প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন খাতে সামাঞ্জস্যপূর্ণ বাজেটের সুপারিশ

মো. ইউসুফ আলী বাচ্চু : প্রস্তাবিত বাজেটে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন(ওয়াশ) খাতে আরও সামাঞ্জস্যপূর্ণ ও ন্যায্য বাজেট বরাদ্দের শুপারিশ জানিয়েছে ওয়াটার এইডসহ বিভিন্ন সংগঠন। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ গুলো জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় সকলের জন্য নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না করলে টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

ওয়াটার এইড ও ইউনিসেফের যৌথ সহযোগিতায় পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার(পিপিআরসি) এর করা এক বিশ্লেষণে, পানি স্যানিটেশন ও হাইজিন(ওয়াশ) নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করা হয়েছে। যা ওয়াশ খাতে পৃথক বরাদ্দের দীর্ঘমেয়াদি ধারার মাধ্যেমে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। কিন্তু ক্রমবর্ধমান জিপিডি এবং বিগত সাত বছরের জাতীয় বাজেটের তুলনায় ওয়াশ খাতের অপর্যাপ্ত বরাদ্দ চোখে পড়ার মত। ২০১৭-১৮ এর তুলনায় স্থানীয় সরকার বিভাগে এই ওয়াশ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ৫৪,৭০০ টাকা। কিন্তু বিগত এক বছরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এবং সম্প্রসারিত নাগরায়নের ফলে সৃষ্ট ওয়াশ চাহিদার তুলনায় ওয়াশ খাতে বরাদ্দকৃত বাজেটে যথেষ্ঠ অপর্যাপ্ততা রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, ভৌগলিক অবস্থান বিচারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়াশ বাজেটে বরাদ্দের ক্ষেত্রে যে অসমতা, সেটা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। স্থানভেদে ওয়াশ কার্যক্রম অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য বিরাজমান। গ্রাম, চর অঞ্চলে দুর্ঘম এড়িয়ায় বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা থাকার পরও মহানগর ও শহরগুলো তুলনামূলকভাবে অধিক বরাদ্দ পাচ্ছে। যদিও বাজেটের সামগ্রিক চিত্র অনুযায়ী আপাতদৃষ্টিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে ওয়াশখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। কিন্তু তারপরও গ্রাম ও শহরাঞ্চলে অসমতার হার বিস্তার লাভ করছে যেখানে শহরাঞ্চল ও গ্রামঞ্চলে বরাদ্দ যথাক্রমে ৯০ দশমিক ৯ ও ৯ দশমিক ১ শতাংশ।

ওয়াস সেক্টরের সুপারিশ সমুহ-
০১. টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-০৬ অর্জন করার জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য দুর করতে হবে। পিছিয়ে থাকা গ্রাম ও অবহেলিত অঞ্চলকে গুরুত্ব দিতে হবে।
০২. স্বাস্থ্যবিধি, পয়:বর্জ ব্যবস্থাপনায় যথযিথ অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।
০৩. সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় সুধীসমাজের অংশীদারিত্বে জনসচেতনতা তৈরি করা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা ও পয়:বর্জ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।
০৪. টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ০৬ অর্জনের জন্য সুচকগুলোর আলোকে দক্ষ ব্যবস্থাপনা, সঠিক পরিবীক্ষন, তদারকি এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় দরকার।
০৫. সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৯ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ঠ প্রকল্প ও কার্যক্রমে অগ্রগতি অর্থনৈতিক কোডসহ অর্থমন্ত্রনালয়ের প্রতিবেদন পেশ কার চালু করতে হবে।
০৬. পানি সরবারহ ও পয়নিস্কাশনের জন্য প্রস্তুতকৃত সেক্টও উন্নয়ন পরিকল্পনা (২০১১-২০২৫) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য জরুরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে ওয়াটার এইড বাংলাদেশ, ইউনিসেফ, পিপিআরসি, ফানসা-বিডি, ডব্লিউএসএসসিসি-বি, এফএসএম নেটওয়ার্ক, স্যানিটেশিন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অল এবং ওয়াশ এলায়েন্স।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত