প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং একটি লাইব্রেরী

মঞ্জুরুল আলম পান্না: উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিজম্ব একটি কার্যালয় উদ্বোধনের খবরটি গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে। খবরটি গুরুত্ব পাওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণও রয়েছে। জন্মের প্রায় সাত দশকের মাথায় নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা লাভ একটি দলের জন্য অন্যরকম এক আবেগ অনুভ‚তির বিষয় বটে। তাছাড়া আওয়ামী লীগের নিজস্ব কার্যালয়টি যে নকশায় করা হয়েছে তাতেও রয়েছে বেশ বৈচিত্র। উপমহাদেশের প্রাচীনতম দল হিসেবে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের চেয়ে এই উপমহাদেশে অনেক সংগ্রাম আর অর্জনের মধ্য দিয়ে টিকে রয়েছে একমাত্র আওয়ামী লীগ। মুসলিম লীগের জন্ম তার আগে হলেও তার সাইনবোর্ডটিই কেবল টিকে রয়েছে। আওয়ামী লীগ তার ঐতিহ্য এবং চেতনা কতখানি টিকিয়ে রাখতে পেরেছে তা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে এবং চলছেও বটে। কিন্তু বেশ দম্ভের সঙ্গে টিকে যে রয়েছে এবং তাকে আধুনিক একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে অভিহিত করতে বেশ গর্ববোধ করেন এর জাতীয় নেতারা। সেদিক থেকে মনে প্রাণে চাইব দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিজস্ব কার্যালয়ে একটি জিনিস অনেকখানি গুরুত্বের সঙ্গে গড়ে উঠুক, তা হলো- একটি মানসম্পন্ন লাইব্রেরী।

অনেক কিছুর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ওই কার্যালয়ে অবশ্য একটি ডিজিটাল লাইব্রেরী স্থাপন করা হয়েছে। এটি দলটির উন্নত চিন্তার বহিঃপ্রকাশ বলা যেতে পারে। ডিজিটাল লাইব্রেরী বলতে এমন এক ধরণের গ্রন্থাগার বোঝায় যেখানে সাহিত্য কর্মসহ অন্যান্য গ্রন্থ বা যেকোনো সংগ্রহই ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হল এই যে, আমরা এখনো ডিজিটাল লাইব্রেরীতে অভ্যস্ত হয়ে উঠিনি অথবা সেখানে কাজ করতে শতকরা ৯৯ ভাগেরই উৎসাহের অভাব লক্ষ্য করা যায়। ডিজিটাল লাইব্রেরীর পাশাপাশি গড়ে উঠুক একটি সাধারণ লাইব্রেরী। যেখানে দেশের হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে সঙ্গে দেশ বিদেশের বিভিন্ন জ্ঞান বিজ্ঞানের বই থাকবে। দলীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে বসে তার দলকে জানবে, দল থেকে হারিয়ে যাওয়া সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক থেকে শুরু করে শাহ এএমএস কিবরিয়ার মতো নক্ষত্রদেরকে জানবে, দেশকে জানবে, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানকে জানবে। চাইব সেখানে নিয়িমিত একটি পাঠচক্র গড়ে উঠুক। বই পড়া নিয়ে দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোর মাঝে তুমুল আয়োজনে শুরু হোক আন্তঃপ্রতিযোগিতা।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং কারাগারের রোজনামচা নিয়ে আওয়ামী প্রধান শেখ হাসিনার যে আবেগ, সেই বই দুটিও যে কোটি কোটি নেতা-কর্মী-ভক্তের মাঝে হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র পড়েছেন তা হলপ করে বলা যায়। তাই দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে যদি বই পড়ার প্রতি আকৃষ্ট করা যায় তবে তা হবে আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দলের জন্য একটি অনন্য কাজ। জানি না, আমার এই ছোট্ট চাওয়াটি আওয়ামী লীগের মতো বিশাল এক সংগঠনের কাছে অনেক বেশি কিছু কি না! পাঠ্যচর্চার অভাব আমাদের রাজনীতির অধঃপতনের অন্যতম মূল কারণ, এ কথা তো সবাই জানেন।
লেখক : সাংবাদিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ