প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুলিশের ইয়াবা জালে আনসার সদস্য!

ডেস্ক রিপোর্ট: দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন প্লাটুন কমান্ডারকে (পিসি) বেধড়ক পিটুনির পর ক্যাম্পের অস্ত্রাগার থেকে তুলে নিয়ে তার কাছে ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার একাধিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। মাদক সেবনে এবং চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের পক্ষ নিয়ে ওই আনসার ক্যাম্পে পুলিশ এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

গত ৩১ মে মধ্যরাতে ঢাকা মহানগর আনসার (পশ্চিম) জোনের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন র‌্যান্স রিয়েল এস্টেটের আনসার ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। সে দিন ক্যাম্পের ম্যাগাজিন রুমে সহকর্মীদের সামনেই শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক তদন্তসহ ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য এই নির্মম নির্যাতন করেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আনসার পিসি মো. বিপুল হোসেনসহ প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন। এমনকি থানায় নিয়ে বিপুলকে ক্রসফায়ারে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে গত ৪ জুন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারসহ পুলিশের একাধিক দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই আগারগাঁও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে কর্মরত পিসি আনসার মো. সাইদুর রহমান। ঘটনাটি আনসার সদর দপ্তর ছাড়াও একাধিক সংস্থা তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ৮ জন আনসার সদস্য ও স্থানীয় হোটেল মালিক মো. কালু মিয়া এবং তার ৫ কর্মচারী লিখিতভাবে জানিয়েছেন আদালতসহ তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে।পিসি সাইদুর রহমান আমাদের সময়কে জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তুলে নিতে তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ তুলে না নিলে তার ভাইকে (বিপুল) নতুন মামলায় ফাঁসানো ছাড়াও ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।ঈদের দুদিন আগে জামিনে বেরিয়ে এসেছেন পিসি বিপুল হোসেন। প্রাণনাশের ভয়ে তিনি এখন কর্মস্থলে যেতেও সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান।এদিকে বিপুল ও তার ভাইয়ের আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আনসারের ওই পিসিকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেদিন তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। এ ছাড়া এর আগেও তার বিরুদ্ধে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। এখন মামলা থেকে বাঁচতে তারা পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগে পিসি সাইদুর রহমান জানান, ঘটনার দিন রাত ১২টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুজ্জামান, এসআই হাবিবুল্লাহ খান, এএসআই সুব্রত, জাহাঙ্গীর, ফরিদ ও কামালসহ ১০ থেকে ১২ পুলিশ সদস্য ক্যাম্পের ম্যাগাজিন রুমে (অস্ত্রাগার) অতর্কিত হামলা চালায়। সেখানেই তাকে মারধর করা হলে অজ্ঞান হয়ে যান বিপুল। একপর্যায়ে অচেতন অবস্থায় তাকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ক্যাম্পে থাকা র‌্যান্স রিয়েল এস্টেটের আনুমানিক এক লাখ টাকা এবং বিপুলের মোবাইল ফোন নিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা। থানায় নিয়ে তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০ পিস ইয়াবা দিয়ে বিপুলকে মামলায় (মামলা নম্বর-২, তারিখ ১ জুন) জড়ায় পুলিশ।

সূত্রমতে, স্থানীয় প্রভাবশালী আবদুল কাদের বাবুল (পরিদর্শক রাজেদুজ্জামানের গ্রামের লোক), জামশেদ আলম, মিরাজের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বিপুলের বিরুদ্ধে মাদকের এই মিথ্যা মামলা দিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ জানায়, গত ৩১ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিএফডিসি রেলগেট সংলগ্ন অস্থায়ী আনসার ক্যাম্পের সামনে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাকে দৌড়ে আটক করার পর জানা গেছে তার নাম মো. বিপুল হোসেন। তিনি অস্থায়ী ওই ক্যাম্পের আনসারের পিসি।

এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের পকেট থেকে ২০ পিস ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির ২ হাজার ৩১০ টাকা জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময়ে এসআই মো. কামাল হোসেন বাদী হয়ে পিসি বিপুল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক বিপুল মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় মো. জামশেদ আলম ও মো. মিরাজ এবং এএসআই সুব্রত ঘোষ সাক্ষী দিয়েছেন। গ্রেপ্তার পিসি ও তার ভাই যে অভিযোগ করছেন তা ভিত্তিহীন।ভুক্তভোগী পিসি বিপুল হোসেন বলেন, সে রাতে আমি ক্যাম্পের অস্ত্রাগারে কাজ করছিলাম।

এ সময় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কয়েকজন পুলিশ এসে বলে, আপনার নামে অভিযোগ আছে, আপনাকে থানায় যেতে হবে। এ সময় পরিদর্শক তদন্ত স্যার (রাশেদুজ্জামান) আপনাকে ডাকছেন। আমি বলি, কী অভিযোগ বলেন? বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে থানায় যাচ্ছি। এ কথা বলতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন পুলিশ সদস্যরা। একপর্যায়ে পরিদর্শক তদন্ত স্যারসহ ওই পুলিশ সদস্যরা অস্ত্রাগারে ঢুকে আমাকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেও তারা থামেননি। একপর্যায়ে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে আমাকে গাড়িতে ছুড়ে ফেলেন তারা। যখন জ্ঞান ফেরে তখন থানার লকআপে আবিষ্কার করি আমাকে। রাতে থানার ওসি (প্রশাসন) স্যারকে ঘটনা খুলে বললে ওসি স্যার অন্যান্য পুলিশ সদস্যকে নির্দেশ দেন আমাকে ছেড়ে দেওয়ার। কিন্তু সকালে আমাকে কোর্টে চালান দেওয়া হয়। সেখানেই আমি জানতে পারি পুলিশ আমার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দিয়েছে। সূত্র: দৈনিক আমাদেরসময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত