প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

পৌরসভাগুলোর জন্য নগর পরিকল্পনা বিভাগ দরকার: বিআইপি

শাকিল আহমেদ: পৌর এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চত করতে ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য পৌরসভাসমূহে ‘নগর পরিকল্পনা বিভাগ’ দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি.) সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান।

তিনি বলেন, যুগোপযোগী ও যথার্থ পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি নগর সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের মত একটি জনবহুল দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সবকিছুই পরিকল্পনা মাফিক গড়ে ওঠা আবশ্যক। এজন্য জাতীয় পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সমগ্র দেশকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এনে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নগর পরিকল্পনার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনস্বীকার্য। এছাড়াও জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র অর্জন এবং সকলের স্বপ্নের সোনার বাংলা গোড়া তোলার জন্য আমাদের প্রতিটি নগরের সুষ্ঠু এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিতকরনে নগর পরিকল্পনা ও নগর পরিকল্পনাবিদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

পৌরসভাসমূহের জন্য প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামোতে সহকারী প্রকৌশলী বা অন্যান্য সমপদমর্যাদার (সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদগণ ব্যতীত) কর্মকর্তাগণের পদোন্নতির যে বিধান রাখা হয়েছে, তা হল ৯ম গ্রেডে ৫ বছর চাকুরী করা সাপেক্ষে ৯ম গ্রেড হতে ৬ষ্ঠ গ্রেড এবং ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৫ বছর চাকুরী করা সাপেক্ষে ৬ষ্ঠ গ্রেড হতে ৫ম গ্রেড এবং ৫ম গ্রেডে ৫ বছর চাকুরী করা সাপেক্ষে ৫ম গ্রেড হতে ৪র্থ গ্রেড। তবে শুধুমাত্র সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদগণের (যারা সহকারী প্রকৌশলীর সমগ্রেডধারী) ক্ষেত্রে পদোন্নতির উপরোক্ত বিধানটি অনরূপ না রেখে বৈষম্যপূর্ণ করা হয়েছে।

সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদগণের ক্ষেত্রে পদোন্নতির যে বিধান রাখা হয়েছে তা হল ৯ম গ্রেডে ৫ বছর চাকুরী করা সাপেক্ষে ৯ম গ্রেড হতে ৭ম গ্রেড এবং ৭ম গ্রেডে ৫ বছর চাকুরী করা সাপেক্ষে ৭ম গ্রেড হতে ৬ষ্ঠ গ্রেড এবং ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৫ বছর চাকুরী করা সাপেক্ষে ৬ষ্ঠ গ্রেড হতে ৫ম গ্রেড, যা সহকারী প্রকৌশলী বা অন্যান্য সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাগণের পদোন্নতির বিধানের তুলনায় অত্যন্ত বৈষম্যপূর্ণ। এ অবস্থায় একই কর্মপরিবেশে দুই বা ততোধিক পেশাজীবীর মধ্যে বৈষম্য, বঞ্চনা,বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে বলে জানান বিআইপি।

২০১২ সালে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর আলোকে পৌরসভার বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো এবং চাকুরী বিধিমালা সংস্কার করার লক্ষ্যে অর্গানোগ্রাম রিফর্ম কমিটি করা হয়। যে কমিটি দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে পৌরসভাসমূহের জন্য নগর পরিকল্পনা বিভাগসহ পাঁচটি বিভাগের প্রস্তাব করে। উক্ত প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের তৎকালীন সচিব জনাব আবু আলম মোঃ শহীদ খান এর সভাপতিত্বে পৌরসভার বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। তখন সচিব নগর পরিকল্পনা একটি আলাদা বিভাগ হবে মর্মে সুনির্দিষ্ট ঘোষনা দেন এবং দেশের পরিকল্পিত উন্নয়নে পরিকল্পনাবিদদের ভূমিকা সম্পর্কে সভার সবাইকে অবহিত করেন।

পৌরসভা সমূহের জন্য প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো ও চাকরি বিধিমালা বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কিন্তু পৌরসভার প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামোতে ‘নগর পরিকল্পনা বিভাগ’ এর স্থলে ‘নগর পরিকল্পনা ইউনিট’ এর প্রস্তাব করা হয়েছে যা স্থানীয় সরকার বিভাগ সচিবের পূর্ব ঘোষণার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ৪ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও অতিরিক্ত সচিবের (প্রশাসন) দৃষ্টি আকর্ষন করে পৌরসভা সমূহের জন্য প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো ও চাকরি বিধিমালায় ‘নগর পরিকল্পনা ইউনিট’ এর স্থলে ‘নগর পরিকল্পনা বিভাগ’ সৃষ্টি প্রসঙ্গে একটি চিঠি লেখেন (বিআইপি)। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স এর পক্ষ থেকে পৌরসভা সমূহের জন্য প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো এবং চাকুরী বিধিমালায় বিদ্যমান তিনটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের অনুরূপ পদোন্নতি পদ্ধতি, বেতন গ্রেড এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সমান ভাবে রেখে নগর পরিকল্পনা ইউনিট এর স্থলে নগর পরিকল্পনা বিভাগ সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং প্রতিটি নগরের সুষ্ঠু এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করনের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত