প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এবারের বাজেট উন্নয়ন সহায়ক নয়: সুজন

মো.ইউসুফ আলী বাচ্চু:  বাজেট প্রতিটি সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়শীল দেশে বাজেটের উপর অনেখানি নির্ভরশীল। প্রত্যাশা ছিল সাধারণ জনগনের জন্য বাজেট আসবে, জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের জন্য এ বাজেট হয়নি।

সোমবার দুপুরে জতীয় প্রেস ক্লাবে প্রস্তাবিত বাজেট-২০১৮-১৯ নাগরিক ভাবনা গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড, সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বক্তারা বলেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও অন্যান্য কর্মসংস্থানের জন্য বাজেটে কিছুই বলা নেই। কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য কোন সুবিধার কথা উল্লেখ নাই এবং বিনিয়ো বৃদ্দির ব্যপারে নিদৃস্ট কিছু বলা নাই। গত বারের মত শিক্ষা খাতে এবার ১২ ভাগ বরাদ্দ রয়েছে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি।

যেটা করা হয়েছে তা শিক্ষকদের বেতন ভাতাতেই চলে যাবে কিন্তু শিক্ষার গুনগত মান শ্রেনী কক্ষের মান উন্নয়নের জন্য আলাদা কোন বরাদ্দ নাই। তাই শিক্ষা খাতে আরো বরাদ্দ বৃদ্দি করা উচিত ছিল।

স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের বিষয়টি আরো দু:খজনক। এবারের বাজেটে বরাদ্দ আরো কমেছে। এবার যেটা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা হয়ে গেছে প্রাইভেট সেক্টরের বিষয়।

যোগাযোগ খাত- বর্তমানে যোগাযোগ খাতের অবস্থা ততটা ভাল না। কাজের মান বজায় রাখা এবং সময় মত কাজ শেষ করা কোনটাই হয় না ফলে খরচ বৃদ্দি পায়। দেশে মহাসড়কের অবস্থা আরো শোচনীয় এ ক্ষেত্রে গুনগত মানের ব্যপারে কতৃপক্ষ উদাসীন। আমাদের অভ্যন্তরিন রাস্তাগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। এগুলো সাধারণ মানুষের ভেতরে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

আমাদের দেশে যে মেগা প্রকল্পগুলো হচ্ছে সেগুলোর প্রয়োজন আছে কিন্তু গত বছর সড়কের তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি এবার ও না। মেগাপ্রকল্পের দিকে বেশী গুরুত্বদপয়ার কারনে মাঝারি এবং ছোট প্রকল্প গুলি অবহেলি যাহা সাধারণ জনগনকে বিপদে ফেলে।
মেগা প্রকল্প গুলো ভবিষ্যতে কাজে লাগবে তাইবলে নিত্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধার দিকেও নজর রাখতে হবে।

বাজেটে দেখা যাচ্ছে আয় বেশি করতে হবে। ব্যয় বেশি হলে আয় অবশ্য বেশি করতে হবে। এনবিআরকে সরকার একটা টার্গেট দিয়েছে যে টার্গেটটা গতবারের তুলনায় সংশোধিত টার্গেটের তুলনায় ৯৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ টার্গেট পুরন হবে কঠিন কাজ।
এনবিআরের যে রেকর্ড আছে সেটা ১৮ ভাগ। গতবারের টার্গট তো পুরন হয়নি। এবার টার্গট পুরন করতে হলে ঢাকার বাইরে নজর দিতে হবে কারন ঢাকার বাইরে অনেক মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী আছে।ভ্যাট সংগ্র যাতে সুষ্ঠ হয় এবং সরকারি কোষাগারে যাতে ট্যাক্স জমা হয় সেদিকে নজর রাখতে হব।

ব্যাংকিং খাত থেকে আসবে ২৫ হাজার কোটি টাকা। সরকার যখন ব্যাংকিং সেক্টরে চাপ দেয় তখন বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের ওপর চাপ পড়ে। এমনিতেই ব্যাংকিং খাত চাপে আছে এর পরও সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্চে। আমানত কমে যাচ্ছে।

সরকার যদি বেশি ব্যাংক নির্ভর হয় তখন চাপে পরে ব্যাংকিং সেক্টর। চাহিদা মত অর্থের যোগান দিতে পারবে না তারা। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ব্যাপক প্রভাব পরবে তখন প্রবৃদ্দি ৭.৮ টিকিয়ে রায় দায় হবে। কারন প্রবৃদ্দি ৭.৮ শতাংশ চাইলে বিনিয়োগ দরকার ৩১থেকে ৩২ শতাংশ। বর্তমানে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ আছে২৪ শতাংশ। সরকারি বিনিয়োগ মিলিয়ে হয়েছে ২৯ থেকে ৩০ শতাংশ।

সারে তেরোশ এডিপির প্রজেক্ট আছে নন এডিপির প্রজেক্ট ও আছে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দক্ষতা বৃদ্দি করতে হবে। এডিপির কাজ কাজ সময়মত শেষ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন এনবিআরের সক্ষমতা বেড়েছে। সক্ষমতা বেড়েছে বলতে লেনদেন বেড়েছে কিন্তু প্রসেস প্রক্রিয়া আগের মতোই আছে। তাই এবারের বাজেট কোন চমকের বাজেট নয়।

ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে বাজেটে পরিস্কার কোন কথা নাই। সুশাসন ও জবাবদিহিতর বিষয় কোন চিন্তাও দেখা যায়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত