প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচন ও মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণের বাজেট : ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: ৭ জুন অর্থমন্ত্রী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য আবার এক বিশাল বাজেট উপস্থাপন করেছেন। এ বাজেটে খরচ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এ বাজেট ঘিরে এরই মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। আমি মূলত দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ করব। এক. সামনে নির্বাচন আছে। এটিকে মাথায় রেখে বাজেটটি প্রণীত হলো কিনা। দুই. মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য বাজেটকে একটি সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে নেয়া হচ্ছে কিনা।

বাজেটের আকার বড় বিবেচনার বিষয় নয়। জনসংখ্যা বেশি এবং মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে বাজেটের আকার বৃদ্ধি স্বাভাবিক। কিন্তু যে আকারটা বলা হয় প্রকৃত আকার, তার থেকে ২০ শতাংশ কমবে। কারণ কয়েক বছর ধরে গড় বাস্তবায়নের হার এ পরিমাণ কমারই ইঙ্গিত দেয়। সেটি কমলে বাজেট ৩ লাখ ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে থাকবে। কাজেই আকার বড় ধরনের চিন্তার বিষয় নয়। সবাই বলছে, এবারের বাজেট নির্বাচনী তুষ্টির। আমি বলব, নির্বাচন সার্বিকভাবে বাজেটে তেমন ছাপ রাখেনি। তবে দু-তিনটি জায়গায় সুস্পষ্ট নির্বাচনী ছাপ পড়েছে। একটি হলো, ব্যাংকিং খাতে করপোরেট ছাড়।

ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান নৈরাজ্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ ছাড়ের কোনো অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা নেই বাজেটে। যদিও অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংক উদ্যোক্তারা যেন সুদের হার কমান, সেজন্য তিনি এটি করেছেন। তিনি এটি শুধু সীমাবদ্ধ রেখেছেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য। এটি অন্যান্য খাতে হলে অন্য কথা ছিল। ব্যাংকিং খাত, যেটি নিয়ে সবার দুশ্চিন্তা— একে ছাড় দেয়ার অন্যতম দৃষ্টিকোণ হচ্ছে ব্যাংক মালিকরা সরকারের এক ধরনের অর্থনৈতিক সহযোগী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন রাজনৈতিক শাসনের পরিপ্রেক্ষিতে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে নয়। তাদের সঙ্গে এক ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আছে সরকারের। অন্যতম রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের সুবিধা দেয়া হলো। বাজেটের এটি একটি দিক।

দ্বিতীয় আরেকটি দিক হলো, এমপিদের জন্য দুটো প্রকল্প রাখা। দুটোই অবকাঠামোভিত্তিক। এমপিদের নির্বাচিত কিছু মাদ্রাসার বিল্ডিং করা হবে আর মাধ্যমিক স্কুল করা হবে। দুটো মিলিয়ে ১৮ হাজার কোটি টাকার মতো বরাদ্ধ রাখা হয়েছে বাজেটে। এটি সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনী চিন্তাকে মাথায় রেখে। এ ব্যয়কে মূলত নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে দেখতে হবে। উল্লিখিত পরিমাণ অর্থ যদি স্থানীয় সরকারকে বরাদ্দ দেয়া হতো, তারা বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারত। অর্থমন্ত্রীর একটি আকুতি দেখলাম যে, স্থানীয় সরকারকে অনেক বেশি শক্তিশালী করার, তার এ আকুতির প্রতি আমি সহানুভূতিশীল। তার এ উপলব্ধি থাকলেও সরকারের তা নেই। সরকারের উপলব্ধিটা ভিন্ন পথে। স্থানীয় সরকারকে অত্যন্ত প্রান্তিক একটি শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর জন্য প্রকৃত বরাদ্দ অত্যন্ত নগণ্য। এমপিদের নির্বাচনী ঘুষের প্রকল্পগুলো যদি স্থানীয় সরকারকে দেয়া হতো, তাহলে তারা একটি ভূমিকা রাখতে পারত স্থানীয় উন্নয়নে। ১৮ হাজার কোটি টাকা পুরো বাজেটের ৪ শতাংশ। কম অংক নয়। কাজেই আমি দুটো জায়গায় সুস্পষ্ট নির্বাচনী চিন্তা দেখেছি। এক. ব্যাংক মালিক— রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট অর্থনেতিক শক্তিকে সহায়তা করা। দুই. এমপিদের নির্বাচনী ব্যয়ের পথকে সুগম করা।

এ দুটি ছাড়া সার্বিকভাবে বাজেটের পুরো বিষয়টি এক ধরনের আমলাতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা মাত্র। এখানে উদ্ভাবনী চিন্তা নেই, অর্থনৈতিক কৌশলের বহিঃপ্রকাশ নেই। এখানে আবার করের বিন্যাস যা হলো, তাতে নগর মধ্যবিত্ত চাপে পড়বে। কিন্তু সার্বিকভাবে অর্থমন্ত্রী করের লক্ষ্যমাত্রা খুব একটা বাড়াতে চাননি। এটিও হয়তো নির্বাচনকে মাথায় রেখে করেছেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে কৌশলগত চিন্তার অনুপস্থিতির বিষয়টি একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে। বারবার বলা হচ্ছে, মধ্যম আয়ের দেশ হব। তার জন্য কৌশলগত চিন্তার প্রাধান্য থাকাটা জরুরি ছিল বাজেটে। কিন্তু এটি সার্বিকভাবে অনুপস্থিত বাজেট আলোচনা। এবারের বাজেটের এটি বড় দুর্বলতা। মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো দিকনির্দেশনা নেই। মানসম্পন্ন শিক্ষা-স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের বিষয়ও উপেক্ষিত। অত্যন্ত আমলাতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় বাজেটটি হয়েছে, কিন্তু মানসম্মত শিক্ষার কৌশলগত যে উদ্যোগ প্রয়োজন ছিল সেটি নেই। স্বাস্থ্য খাতে আগের চেয়ে বরং বরাদ্দ আরো কমেছে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের নতুন চিন্তার উপস্থিতি আমরা দেখিনি। ডব্লিউএইচওর পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর ৫২ লাখ পরিবার বা মানুষ দারিদ্র্যসীমায় পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে স্বাস্থ্য খরচের বোঝার জন্য। এটি একটি বড় চাপ। এ বিষয়ে বাজেটে কোনো আলোচনা দেখিনি।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়ে দিকনির্দেশনার অনুপস্থিতি প্রস্তাবিত বাজেটের আরেকটি বড় দুর্বলতা। ব্যাংকিং কমিশন না করার কথাটি অর্থমন্ত্রী বলেই দিয়েছেন। বাজেট বক্তৃতাকে দুটো ভাগ করলে দেখা যাবে এর মধ্যে একটি বাজেট সাহিত্য এবং অন্যটি বাজেট অর্থনীতি। এখানে সাহিত্য ভাগটি প্রাধান্য পেয়েছে, এর বিষয়টি পুরোপুরি নিছক ভালো আলোচনা। এতে সাধারণ মানুষের জন্য উপরে উপরে অনেক কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাজেটের অর্থনীতি অংশের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ নেই। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষিত। ফলে তিন ধরনের যে দক্ষতার সংকট বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বর্তমান, সেসব সংকট আরো জোরালো হয়েছে। এ সংকটগুলো অতিক্রম করতে না পারলে মধ্যম আয়ের লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হবে। একটি হলো প্রকল্প প্রণয়নে দক্ষতার সংকট। বড় আকারে বাজেট করে আবার সংশোধন করে কমাতে হচ্ছে। তার কারণ হলো, অনেক প্রকল্প নেয়া হয়েছে, যেগুলো সঠিকভাবে প্রণীত হয়নি। ফিজিবিলিটি হয়নি, অর্থায়ন নিশ্চিত হয়নি। পরে বাদ দিতে হচ্ছে। প্রকল্প প্রণয়নের দক্ষতার সংকট বিরাজমান এবং এটি আরো গভীরতর হচ্ছে। দ্বিতীয় সংকট হলো, যৌক্তিক ব্যয়ের দক্ষতার সংকট। বাংলাদেশে অযৌক্তিক ব্যয়ের প্রকল্প হয়ে গেছে বাজেটের অন্যতম দিক। ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, বড় প্রকল্পগুলোর খরচ বাড়ছে। পদ্মা সেতুর ব্যয় এখন ৩০ হাজার কোটি টাকাতে পৌঁছেছে। এখানে থামবে কিনা, আমরা নিশ্চিত নই। এটি ৪০-৫০ হাজার কোটিতে পৌঁছে যেতে পারে। বলতে গেলে যৌক্তিক ব্যয়ের জন্য যে দক্ষতা প্রয়োজন, তার একটি গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট নিয়েই কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগোতে হচ্ছে।

তৃতীয় যে সংকট সেটি হচ্ছে, বাস্তবায়ন দক্ষতার সংকট। এডিপির বাস্তবায়ন আমরা দেখছি। এতে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই। আবার মানসম্মত বাস্তবায়নও হচ্ছে না। প্রকল্প প্রণয়ন, যৌক্তিক ব্যয় ও মানসম্মত বাস্তবায়ন— এ তিন দক্ষতার সংকটে কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। এখানে কিছু দার্শনিক ঘাটতিও রয়ে গেছে। এ বাজেটে এটি অত্যন্ত জোরোলোভাবে উন্মোচিত হয়েছে। এটি হলো, মানসম্মত কর্মসংস্থান কোন পথে তৈরি হবে। একটি ধারণা দেয়া হয়েছে, সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এটি তৈরি হবে। দার্শনিকভাবে এ ধারণা ভুল। কারণ কর্মসংস্থান বড় অর্থে তৈরি হতে পারে ব্যক্তিখাতের বিকাশের মাধ্যমে। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ কিন্তু স্থবির হয়ে আছে। এটি স্থবির হয়ে থাকছে, কারণ ব্যবসার পরিবেশের সংকটের মতো আরেকটি সংকটও বিরাজমান। এর সঙ্গে রাজনৈতিক অর্থনীতি যুক্ত। বাস্তবায়ন সংকট হচ্ছে কেন? কারণ যোগ্য লোককে যোগ্য জায়গায় বসানো হচ্ছে না। মেধার অবমূল্যায়নের একটি রেশও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পড়ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে যেটি দেখছি, তার রেশটা কিন্তু ওখানেও পড়ছে। প্রকল্প প্রণয়ন, যৌক্তিক ব্যয় ও মানসম্মত বাস্তবায়ন দক্ষতার সংকটের সূত্র রাজনৈতিক শাসনের মধ্যে নিহিত। সেখানে মেধার অবমূল্যায়নের যেমন একটি বিষয় রয়েছে, আরেকটি জবাবদিহিতার বড় ধরনের ঘাটতি বিরাজমান। এগুলো যদিও আমরা সুশাসনের ক্ষেত্রে আলাপ করি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় এর একটি রেশ পড়ে যায়।

কৃষিতে এবার ভর্তুকি বাড়ানো হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক। কিন্তু কৃষি নিয়ে সার্বিক চিন্তাটি নেই। কৃষিকে প্রবৃদ্ধির চালকের পর্যায়ে নিতে হলে শুধু উৎপাদনে নয়; বিপণন, ভ্যালু চেইনে বড় ধরনের নজর দেয়ার বিষয় রয়েছে। এ-সংক্রান্ত চিন্তা তো নেই; বরং বাজেটে এ বিষয়গুলো অনুপস্থিত। নতুন প্রবৃদ্ধির চালকগুলো কোত্থেকে তৈরি হবে, তা নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। বিপরীতে দেখা গেল, দেশীয় পর্যায়ে যে মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরি হবে, সেসবের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, যার ব্যাখ্যা পাওয়া মুশকিল। এক্ষেত্রে এক ধরনের নীতি অস্থিরতা দেখা গেছে। গত বছর এক ধরনের নীতির ভিত্তিতে অনেক বিনিয়োগ হয়েছে। এ বছর আবার উল্টো দিকে যাত্রা করেছে। কোনো গোষ্ঠীকে খুশি করার জন্য এটি করা হয়েছে কিনা, সেটিও বোঝা যাচ্ছে না। এ জায়গায় খাতওয়ারি কৌশলের একটি বড় ধরনের সংকট। মধ্যম আয়ের বাংলাদেশে পৌঁছার যে লক্ষ্য এবং যেটি নিয়ে বাজেটের সাহিত্য পাঠ অত্যন্ত উচ্চকিত ছিল, তার জন্য সুষ্ঠু কৌশল সার্বিকভাবে অনুপস্থিত।

আরেকটি বিষয়, সামাজিক নিরাপত্তা। এক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তায় একটি নতুন ধারণা এসেছে, সর্বজনীন পেনশন স্কিম। নিঃসন্দেহে এটি ভালো ধারণা। কিন্তু সেটিও সাহিত্যের পর্যায়ে থেকে যাচ্ছে। এখানে একটি বাস্তবতা হলো, ৮৭ শতাংশ কর্মসংস্থান অনানুষ্ঠানিক খাতে। অনানুষ্ঠানিক খাতে পেনশন স্কিম কীভাবে চালু হবে, বিদ্যমান আমলাতন্ত্রের তার কোনো চিন্তাভাবনা নেই। প্রকৃত অর্থে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ কমছে। সুতরাং সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ধারণাটিও বাজেট সাহিত্য পর্যায়ে থেকে যাচ্ছে; বাজেট অর্থনীতি পর্যায়ে উন্নীত হতে পারছে না।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী কিছু বিতর্কিত জায়গায় হাতই দেননি। ভ্যাট আইন এ বছর বাস্তবায়নের কথা ছিল, কিন্তু এবারো সেটি বাস্তবায়ন করছে না সরকার। মোটাদাগে বলতে গেলে নির্বাচনের কারণে কিছু বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়া, রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট কিছু সহযোগী গোষ্ঠীকে ছাড় দেয়া এবং রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে কম প্রতিবাদ করতে পারে এমন এক জনগোষ্ঠীর ওপর করের বোঝা চাপানো এবং কিছু নীতি অস্থিরতা তৈরির বিষয় এ বাজেটে দৃশ্যমান। প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে হয়তো সরকার সাময়িক ঝুঁকি এড়ালেও অর্থনীতির বিদ্যমান সংকট ও চ্যালেঞ্জগুলো এটি দিয়ে মোকাবেলা করা যাবে না। সর্বোপরি এতে জনগণের জীবনমানের গুণগত উন্নয়ন ঘটবে না।

লেখক: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা/ পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান। – বণিকবার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ