প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

সিলেট বিভেদ ভুলে কামরানের পক্ষে আ.লীগ

আশরাফ চৌধুরী রাজু, সিলেট: নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য হাফ ডজন নেতা তৎপরতায় থাকলেও গুঞ্জনকে সত্যি করে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানই পেয়েছেন দলীয় মনোনয়ন।

দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে নেতাদের মধ্যে যে বিভেদের দেয়াল দেখা দিয়েছিল, কামরানকে প্রার্থী ঘোষণার পর সেই বিভেদও আর থাকছে না। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে কামরানের জন্য তারা সবাই একাট্টা। কামরানও সবার সহযোগিতায় নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।সিলেটে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী কে হচ্ছেন, এ নিয়ে গত বেশ কিছুদিন ধরে সিলেটে নানামুখী আলোচনা চলছিল। ক্ষমতাসীন দলটি থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের দৌড়ে ছিলেন ছয় নেতা।

সিসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ মেয়র পদে এক নেতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে বর্ধিত সভা ডেকেছিল। কিন্তু মনোনয়নপ্রত্যাশী কোন নেতা ছাড় দিতে নারাজ হওয়ায় বিষয়টি ছেড়ে দেয়া হয় কেন্দ্রের কাছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে সিসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক নেতাদের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর ফয়জুল আনোয়ার, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও টানা তিনবারের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ এবং সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম।এদিকে, সিলেট সিটি নির্বাচনে বিভেদের কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী ঠিক করতে ব্যর্থ হওয়ায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ৪১ নেতাকে ডেকে পাঠান দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার বিকেলে গণভবনে এসব নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানে শেখ হাসিনা সিসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে কামরানের নাম ঘোষণা করেন।বৈঠক সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা কামরানের পক্ষে একযোগে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে নির্দেশ দেন। দলীয় অনৈক্যের কারণে নির্বাচনে ভরাডুবি হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ারও হুশিয়ারি দেন তিনি। মূলত এরপরই দাবার গুটি উল্টে যেতে থাকে। যেসব নেতা অপ্রকাশ্যে কামরানের বিরোধীতা করছিলেন, তারাও কামরানের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেন।

প্রার্থী কে তা নয়, বরঞ্চ নৌকা প্রতীককেই বিজয়ী করতে কাজ করতে হবে-এমনটাই বলছেন সিলেট আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতারা।এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে, এটাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।

এ লক্ষ্যে দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। ছোটখাটো যেসব মতপার্থক্য আছে, সেগুলোও থাকবে না।সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘জননেত্রীর মনোনীত প্রার্থী কামরানকে বিজয়ী করতে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী মাঠে কাজ শুরু করেছেন।

এখানে কোন বিভেদ নেই, দ্বন্দ্ব নেই।আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘দলের সবার স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা পাচ্ছি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাই পাশে আছেন। সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত