প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারের কাছে সরকারি সংস্থার এত বকেয়া!

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১৬টি খাতের ১১৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাওনা অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। যা বাংলাদেশের উন্নয়ন বাজেটের চেয়ে বেশি। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলো এ টাকা সরকারকে দিচ্ছে না। এর মধ্যে সরকারের গ্যারান্টিতে নেওয়া ঋণ, সরকারের কাছ থেকে ধার করা অর্থ, ঋণের সুদ, সার্ভিস চার্জের অর্থ রয়েছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮’ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রলালয় এ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। খবর দৈনিক আমাদের সময়’র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অন্তর্গত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে সরকারের বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৯০ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। তাদের বিভিন্ন ঋণের বিপরীতে যেসব গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সেবার অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। দেশে বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাদের প্রচুর অর্থ ঋণ হিসেবে জোগান দিতে হয়েছে। এর পরই রয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের নাম। তাদের কাছে সরকারের বকেয়া প্রায় ২৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা।

বিভাগভিত্তিক সরকারের কাছে বকেয়ার পরিমাণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে। এই বিভাগের ৯টি সংস্থার কাছে সরকারের বকেয়া রয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। এর পর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ৭টি সংস্থার কাছে সরকারের বকেয়ার পরিমাণ ৩৭ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগের ৫৫টি সংস্থার কাছে সরকারের বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৪টি সংস্থার কাছে সরকারের বকেয়ার পরিমাণ ৯ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ছয় সংস্থার কাছে বকেয়া প্রায় ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ৫টি সংস্থার কাছে বকেয়া প্রায় ১ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের কাছে প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাত্র তিনটি সংস্থার কাছে বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের ১৫টি সংস্থার কাছে ৬ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের কাছে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৫৯ কোটি টাকা। মুক্তিযোদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে বকেয়া প্রায় ৯৯ কোটি টাকা। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের কাছে ৫৭ কোটি টাকা। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কাছে বকেয়ার পরিমাণ ৩৪০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৩টি সংস্থার কাছে বকেয়ার পরিমাণ ১ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানির কাছে বকেয়া ৫৯ লাখ টাকা। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বকেয়া রয়েছে ২৭ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সংস্থাগুলোর বকেয়ার কারণ নিয়ে জবাবদিহিতা করতে হয় না বলে তারা সরকারের অর্থ বাকি রেখে দিচ্ছে। পরিশোধ করছে না। তাদের এ জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। কেননা এই বকেয়ার পরিমাণ দিয়ে আলাদাভাবে এক অর্থবছরের জন্য প্রায় একটি অনুন্নয়ন বাজেট দেওয়া যাবে। এ ছাড়া সরকারের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে সংস্থাগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা কিংবা লাভ-লোকসানে রয়েছে কিনা সেগুলোয় নজর দিতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত