প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

‘পাঠাও’ রাইডের আড়ালে ইয়াবা সরবরাহ

সুশান্ত সাহা : রাজধানীতে মাদক পরিবহনে এবার রাইড শেয়ারিং অ্যাপস ‘পাঠাও’ রাইডারদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে র‌্যাব। যাত্রী পরিবহনের আড়ালে, নির্দিষ্ট গন্তব্যে ইয়াবা পৌঁছে দিচ্ছেন মাদক ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে পাঠাওয়ের সাথে অফিসিয়ালি যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

রোববার সকাল ১১ টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল এমরানুল হাসান।

এর আগে শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরার ১২নং সেক্টরের ১৮নম্বর সড়কের ১১নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঠাও চালকসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৩। গ্রেফতাররা হলো, কক্সবাজারের মাদক ব্যবসায়ী মো. ইফতেখারুল ইসলাম (২৫), ওই ভবনের কেয়ারটেকার ও উখিয়ার বাসিন্দা মো. অলি আহম্মেদ (২৪), ওষুধ কোম্পানির ইনফরমেশন অফিসার মোস্তফা কামাল এবং পাঠাও চালক মো. রানা আহম্মেদ ওরফে রাজু (২৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা, ৮টি মোবাইল ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

লে. কর্নেল এমরানুল হাসান জানান, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে ঢাকার মাদক ব্যবসায়ীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ফলে কক্সবাজারের মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ঢাকায় মাদক পৌঁছে দিচ্ছেন।

এমরানুল হাসান আরো জানান, গ্রেফতারকৃদের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। ইফতেখারুল ইসলাম নামের একজন জানিয়েছেন, সে কক্সবাজারের উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিএসএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত উখিয়ার স্থানীয় কিছু যুবকের বিলাসবহুল জীবনযাপন দেখে ইয়াবা ব্যবসায় উৎসাহিত হয়। কারণ তার ধারণা ইয়াবা ব্যবসায় দ্রুত লাভবান ও বিলাসবহুল জীবনযাপন করা যায়।

সে নিজে মাদক ব্যবসায় জড়ানোর পাশাপাশি কক্সবাজারের মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় যুবক ও রোহিঙ্গাদের ঢাকায় ইয়াবা নিয়ে যেতে উৎসাহিত করে। কক্সবাজার থেকে আনা ইয়াবা অবৈধভাবে ঢাকার উত্তরা হতে আশেপাশের মাদক ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করার কাজ নিয়ন্ত্রণ করত ইফতেখারুল।

অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত অলি আহম্মেদ জানান, তার বাড়িও কক্সবাজারের উখিয়া থানার রাজাপালং গ্রামে। উত্তরার ফজিলত প্রোপার্টিজ নামে একটি নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠিানের সিকিউরিটি গার্ডের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। অলি আহম্মেদ নিজের নিয়ন্ত্রিত ওই ভবনে কক্সবাজারের ইয়াবা রাখা হতো। এবং তার সহায়তায় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌছে যেত।

গ্রেপ্তারকৃত মোস্তফা কামাল জানান, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা শরীফ ফার্মাসিউটিক্যালসের মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার হিসেবে কর্মরত। মোটা অঙ্কের টাকার লোভে ঔষধ বিপণন ও সরবরাহের সাথে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি ইয়াবা পরিবহনের কাজেও যুক্ত হয়ে পড়েন। কক্সবাজার থেকে ইয়াবা ঢাকায় একটি চালান পৌঁছাতে পারলেই তিনি পেতেন ২০ হাজার টাকা।

এছাড়া রানা আহম্মেদ রাজু মূলত রাইড শেয়ারিং অ্যাপস পাঠাও এর একজন রাইডার। তিনি পাঠাও এর রাইড শেয়ার দেওয়ার পাশাপাশি ইয়াবা পরিবহন করে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিতো।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে লে. কর্ণেল এমরানুল হাসান বলেন, কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে ঢাকার কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর যোগসাজশের তথ্য আমরা পেয়েছি। তাদের নামও জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। পাঠাও চালকদের কয়েকজনের তথ্য আমরা পেয়েছি। অভিযুক্ত কয়েকজন চালকের ব্যাপারে তথ্য পেতে আমরা পাঠাওয়ের সাথে যোগযোগ করবো। মাদক পরিবহনে পাঠাও চালক ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের ব্যবহারের তথ্য পাওয়ায় এ সংক্রান্ত মামলাটি র‌্যাব-৩ তদন্ত করবে বলেও জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত