প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘হাইকোর্টে এজলাস কক্ষে কান্নার রোল’

এস এম নূর মোহাম্মদ : মতের মিল না হওয়ায় সংসারে বিচ্ছেদ। তবে বাবা-মায়ের সংসার জোড়া লাগাতে ১২ বছরের শিশু ধ্রুব ও ৯ বছরের শিশু লুব্ধক অঝোরে কেঁদেছেন হাইকোর্টের এজলাস কক্ষে। আর তাদের কান্না দেখে কেঁদেছেন স্বয়ং বিচারপতি, উপস্থিত শতাধিক আইনজীবী ও সাংবাদিকরা। সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ দৃশ্যের অবতারণা হয়।

জানা যায়, শিশু দুটির মা কামরুন্নাহার মল্লিকা রাজশাহীর মেয়ে, বাবা মেহেদী হাসান মাগুরার এক গ্রামের ছেলে। মল্লিকা ঢাকায় গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে এবং মেহেদী ঢাকা কলেজে পড়েছেন। পড়ালেখা করা অবস্থায় দুজনের পরিচয়। পরিচয় থেকে প্রেম। অতঃপর দুই পরিবারের সম্মতিতে ২০০২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে। এরপর তাদের সুখী দাম্পত্য জীবন শুরু। দুজনের ঘর আলোকিত করে আসে দুটি ফুটফুটে সন্তান। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করে দেওয়ায় হয় দুই ছেলেকে। পড়ালেখা শেষ করে বাবা একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন, মা একটি প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকতা করেন।

একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য ঘটে। এর পরিণতিতে ২০১৭ সালের ১২ মে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তবে কামরুন্নাহার মল্লিকা তার দুই সন্তানকে নিজ হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে গত ২৯ মে আদালত শিশু দুটিকে হাইকোর্টের হাজির করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও শিশু দুটির বাবাকে নির্দেশ দেন। নির্দেশ মোতাবেক গতকাল শিশু দুটিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এছাড়া শিশু দুটির বাবা-মা, মামা, নানি ও ফুফুসহ আত্মীয়-স্বজনরা আদালতে হাজির হন।

সকালে এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। শুনানির এক পর্যায়ে শিশু দুটির বক্তব্য শুনতে চান আদালত। দুই শিশুর মধ্যে বড়জন সালিম সাদমান ধ্রুব আদালতকে বলেন, আমরা আর কিছু চাই না, বাবা-মাকে একত্রে দেখতে চাই। শিশু দুটির বক্তব্য শুনে আদালত ফের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনেন। আদালতের অনুমতি পেয়ে ছেলেদের কাছে এগিয়ে যেতেই মা দুই ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করেন। এ সময় ছেলেরাও দীর্ঘদিন পর মাকে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। বড় ছেলে তখন হাত বাড়িয়ে বাবাকেও ডাকতে থাকে। ছেলে বলতে থাকে, বাবা, তুমি এসো। তুমি আমার কাছে এসো। আম্মুকে সরি বলো।

এ সময় বাবাও এগিয়ে এলে আদালতের ভিতর এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বাবা-মা এবং তাদের সন্তানদের একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নার দৃশ্য দেখে বিচারক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সকলের চোখে পানি চলে আসে। দীর্ঘ এক বছর পর বাবা-মাকে একসঙ্গে পেয়ে ছেলেদের কান্না সকলের বিবেককে নাড়া দেয়।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত শিশু দুটিকে মায়ের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। তবে এই সময়ে পিতা শিশু দুটির দেখাশোনা করার সুযোগ পাবেন বলে জানান। আর আগামী ৪ জুলাই পরবর্তী দিন ঠিক করে শিশু দুটিকে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে বিষয়টি মুলতবি করেন আদালত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত