিচতলায় হিসাব রক্ষন অফিসের অডিটরদের কক্ষের দরজার তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। চোরেরা চারটি অফিসের পাঁচটি কক্ষের স্টীলের আলমিরা ও টেবিলের ড্রয়ারের তালা ভেঙ্গে মূল্যাবান কাগজপত্র তছনছ করে নগদ অর্থ চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইউএনও অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী মজিদ খান বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে গত ৭ এপ্রিল গৌরনদী মডেল থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন।

ওইদিন (৭ এপ্রিল) দুপুরে গৌরনদী মডেল থানার ওসি’র নির্দেশে এএসআই আমিনুল ইসলাম এলজিইডি অফিসের নৈশ প্রহরী হাসানাত হাওলাদার, কৃষি অফিসের মিজানুর রহমান ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নৈশ প্রহরী একেএম শাহীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে আনেন।

পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিন ঘন্টা পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এঘটনার পর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নৈশ প্রহরী একেএম শাহীনের পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হন। খবর নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার দিনরাতে ওই তিনজন নৈশ প্রহরীর কেউ ডিউটি পালন করেননি।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার একইভাবে চুরি সংঘঠিত হয়েছে। একটি চুরির ঘটনারও রহস্য উদঘাটন করতে পারেননি পুলিশ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত