প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘এমপিওভুক্তির আন্দোলনে ১২ শিক্ষক অসুস্থ’

ডেস্ক রিপোর্ট : ‘টানা ১৫ দিন অবস্থান কর্মসূচি ছিল। সোমবার থেকে আমরণ অনশন শুরু হয়েছে। দীর্ঘ এ সময়ে প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড বৃষ্টিতে শুকাচ্ছি আর ভিজছি। মনে হচ্ছে রাজধানীতে অধিকার চাইতে আসায় রোদ-বৃষ্টিও আমাদের সঙ্গে প্রহসন করছে। এ জীবন বড় বঞ্চনার!’

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের উল্টোপাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশনে সারাবাংলাকে কথাগুলো বলেন রাজশাহীর শিক্ষক জাহানারা ইয়াসমিন। তখনো বৃষ্টি খুব বেশি নয়। মাথার উপর ছাতা মেলে বসে আছেন। টিপটিপ এ ছন্দময় বরষা নগরবাসীর কাছে যখন স্বস্তির তখন জাহানারাসহ অন্যদের কাছে তা আতঙ্কের নাম। বৃষ্টি বেশি হলে কোথায় গিয়ে দাড়াবেন। রাষ্ট্র যখন তাদের দূরদূর করে তাড়িয়ে দেয় তখন এই ইট-পাথরের শহরে কোথায় একটু ঠাঁই হবে তাদের। এ শঙ্কায় রোদকে সহ্য হলেও বৃষ্টিকে মোটেই সহ্য হয়না তাদের।

গত ১০ জুন থেকে চলা টানা আন্দোলনের পরও সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না পেয়ে আমরণ অনশন মতো কঠিন কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন তারা। ‘এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশন’ লেখা লাল ফিতা মাথায় বেধে প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার জানান, টানা ১৫ দিন ধরে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এখনও আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই শনিবার প্রতীকী আমরণ অনশন করছি। রোববার অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিদিন এ আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। তাদের উপস্থিতিতে আমাদের ন্যায্য দাবির এ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠেছে। আমরা ক্ষুধার জ্বালায় রাজপথে নেমেছি। দাবি আদায় ছাড়া আমরা ক্লাসে ফিরে যাবো না।
গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, রাজপথে খোলা আকাশের নিচে রোদের মধ্যে ধুলাবালি, গাড়ির ধোঁয়া আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে টানা ১৫ দিন আন্দোলন করে ১২ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন সুস্থ হয়ে ফিরলেও বাকি সাতজন এখনও চিকিৎসারত রয়েছেন। এর মধ্যেই আমাদের আমরণ পালিত হচ্ছে। এতে যদি কোনো অঘটন ঘটে তবে তার দায়ভার সরকারকে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন এ শিক্ষক নেতা।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের যোগদানের বয়সসীমা ৩৫ বছর করা হয়েছে। আমরা ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। এখন যদি ৩৫ বছর নির্ণয় করা হয় তবে আমাদের কি পরিণতি হবে? আমরা কোনো নীতিমালা বা কমিটি মানি না। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করা না হলে প্রাণ গেলেও আমরা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাব।
এদিকে অনশনের প্রথম দিনে সোমবার সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার যোগাযোগ করা হয়নি জানিয়ে এক শিক্ষক নেতা বলেন, আমরা আমাদের ন্যায্য দাবিতে রাজপথে আছি। বছরের পর বছর খেয়ে না খেয়ে কষ্ট করছি। এখন শেষ বারের মতো আমরা কষ্ট করছি। হয় মরণ, না হয় এমপিও। এটা মেনে নিয়েই আমরা এখানে থাকছি। সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত