প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দূতাবাস ও শ্রম উইংয়ের সমন্বয়হীনতায় ব্যাহত কাজের পরিবেশ

ডেস্ক রিপোর্ট: বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শ্রম উইংয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে অসহযোগিতার মনোভাব। এতে কাজের পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক মতবিনিময় সভায় দূতাবাস ও উইংয়ের মধ্যে এ সমন্বয়হীনতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে মিনিস্টার, কাউন্সেলর, প্রথম সচিব, দ্বিতীয় সচিব ও অন্যান্য পদে কর্মরতদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা খোলামেলাভাবে উপস্থাপন করেন কর্মকর্তারা। পরবর্তী সময়ে বিষয়গুলো চিহ্নিত করে কার্যবিবরণী তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সমন্বয়-১ অধিশাখা। এসব সমস্যা সমাধানে সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে গত ১৬ মে উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়। ১১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার এনডিসি বলেন, দূতাবাসগুলোর কর্মকর্তাদের কাজের ক্ষেত্রে কীভাবে টিম স্পিরিট বাড়ানো যায়, তা জানতে একটি মতবিনিময় সভা হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সেগুলো বড় করে দেখার মতো কিছু না। তিনি বলেন, এরই মধ্যে এসব বিষয় নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সমস্যাগুলো প্রত্যেকে অনুধাবন করেছেন এবং এ থেকে উত্তরণে সবার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা বিদেশে অবস্থিত উইংগুলোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে উইংপ্রধানদের পরিদর্শন ও অভ্যন্তরীণ সফরের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে তারা বলেন, কোনো কোনো দূতাবাসে অফিস ব্যবস্থাপনা যথাযথ নয়। সেখানে রেজিস্টার নেই, গার্ড ফাইল নেই, দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনায় সচিবালয় নির্দেশমালা/কার্যপ্রণালি বিধিমালা বা সরকারি অন্য বিধি মানা হয় না। অনেক সময় দূতাবাস থেকে পাঠানো চিঠিতে স্মারক নম্বর না থাকায় তার জবাব দেয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসে ফোন বা ই-মেইল করলে উত্তর পাওয়া যায় না। অনেক মিশনে ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি বা পরম্পরা ধরে রাখার ব্যবস্থা নেই। ফলে পুরনো কোনো রেকর্ড বা নথি খুঁজে পাওয়া যায় না।

কর্মকর্তারা জানান, মিশনের বিভিন্ন উইংয়ে কর্মরতরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে বাজেট বরাদ্দ পেয়ে থাকেন। বরাদ্দকৃত এ অর্থ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেটের অর্থের সঙ্গে মিলিয়ে একই ব্যাংক হিসাবে রাখায় অর্থব্যয়ে উইং কর্মকর্তাদের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। যেকোনো ব্যয় নির্বাহে তাদের সংশ্লিষ্ট মিশনের হেড অব চ্যান্সারির ওপর নির্ভর করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে উইং কর্মকর্তাদের অজ্ঞাতে তাদের বাজেট বরাদ্দ থেকে দূতাবাসের ব্যয় নির্বাহ করা হয়। এর ফলে বাজেট ব্যবস্থাপনায় জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং উইংপ্রধানরা অনভিপ্রেত অডিট আপত্তির মুখোমুখি হন। এজন্য উইংপ্রধানরা নিজেদের ড্রয়িং অ্যান্ড ডিজবার্সিং অফিসার (ডিডিও) হিসেবে নিয়োগ এবং প্রতিটি উইংয়ের জন্য পৃথক ব্যাংক হিসাব রাখার প্রস্তাব করেন।

বৈঠকে জানানো হয়, দূতাবাসের উইংগুলোর কাজে সমন্বয়ের জন্য কোনো চার্টার অব ডিউটিজ নেই। এজন্য সুষ্ঠুভাবে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না। কোনো কোনো মিশনে বিভিন্ন উইংয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে তেমন আলোচনা হয় না। দলগত টিম স্পিরিটের অভাবে মিশনগুলোও সর্বোচ্চ সফলতা অর্জন করতে পারে না। মিশনের কর্মকর্তারা ছুটির বিষয়েও জটিলতার সম্মুখীন হন বলে কর্মকর্তারা জানান। তারা অভিযোগ করেন, কোনো কোনো মিশনে স্থানীয় ও দেশীয় কর্মীর বেতন-ভাতায় বৈষম্য রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভ্রমণ ও চিকিৎসা ভাতা পেতে সমস্যা হয়। বাড়ি ভাড়া ভাতার ক্ষেত্রেও পদ অনুসারে বৈষম্য দেখা যায়। বিভিন্ন উইংয়ের গাড়ি ব্যবহারে উইং কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয় না। কখনো কখনো উইং-সংশ্লিষ্ট কাজে গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ না দিয়ে অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা পাসপোর্ট ও ভিসা খাতে আয়কৃত অর্থ পৃথক হিসাবে জমা করার প্রস্তাব দেন। এর ফলে সুরক্ষা সেবা বিভাগ সহজেই সরকারি কোষাগারে ওই অর্থ জমা করতে পারবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে আরো রয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব, অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগের প্রতিনিধি। সূত্র: বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত