প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘যতই বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছি ততই হতাশায় ডুবছি’

ডা. মো. তাজুল ইসলাম: সমস্যা : আমি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের একজন শিক্ষার্থী। পড়ালেখায় খুব একটা খারাপ নই। তবে যেভাবে আমি এখন চলছি তাতে খারাপ হতে হয়তো বেশি সময় লাগবে না। ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন দেখতাম জীবনে বড় কিছু হবো। ইন্টারনেশেনাল পর্যায়ে যাব। তবে যতই বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছি ততই হতাশায় ডুবে যাচ্ছি! কারণ আমি আমার আশানুরূপ লক্ষে পৌঁছাতে পারছি না। সারাক্ষণই কোনো না কোনো চিন্তায় ডুবে থাকি। বেশির ভাগ সময় হতাশা কিংবা ডিপ্রেশনে ভুগি। এটা ইদানিংকালে খুব বেড়ে যাচ্ছে। আর স্বাধীনতা আমার অনেক পছন্দ। সবসময় স্বাধীনই ছিলাম। তবে ইদানিং যে ভয়টা সব থেকে বেশি কাজ করে, সেটা হচ্ছে বিয়ে। বিয়ে ব্যাপারটা খুব ভাবায় আমায়। বাবা-মার বয়স হয়েছে, হয়তো অনার্স কমপ্লিট করলেই বিয়েতে জোর করবে। তবে আজকালকার অবস্থা, আশেপাশে মানুষের অবস্থা থেকে যতদূর দেখি ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে দাম্পত্য জীবনে কলহ, ঝগড়া ইত্যাদি নানা সমস্যা লেগে থাকে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্বশুরঘর থেকে এনাফ সাপোর্ট আর স্বাধীনতা পাওয়া যায় না। আর ডিভোর্স এটা সেটা নানা সমস্যা তো আছেই। এমন না যে আমি বিয়ে কখনোই করব না, তবে আমি চাই আগে নিজে স্বাবলম্বী হই। অন্তত নিজের খরচটা যাতে নিজে চালাতে পারি। তবে কোনোভাবেই সেটাতে সফল হতে পারছি না। ফলে একদিকে দুশ্চিন্তা যেমন বাড়ছে, সাথে হতাশাও। আর ব্যক্তিগত /পারিবারিক কম বেশি সমস্যা তো সবারই আছে। বেশিরভাগ সময় এখন বিষণ্নতায় ভুগি। মানুষকে খুব বিরক্ত লাগে। কারও সঙ্গে খুব বেশি কথা বলি না।

বিশেষ করে নিজের সমস্যাগুলো কারও সঙ্গে শেয়ার করি না। করতে ইচ্ছেও করে না। নিজেকে আমি অনেক আশাবাদী একজন বলে দাবি করলেও কেন জানি আজকাল সেটা আগের মতো থাকে না। সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করতে গিয়ে পড়ালেখায় দিন দিন পিছিয়ে পড়ছি। চাইলেও মন বসাতে পারছি না আগের মতো। আগে যে কাজগুলো করে নিজেকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত রাখতাম ওগুলোও কেন জানি এখন আর কাজ দেয় না। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস টা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আমি এই ব্যাপারগুলো থেকে বের হয়ে আসতে চাই। আগের মতো নতুন উদ্যোমে কাজে আর পড়ালেখায় মনোনিবেশ করতে চাই। নিজের মতো চেষ্টা আমি চালিয়ে যাচ্ছি,তবে আপনার সহযোগিতা হয়তো আমার পথকে আরও সুপ্রস্ত করে দেবে। ধন্যবাদ। নাম গোপন রাখলে কৃতজ্ঞ থাকব।

পরামর্শ : তুমি ছেলে না মেয়ে তা উল্লে করোনি। সবাইকে বলছি, নিজের লিঙ্গ পরিচয় ও বয়স জানানো প্রয়োজন সঠিক পরামর্শ দেওয়ার জন্য। তবে তোমার সমস্যার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, তুমি মেয়ে হতে পারো। বিয়ে নিয়ে তোমার উদ্বেগের ধরন দেখে এই অনুমান করছি। যাহোক, তুমি ছোট বেলা থেকে উচ্চাশা পোষণ করে আসছ ‘তোমার ভাষায় ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়ে যাবো’। । উচ্চাশা থাকা ভালো, তবে পরবর্তীতে জীবন বাস্তবতার সঙ্গে তাকে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। কেননা জীবন বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন ও জটিল। তেমনটি না হলে ব্যর্থতার ছোবলে বারবার ক্ষতবিক্ষত হতে হয় এবং তোমার ভাষায় হতাশা বিষণ্নতা পেয়ে বসে। এজন্য তুমি লিখেছ, ‘যতই বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছি, তত হতাশায় ডুবে যাচ্ছি’! এরকমটি শুধু তোমার ক্ষেত্রে নয়, অনেকের বেলায়ই সত্য। তোমাকে দিনে দিনে পরিপক্ক হতে হবে, জীবন জগতের বাস্তবতা মেনে নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী জীবনকে সাজাতে হবে।

তুমি আরেকটি বিষয়ে উদ্বিগ তা হচ্ছে ভবিষ্যৎ বিয়ে নিয়ে দুঃশ্চিন্তা। হয়তো তোমার পরিবার ও আশেপাশে দেখেছ দাম্পত্য কলহ, ঝগড়া এমনকি ডিভোর্স প্রায়ই হচ্ছে। এ ধরনের আগ বাড়িয়ে দুঃশ্চিন্তা করার কোনো মানে হয় না। কেননা প্রত্যকের জীবন আলাদা, বাস্তবতাও আলাদা। তোমার ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে যেমন বাস্তবভিত্তিক এডজাস্টমেন্ট করে নিতে হবে, বিবাহিত জীবনেও সমঝোতা ও দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কে বা কারা অসুখী সেটি না দেখে জীবনকে দেখবে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে। জীবনকে নিজের মতন করে সহজ করে নাও, বাস্তবতার মানদণ্ড সাজিয়ে নাও, দেখবে জীবন তত কঠিন, ভারবহ কিছু নয়। জীবন অনেক উপভোগ্য, অনেক বর্ণিল ও সম্ভাবনাময়। বি-পজিটিভ, বি হ্যাপী। তারপরও প্রয়োজনে কাউন্সিলিং সেবা নিতে পারো।
লেখক : অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত