প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘হরিণ মেরে জেল খেটেছেন সালমান আর মানুষ মেরে রক্ষা পেলেন শাবাব’

রবিন আাকরাম : এমপি একরামুল হক চৌধুরীর ছেলে শাবাব চৌধুরীর গাড়ি চাপা পড়ে সেলিম ব্যপারি হত্যার ঘটনায় সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক গোলাম মোর্তূজা ডেইলি স্টারে লিখেছেন, ভারতে হরিণ হত্যার অপরাধে সালমান খানের জেল খাটতে হয়। হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য যে সালমান খানকে কেন্দ্র করে, ভারতের প্রায় সকল প্রভাবশালীদের সঙ্গে যার হৃদ্যতা, সেই বলিউড তারকা একটি হরিণ মেরে রক্ষা পান নি। আর মানুষ মেরে ২০ লাখ টাকা বা একটি ফ্ল্যাটের বিনিময়ে রক্ষা পাওয়া যায় বাংলাদেশে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে আইনে চলে, সেই আইনের ব্যাখ্যা। এই আইন তৈরি করেছেন সংসদ সদস্যরা। নিজেদের তৈরি করা আইনানুযায়ী যা করা যায় না, তা করছেন সংসদ সদস্য একরামুল হক চৌধুরী।

এদিকে এমপি পুত্রের গাড়ির চাপায় সেলিম ব্যাপারী হত্যার ঘটনায় ২০ লাখ টাকার সমোঝতার খবর পাওয়া গেছে। সেলিমের পরিবার জানিয়েছে- এমপির পক্ষ থেকে এককালীন ২০ লাখ টাকা ও মাসে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার আশ্বাসে মামলা প্রত্যাহারে রাজি হয়েছেন তারা। পাঁচ দিন আগের ওই দুর্ঘটনায় নিহত সেলিম ব্যাপারীর (৫৫) বোনের স্বামী আবদুল আলিম সাংবাদিকদের বলেন, ‌‘সেলিমের স্ত্রী চায়না ব্যাপারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আর প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এমপি সাহেব।’

হত্যার দায়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে আপস করা যাবে কিনা এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের ফৌজদারি আইনানুযায়ী, হত্যা মামলা নিজেরা নিজেরা আপস করে ফেলা যায় না। হত্যার শিকার পরিবারের কোনো সদস্য ইচ্ছে করলেই হত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্তদের সঙ্গে আপস করে ফেলতে পারেন না। রাষ্ট্রের আইন কোনো ব্যক্তিকে সেই ক্ষমতা দেয়নি। হত্যার শিকার হওয়া পরিবার মামলা চালাবেন কি না সেটাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ আইনে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, কোন অপরাধ আপসযোগ্য আর কোনটি নয়। আপস করা যায় না এমন অপরাধের মামলা চালানোর দায়িত্ব সরকারের। মনে রাখতে হবে, ফৌজদারি মামলা ব্যক্তি দায়ের করলেও তা লেখা হয় এভাবে- “রাষ্ট্র বনাম অমুক”। রাষ্ট্রের পক্ষে অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্যেই জনগণের অর্থ দিয়ে পিপি নিয়োগ দিয়ে রাখা হয়। হত্যা মামলা আপস করার কোনো সুযোগ নেই। আইন এই আপস অনুমোদন করে না।’

সংবিধানে ন্যায়বিচার পাওয়া নাগরিকের অধিকার, তা লেখা আছে। হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের তদন্ত- বিচার- শাস্তির বিধান, কাগজে লেখা আছে। সেখান থেকে যারা কারণে- অকারণে তা উদ্ধৃত করেন, তাদের নীরব সম্মতিতে বা সক্রিয় অংশগ্রহণে হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের মামলা অর্থের বিনিময়ে, ফ্ল্যাটের বিনিময়ে আপস হওয়ার নজির তৈরি হচ্ছে সভ্য বাংলাদেশে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ