প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় ট্রান্সফর্মার!

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে একটি বাড়ির বারান্দা থেকে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফর্মার। আবাসিক ভবনের সঙ্গে ট্রান্সফর্মারটি এভাবেই বসানো হয়েছে। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে ওই ভবনে বসবাসকারী পাঁচ পরিবার।

৮৯/৭ উত্তর যাত্রাবাড়ী ধলপুরের ওই ভবনটিতে প্রবেশ করতে হলে কুর্নিশ করতে হবে ট্রান্সফর্মারটিকে। শুধু তাই নয়, দোতলার বারান্দার এত কাছে এ ট্রান্সফর্মারটি যে, বারান্দা থেকে হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়।

ভবনটির মালিক, মালিকের স্বজন এবং ভাড়াটিয়াসহ পাঁচটি পরিবার বসবাস করেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন ভবনে থাকা শিশুরা। ভবনটিতে পাঁচ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে মোট ছয়জন শিশু-কিশোর বসবাস করে। খবর যুগান্তর’র।

ভবনটির এক বাসিন্দা ফাইজা তাসনিম বলেন, বাড়িতে শিশুরা আছে। আমরা না হয় বুঝে চললাম। ওরা কী করবে? এখন কী ওদের বারান্দায় যাওয়া বন্ধ করব? নাকি ঘর থেকে আসা-যাওয়া বন্ধ করব আমরা? এমনিতেই ঢাকা শহরে একটু ঘুরে বেড়ানোর জন্য ফাঁকা জায়গা নেই। এসব শিশুদের জন্য তো বারান্দাই সব।

বাড়ির মালিক আলমগীর খান বলেন, চলতি জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে এভাবে ট্রান্সফর্মারটি বসানো হয়। আগে এটির বসানোর জায়গা ছিল আরেক জায়গায়।

তারপর দুই দফা স্থান পরিবর্তনের পর আমার বাসার সামনে এভাবে বসানো হয়। আমি বারবার আপত্তি জানালেও আমার কোনো কথাই শোনেনি বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই ভবনের বাসিন্দাদের জীবন ও চলাচলের মতো মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হচ্ছে বলে মত দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন।

ভুক্তভোগী ভবন বাসিন্দাদের স্থানীয় ইউএনও অথবা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি। রাজধানীর এই এলাকার বিদ্যুতের দেখভালের দায়িত্ব আছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)।

ট্রান্সফর্মারটির বিষয়ে জানতে ওই এলাকার প্রকল্প অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়েজ করিমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বদরুল আলম বলেন, ট্রান্সফর্মার বসানো তো সরকারি কাজ। আমাদের এটা করতেই হবে। আমরা তো সড়কের ওপর তা বসাতে পারব না। আমাদের বসাতে হবে সড়কের পর এবং ভবনের আগে। রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী, সড়কের পাশে থাকা ভবন নির্মাণের সময় পাঁচ ফুট জায়গা ছাড়তে হয়।

ওই ভবনটির মালিক হয়তো সেই জায়গা ছাড়েনি। এ কারণেই ট্রান্সফর্মারটি হয়তো ভবনের খুব কাছে স্থাপিত হয়েছে। আর ভবন মালিক আলমগীর খানকে নতুন করে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন ওই এলাকার দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী (এনওসিএস, মানিকনগর) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ভবনের মালিক নতুন একটি আবেদন করুক আমাদের কাছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে তার আবেদনের সত্যতা পেলে ট্রান্সফর্মারটি সরিয়ে দেব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ