প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এসএমই ঋণে সুদ ২২ শতাংশ

ডেস্ক রিপোর্ট: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার এখন ২২ শতাংশ। অথচ দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প খাতকে চাঙ্গা করতে এখন এই খাতকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই খাতে ঋণের সুদের হার বেশি হাওয়ায় এর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই খাতে ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের গড় সুদহার ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ হলেও এসএমই খাতে সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ সুদ আদায় করা হচ্ছে। চড়া সুদের কারণে এই খাতের উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। ফলে এই খাতের অনেক শিল্প সমস্যার মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত মার্চে ব্যাংকগুলো গড়ে ৫.৪৩ শতাংশ সুদে আমানত নিয়েছে। ঋণের বিপরীতে সুদ আদায় করছে গড়ে ৯.৮৪ শতাংশ। এই গড় হিসাবের মধ্যে এসএমই ঋণের সুদ হার আছে কিনা, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই ব্যাংকগুলোর কাছে।

এদিকে মার্চে ব্যাংকগুলোর ঘোষিত সুদহার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসএমই ঋণের বিপরীতে সর্বনিম্ন ১৯ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ সুদ আদায় করছে ব্র্যাক ব্যাংক। ভোক্তা ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড বাদে অন্য ঋণগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে ব্যাংকটি। এসএমই ঋণের সুদহার অনেক বেশি হওয়ায় ব্যাংকটির আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান স্প্রেড নির্ধারিত সীমার বাইরে রয়েছে। নির্ধারিত সীমা ৪ শতাংশ হলেও ব্র্যাক ব্যাংকের স্প্রেড ৭.৪৩ শতাংশ। স্প্রেড বেশি থাকায় হিসেবে এসএমই ঋণ বেশি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছে ব্যাংকটি।

ব্যাংকটির এমডি সেলিম আরএফ হোসেন বলেন, আমাদের এসএমই ঋণ অনেক বেশি। প্রত্যন্ত এলাকায় এসব ঋণ বিতরণ করা হয়। এতে ঋণের বিপরীতে ব্যয় অনেক বেড়ে যায় এবং সে কারণে আমাদের স্প্রেড বেশি।

এ ছাড়া এসএমই ঋণের বিপরীতে ইউনিয়ন ব্যাংক সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ, এনআরবি গ্লোবাল ১৬ শতাংশ, যমুনা সাড়ে ১৫ শতাংশ সুদ আদায় করছে। এর বাইরে বেশিরভাগ ব্যাংক এসএমইঋণের বিপরীতে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ হারে সুদ আদায় করছে।

এসএমইতে দেওয়া ঋণের সুদহারের এই হিসাব ব্যাংকের নিজস্ব। গ্রাহক পর্যায়ে প্রকৃত সুদহার আরও বেশি। এর সঙ্গে ব্যাংকের সার্ভিস চার্জসহ বিভিন্ন মাসুল যোগ করে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ করা হয়। ফলে গ্রাহককে আরও অনেক বেশি সুদ দিতে হয়। তবে এই ঋণের বিপরীতে নানা ধরনের বাড়তি ফি আরোপিত রয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকি ফি ১ থেকে ০.৫০ শতাংশ। ঋণ প্রসেসিং ফি ১ থেকে ০.৫০ শতাংশ। এসব ফি মিলে ঋণের খরচ আরও বেড়ে যায়।

বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কারণেও এসএমইতে ঋণ বেশি দিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলো। যেমন অন্যান্য খাতে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে এর বিপরীতে এক থেকে পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করতে হয়। অথচ এসএমই খাতকে উৎসাহিত করতে প্রভিশন সংরক্ষণের হার নির্ধারণ করা হয়েছে দশমিক ২৫ শতাংশ। এ ছাড়া অন্য খাতে তিন, ছয় ও নয় মাস মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের বিপরীতে বিভিন্ন হারে প্রভিশন রাখতে হলেও এসএমইতে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো তিন মাস করে বেশি সময় পায়। এত সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরও এসএমই ঋণের সুদহার বেশি থাকার জন্য পরিচালনগত ব্যয় বেশিকে দায়ী করেন ব্যাংকাররা।

এদিকে এসএমই ঋণের সুদহার কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ১২ জুন জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, ভোক্তা ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড ঋণ ছাড়া বাকি সব ঋণ এবং আমানতের সুদের হারের মধ্যে ব্যবধান ৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। অন্যান্য ঋণের সঙ্গে এসএমই খাতের ঋণের সুদের হার ও হিসাবায়ন করে ঋণ ও আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান ৪ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।

এতদিন কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্যান্য খাতে ঋণ এবং আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশনা ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ঋণে সুদের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে গত ৩০ মে এই হার কমিয়ে স্প্রেড ৪ শতাংশ নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সূত্র: দৈনিক আমাদেরসময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত