প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুতিনের অন্যরকম বিশ্বকাপ

শুভ কিবরিয়া : স্বাগতিক রাশিয়ায় অনেক কষ্টেই এবার আয়োজিত হয়েছিল এই বিশ্বকাপের। রাশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বি ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ফিফার নির্বাহী সভায় ভোটে লজ্জাজনকভাবে হেরে যায় ইংল্যান্ড। আমেরিকাও কাতারের কাছে হেরে যায়। আমেরিকা, ইংল্যান্ডের এই পরাজয় তাদের কাছে রাজনীতির ষড়যন্ত্র বলেই মনে হয়। তাই তারা অভিযোগ আনে দুর্নীতির। আমেরিকা-ইংল্যান্ড জানাতে কসুর করে না যে, রাশিয়া, কাতার টাকা খরচ করেই ভোট কিনে বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বাগতিক দেশ হওয়ার লড়াইয়ে জিতেছে। এই অভিযোগ সাময়িক ঝড় তুললেও তদন্তের পর তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। একপর্যায়ে বিশ্বকাপ-২০১৮ বর্জনের ডাক দেয়ার চেষ্টা করে ইংল্যান্ড। আমেরিকাও নানা উপায়ে বাধার সৃষ্টি করতে থাকে।

নিজের দেশের ক্রীড়ামোদিদের রাশিয়ায় যেতে আমেরিকা নিরুৎসাহিত করতে থাকে। বিশ্ব রাজনীতিতেও রাশিয়া ও আমেরিকা এবং তার মিত্রদের মধ্যে বইতে থাকে বুনোঝড়। রাশিয়া-ইংল্যান্ডের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। দুই দেশ বিপুল সংখ্যায় কূটনীতিকদের বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কার করতে থাকে। রাজনীতির এই দ্বৈরথ আর উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখনই শুরু হয়েছে রাশিয়ায় ফুটবলের এই বিশ^কাপ। ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিক, ২০১৪ সালের সোচির শীতকালীন অলিম্পিক সাফল্যজনকভাবে আয়োজনের পর এবার ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের জমজমাট আর ব্যতিক্রমি আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া প্রমাণ রাখছে ভীন্নতর যোগ্যতার।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার এই আসরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি দেশ আমেরিকার দল মাঠে নাই। বিশ্বকাপ আসরের চূড়ান্ত পর্বেই এবার উঠতে পারে নাই আমেরিকা। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরের চূড়ান্ত পর্বে বাদ পড়েছে আমেরিকা। অন্যদিকে স্বাগতিক আয়োজক দেশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বি ছাড়াই চূড়ান্ত পর্বে খেলছে রাশিয়া। আমেরিকার মিত্র এই দুই দেশ এবার রাশিয়ার মাটিতে পা রাখতেই সমর্থ হয় নাই। এবারের বিশ্বকাপ তাই রাশিয়ার লৌহমানব ভøাদিমির পুতিনের মতই আনপ্রেডিক্টেবল।

এখন পর্যন্ত ( ২০ জুন ২০১৮) সতেরটি ম্যাচের খেলার ফলাফল প্রমাণ করছে এইবারের বিশ্বকাপ ভবিষ্যত বক্তাদের অনেক পূর্বধারণাকেই অসার প্রমাণ করতে পারে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল আর জার্মানির প্রথম খেলার ফলাফল তার বড় উদাহরণ। রাশিয়ার পুতিন নিজে এক বিষ্ময় প্রতিবার বিশ্বকাপ এলে যে প্রশ্নটা বড় দেখা দেয়, তা হল কাপ যাবে কার ঘরে? এই উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১৫ জুলাই পর্যন্ত। তবে, এটা বলা যায় পুতিনের রাশিয়া এবার ভীন্নতর উম্মাদনার, অসাধারণ এক নান্দনিক বিশ্বফুটবলের আয়োজক ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল থাকবে।

পরিচিতি : নির্বাহী সম্পাদক, সাপ্তাহিক/ মতামত গ্রহণ : মো. এনামুল হক এনা / সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত