প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

গাজীপুরে ভোট উৎসব আজ : হাড্ডাহাড্ডি লড়াই!

গাজীপুর প্রতিনিধি: নানা উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ছাপিয়ে গাজীপুর এখন উৎসবমুখর। অপেক্ষার প্রহর শেষে এই সিটি করপোরেশন (গাসিক) নির্বাচনে আজ নৌকা ও ধানের শীষের ভোটযুদ্ধ। দীর্ঘ প্রচারণা শেষে জনগণের রায়ের অপেক্ষায় প্রার্থীরা। যদিও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয়ে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাসান সরকার। তবে যেকোনো ধরনের অনিয়মের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। তার প্রত্যাশা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট নেয়া শেষ হবে। প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটারদের মধ্যেও এখন উৎসবের আমেজ। আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন নগর পিতা বেছে নিতে উন্মুখ গাজীপুরবাসী। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়া চলবে। নির্বাচন উপলক্ষে গাজীপুরে আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই নির্বাচনে ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৭ জন ভোটার আজ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৫ জন পুরুষ এবং ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন নারী ভোটার রয়েছেন। ভোটাররা একজন মেয়র নির্বাচিত করার পাশাপাশি ৫৬টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলরদের নির্বাচিত করবেন। এই সিটি করপোরেশনে ৫৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে মাযহারুল ইসলাম দীপু বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৮৪ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।

নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে গাজীপুরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কাউকে প্রভাব বিস্তার ও ভোটকেন্দ্র দখলের কোনো সুযোগ দেয়া হবে না বলে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার, এপিবিএনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১২ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও র‌্যাবের বোম ডিসপোজেবল টিম, ডগস্কোয়ার্ড ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা অন্যকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হবে।

গাজীপুরের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মণ্ডল গতকাল সোমবার জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে তিনস্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। ৫৭টি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটি পরিস্থিতি মনিটরিং করবে। সব কেন্দ্রের জন্য নির্বাচনসামগ্রী বিতরণ এবং তা পুলিশ প্রহরায় প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সবার কাছেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমি আশা করছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। কোথাও কোনো শঙ্কা নেই। জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চাই। কোনো ভোটকেন্দ্রে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলে ৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাব সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে। ৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩টি ওয়ার্ডের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি করে মোবাইল টিম ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের আরো ১১টি টিম সক্রিয় থাকবে। ৬ ভাগে বিভক্ত হয়ে র‌্যাবের ৬০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে মোবাইল কোর্টগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেবে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেছেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে। ভোটারদের ভয়ভীতির কোনো কারণ নেই। কোনো আশঙ্কা এখনো আমরা দেখছি না। সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ২২ জন ও বিশেষ কেন্দ্রগুলোতে ২৪ জন করে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি আনসার ও আমর্ড পুলিশ থাকবে। স্টাইকিং ফোর্সের বিপুল সংখ্যক সদস্য জরুরি ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। রাস্তায় টহল বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি নিকটবর্তী দুটি ভোটকেন্দ্রের জন্য র‌্যাব ও বিজিবি মোবাইল টিম অবস্থান করবে। জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ম্যাজিস্ট্রেটসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে অবস্থান করে সবকিছু মনিটরিং করবেন। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।

এদিকে নির্বাচনের শেষ প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল সোমবার সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, অমুছনীয় কালি, ভোট দেয়ার সিল ও কলমসহ নির্বাচনে ব্যবহৃত সব সামগ্রী পিজাইডিং অফিসারদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। নগরীর বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে নির্বাচনসামগ্রী বিতরণের পর তা পুলিশ প্রহরায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গতকাল দুপুরের পর থেকে নগরীর ৪২৫টি ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। গত রবিবার থেকে নগরীর প্রতিটি রাস্তায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকার আঞ্চলিক সড়কে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গাড়ি ছাড়া অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। একারণে গতকাল সকাল থেকে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে তেমন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।

গত রবিবার মধ্যরাতে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়ে যাওয়ায় গাজীপুর এখন একেবারেই শান্ত। গতকাল কোথাও কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা দেখা যায়নি। দুপুর পর্যন্ত প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করেন। তারা দুজনই জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম আজ সকালে কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এবং বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার টঙ্গি আউসপাড়ার বশির উদ্দিন উদয়ন একাডেমি কেন্দ্রে ভোট দেবেন বলে জানা গেছে।

নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আশাবাদী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ভোটাররা আমাকে তাদের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন। তারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবেন।

অন্যদিকে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। গাজীপুরের জনগণ ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ থাকে এবং সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, ভয়ভীতি না থাকলে ভোটাররা আমাকেই গাজীপুরের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবে। সূত্র: ভোরের কাগজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত