প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে চায় বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট : আগামী নির্বাচন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে রাখতে চায় বিএনপি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার স্বার্থে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকে ‘নৈতিক অবস্থান’ গ্রহণ করতে বিশেষভাবে আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে দলটিতে। এ কারণে প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন দল ও থিংকট্যাঙ্কগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বিএনপি।

সম্প্রতি তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের ভারত সফরের মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে সফলতাও আসতে শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েকজন নেতা।

সোমবার (২৫ জুন) বিকালে বিএনপির আন্তর্জাতিক উইংয়ের নিয়মিত বৈঠক হয়। এ বৈঠকেও দেশে-বিদেশে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচন ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে আরও বেশি করে অবগত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সোমবারের বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, রিয়াজ রহমানসহ অন্তত ১৫ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। বিকাল সোয়া ৫টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত দলীয় চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের বিষয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এটি দলের অভ্যন্তরীণ নিয়মিত বৈঠক। ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘বৈঠকে দলীয় প্রধানের মুক্তি ত্বরান্বিত করতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়; দেশে-বিদেশে যোগাযোগ বাড়ানোসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধে অনুষ্ঠিত করার স্বার্থে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর উদ্যোগ চায় দলটি। এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ ও আওয়ামী লীগ সরকারকে চাপ দিতে রাষ্ট্রগুলোর কাছে সহযোগিতা চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে জুনের প্রথম সপ্তাহে ভারত ঘুরে এসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর। আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে আরও একটি প্রতিনিধিদল ভারতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ের দায়িত্বশীলরা জানান, আগামীতে এশিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপ অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশে সফরে যাবেন বিএনপি নেতারা। ঈদের আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্সসহ কয়েকজন।

এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘আমি লিবারেল পার্টি অব অস্ট্রেলিয়ার আমন্ত্রণে তাদের কনভেনশনে অংশ নিতে গিয়েছিলাম। তারা বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, আমি দলের প্রতিনিধি হয়ে গিয়েছিলাম।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, আগামী নির্বাচন নিয়ে বাইরের রাষ্ট্রগুলোর আগ্রহ রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে অনেক দেশের প্রশ্ন ছিল। প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো চায় না, এখানে আর কোনও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হোক। আর এ বিষয়টি নিয়ে আগেভাগেই আমরা বাইরের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কথা বলছি।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, নির্বাচন নিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রথম পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, গত নির্বাচনে ভারতের ভূমিকা। এ কারণে বিএনপিকে আগেভাগে দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের মনোভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কয়েকটি রাষ্ট্রের দূতাবাস।
এ বিষয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যে রাষ্ট্রগুলো ইউনির্ভাসাল হিউম্যান রাইটসের পক্ষে তারা কিন্তু নিরপেক্ষ নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করছে এবং অ্যাভেলিং একটা পরিবেশের দিকে নিয়ে যেতে চেষ্টা করছে। সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে যে, এখানে ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝিটা আছে, তা যেন দূর হয়।’

বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ে কর্মরত নেতারা মনে করছেন, ভারত সফরের মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল সাফল্যের দেখা পেয়েছে। বিশেষ করে যেখানে ভারতীয় গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক কোনও তথ্য প্রচার করেনি, সেখানে বিএনপির নেতাদের সরকারবিরোধী নানা বিষয়ে বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে।

তবে এই সফরে আরও বড় একটি সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। ভারত সফরে অংশ নেওয়া একজন নেতা জানান, বিএনপি নেতাদের ভারত সফরের মধ্য দিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে। সেটি হচ্ছে, নির্বাচন নিয়ে ভারতের অবস্থান আগের মতো প্রকাশ্য হবে না। বিশেষ করে ভারতের থিংক ট্যাঙ্কগুলোর সঙ্গে আলোচনাকালে বিষয়টিকে অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের ঢাকা সফরে আসা এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়, গত নির্বাচনের ভারতের হস্তক্ষেপ অনেকটাই প্রকাশ্য ছিল। আগামীতে ভারতের এই প্রকাশ্য সমর্থনই বন্ধ করতে চাইছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন প্রবীণ সদস্য বলেন, ভারত সফর আগামী মাসগুলোতেও দেখা যেতে পারে। আমরা চাইছি, বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভারত সহযোগিতা দিক। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও জানিয়েছেন, তার দল নির্বাচনে ভারতের সহযোগিতা চায়।
এ প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘কেউ কাউকে দোষারোপ করতে চাইলে আমরা অনেকগুলো কারণেই দোষারোপ করতে পারবো। আমি সেগুলো তুলে ধরতে চাই না। কারণ, এগুলো দু’দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। বহু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো দোষারোপ করে যাওয়ার মতো। সুতরাং, এগুলো পেছনে রেখে আমাদের সামনে এগোতে হবে। সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশের মানুষের জন্য আমাদের সামনে এগোতে হবে এবং তা আমাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত