প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
বাণিজ্য যুদ্ধ প্রভাব ফেলতে পারে বাংলাদেশেও

ইত্তেফাক প্রতিবেদন : যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের অন্য দেশগুলো একে অপরের পণ্যের উপর ট্যারিফ ও পাল্টা ট্যারিফ আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের উপর কী প্রভাব পড়বে? বা আদৌ কি কোন প্রভাব পড়বে? এমন লাভ-ক্ষতির হিসাব করছেন অনেকেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক দেশ অপর দেশের উপর পাল্টাপাল্টি ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশ আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বল্প মেয়াদে কিছু সুবিধা পেলেও দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার শিকার হতে পারে বাংলাদেশও।
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি পণ্যের উপর ট্যারিফ আরোপ করেছে। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীনও। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিবেশী কানাডা ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো থেকে বড় অঙ্কের আমদানি পণ্যের উপরও শুল্ক আরোপ করেছে। এসব শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে শতভাগ পর্যন্ত। এর প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপও শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে এক দেশের অন্য দেশের পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। পাল্টাপাল্টি এ শুল্ক আরোপের অংশ হিসেবে চীন যুক্তরাষ্ট্রের তুলার উপর বড় অঙ্কের শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তা ও ঢাকা চেম্বারের (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম  বলেন, এসব দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের তুলনায় তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য খুবই ছোট। তবে এর ফলে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য সুবিধা পেতে পারে। সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। একই কথা বললেন ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ডেনিম এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, এর ফলে বাংলাদেশ কিছু সুবিধা পেতে পারে। অবশ্য রপ্তানিকারকদের সংগঠন ইএবি’র সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী এ ধরণের বাণিজ্য যুদ্ধে কী ধরণের সুবিধা বা অসুবিধা হতে পারে, তা এখনই পরিস্কার নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে  গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় বাড়তি শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ক্রয়ে বাংলাদেশ কিছু সুবিধা পেতে পারে। কিন্তু মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে এ ধরণের বাণিজ্য যুদ্ধে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেননা অন্যরাও প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করবে। ফলে একের পর এক প্রতিরক্ষণ দেয়াল তৈরি হবে। এর সঙ্গে আরো নতুন নতুন দেশ যুক্ত হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতি শ্লথ হয়ে যাবে। চূড়ান্তভাবে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাতে আমাদের মতো দেশের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আশা করবো, যুক্তরাষ্ট্র যেটা শুরু করেছে, সেখান থেকে ফিরে আসবে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সামগ্রিকভাবে বিশ্ববাণিজ্য ভালো অবস্থায় থাকলে আমাদের জন্য ভালো। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন যা করছে, তাতে সার্বিকভাবে বিশ্ববাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের জন্য ভালো কিছু দেখা যাচ্ছে না।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এক দেশ অপর দেশের ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের উপর ট্যারিফ আরোপ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, আরো ২শ’ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যের উপর ট্যারিফ আরোপ করা হবে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে চীনের অর্থনীতি কিছুটা হোঁচট খেয়েছে। চীনের বড় অসময়ে এ যুদ্ধটা শুরু হলো। গত কয়েক সপ্তাহে চীনের অর্থনীতির গতি কিছুটা কমে এসেছে। চলতি বছর  দেশটির প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে  ৬ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। অবশ্য ওই প্রতিবেদনে মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে কোন কথা বলা হয়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত