প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাচ্চু হত্যায় জেএমবির সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট: মুক্তমনা লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে রবিবার (২৪ জুন) গাজীপুরের মাওনায় জেএমবি’র একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বোমা ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এর আগে বাচ্চু হত্যাকাণ্ডে আরেক নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-এবিটি (নতুন নাম আনসার আল ইসলাম) জড়িত বলে সন্দেহ করেছিল পুলিশ। ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম নিয়ে লেখালেখির কারণেই শাহজাহান বাচ্চুকে হত্যা করা হয়েছে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শাহজাহান বাচ্চু ‘শুদ্ধ চর্চা কেন্দ্র’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। সেখান থেকেই জেএমবি সদস্যরা তাকে টার্গেট করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্তে শতভাগ অগ্রগতি এখনও নেই। তবে কিছু ক্লু নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শাহজাহান বাচ্চু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে জঙ্গিরা জড়িত সেটা হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখেই ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু এর সঙ্গে আনসার আল ইসলাম নাকি নব্য জেএমবি অথবা পুরাতন জেএমবি জড়িত তা নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। প্রথম দিকে আনসার আল ইসলামকে সামনে রেখেই তদন্ত করা হচ্ছিল। পরে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখা, ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ও বগুড়া জেলা পুলিশের যৌথ দল এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পুরাতন জেএমবি জড়িত বলে কিছু তথ্য পায়। সেই তথ্যের সূত্র ধরেই রবিবার ভোরে গাজীপুরের মাওনার একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ওই বাসায় আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি দুই মাস আগে ভাড়া নিয়ে উঠেছিল। তার গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ জেলার কালীগঞ্জ এলাকায়। অনেকদিন ধরেই পুরাতন জেএমবি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে সংঘটিত হওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। এমনকি বগুড়া ও রাজশাহী এলাকায় কয়েকটি ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছিল পুলিশ।

সূত্র জানায়, পুরাতন জেএমবির বর্তমান আমির হচ্ছে সালাউদ্দিন সালেহিন। ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকায় প্রিজন ভ্যান থেকে দুই সহযোগীসহ তাকে ছিনিয়ে নিয়েছিল জঙ্গিরা। এরপর থেকেই সালেহিন পুরাতন জেএমবির আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর গোপীবাগে কথিত ইমাম মাহাদীসহ ছয়জনকে হত্যা, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় মাওলানা ফারুকী হত্যা, ২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর বাড্ডায় আরেক কথিত পীর ও পিডিবি’র সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খানসহ আরও বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে পুরাতন জেএমবির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। আগের হত্যাকাণ্ডগুলোতে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করলেও ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল গাজীপুরের কাশিপুর কারাগারের সাবেক প্রধান কারারক্ষী রুস্তম আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দু’টি মোটরসাইকেলে আসা চার জঙ্গি তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় অনলাইনে পুরাতন জেএমবির নিজস্ব ফোরামে এসব হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করা হয়েছে।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে আলাপচারিতায় বলেছেন, পুরাতন জেএমবির কথিত আমির সালাউদ্দিন সালেহীন ও মিজানুর রহমান ওরফে বোমা মিজান ভারতে আত্মগোপনে থেকে দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। মাঝখানে দীর্ঘ সময় নব্য জেএমবির হামলা ও জঙ্গিবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত থাকায় পুরাতন জেএমবির সদস্যরা আবারও কিছুটা সংগঠিত হয়েছে। তারা অর্থ সংগ্রহের জন্য ডাকাতি ও ছিনতাই করছে। বাচ্চু হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তারা আবারও নতুন করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চাইছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের পূর্ব কাকালদী গ্রামে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন শাহজাহান বাচ্চু (৬০)। দু’টি মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করার পর আবার মোটরসাইকেলে চড়ে দ্রুত পালিয়ে যায় খুনিরা। শাহজাহান বাচ্চু একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ‘আমাদের বিক্রমপুর’ নামে একটি অনিয়মিত সাপ্তাহিক পত্রিকারও তিনি ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া, মুক্তচিক্তার লেখক বাচ্চু বিভিন্ন ব্লগ ও ফেসবুকে লেখালেখি করতেন। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত