প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জোর প্রচারণায় আওয়ামী লীগ, হয়রানির অভিযোগ বিএনপির

ডেস্ক রিপোর্ট: আর তিনদিন পর মঙ্গলবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। প্রচারণার শেষপর্বে এসে দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানির অভিযোগ এনে প্রতিবাদস্বরূপ গতকাল সকালে জনসংযোগে বিরত ছিলেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলহাজ হাসান উদ্দিন সরকার। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম পুরোদমে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন পথসভা ও প্রচারণায়। দুই প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও।

গাজীপুর জেলা বিএনপি সভাপতি ফজলুল হক মিলন বলেছেন, পুলিশ বুধবার রাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। রাতের অন্ধকারে নেতাকর্মীদের গাজীপুর থেকে আটক করে অন্য জেলার মামলায় আসামি হিসেবে দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গতকাল দুপুরের পর মহানগরীর সালনা, কোনাবাড়ি বাজার, জরুন ও কাশিমপুর এলাকা এবং বিকালে টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে পথসভায় তিনি এসব অভিযোগ করেন।

ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী মিডিয়া সেলপ্রধান ডা. মাজহারুল আলম অভিযোগে জানান, কাশিমপুর অঞ্চল নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব শাহীন ও কেন্দ্র সচিব শাহজাহান ডিলারকে বুধবার রাতে গ্রেফতারের পর ঢাকা ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করে গাজীপুর জেলা পুলিশ। রাতেই তাদের সাভার ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। একই রাতে কোনাবাড়ি কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মিলন, ছাত্রদল নেতা মিলন মিয়া ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য তাইজুল ইসলামকে আটকের পর টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। একইভাবে বালিয়ারা কেন্দ্র কমিটির সদস্য আব্দুস সামাদ, কাউলতিয়া অঞ্চল নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য শাহ আলম, ৪৭ নং ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আবু সায়েম ও পূবাইল অঞ্চল নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুস সামাদকে ঢাকা ও গাজীপুর ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে।

হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, পোলিং এজেন্টরা যাতে কেন্দ্রে না যায়, সেজন্য সাদা পোশাকে পুলিশ নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়াচ্ছে। পুলিশ কাশিমপুর ও কোনাবাড়ি অঞ্চলের কেন্দ্রগুলো দখলের নীলনকশা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই দাবি করে বিএনপি প্রার্থী বলেন, পুলিশি হয়রানির বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও হয়রানি থামছে না।

বিএনপি প্রার্থীর লিখিত অভিযোগের প্রাপ্তি স্বীকার করে রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিবউদ্দিন মণ্ডল বলেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। কারো নামে নতুন মামলা করা যাবে না। কারো নামে হুলিয়া আছে কিনা, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছি। বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে।

এদিকে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা ও জনসংযোগ করেছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, ডিইউজে সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সহসভাপতি শাহীন হাসনাত, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও পেশাজীবী নেতা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, কেন্দ্রীয় সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, কেন্দ্রীয় নেতা এমরান সালেহ প্রিন্সসহ নেতারা।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর ডুয়েট ফটকের সামনে পথসভার মাধ্যমে গণসংযোগ শুরু করেন। পরে তিনি বিএনডিসি, পূর্ব ভুরুলিয়া, শিমুলতলি, চত্বর বাজার, ভানুয়া, ফাওকাল, উত্তর ছায়াবীথি শ্মশান মোড়, টাঙ্কি মোড়, জোর পুকুরপাড়, বরুদা, হাড়িনাল, লেবু বাগান, দক্ষিণ ছায়াবীথি মোড়, মাধবাড়ি মোড়, রথখোলা স্টেডিয়াম, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিলাসপুর মসজিদের সামনে, মাড়িয়ালী, নেয়ামত সড়ক, তালুকদারের পুকুর পাড়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের শ্রমিক ক্লাব, পূর্ব চান্দনা, ভোড়া কুমারপাড়া, অ্যাডভোকেট ওয়াজউদ্দিন মিয়ার বাড়ির রাস্তার মোড়, ভাড়ারুল জামতলা, চৌরাস্তা, ধীরাশ্রম, পূবাইল কলেজ গেট, মাঝুখান বাজার ও হায়দারাবাদ মাদ্রাসার সামনে পথসভা ও গণসংযোগ করেন। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কাজী আলীম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাবুল, অ্যাডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল হাদি শামিম, মো. আমজাদ হোসেন বাবুল, মো. আমানত হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে আরো অংশ নেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, অ্যাড. কাজী মোরশেদ কামাল, সাম্যবাদী দলের নেতা সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি শাহাদত হোসেন, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাফিকুল ইসলাম বাবুল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আফজাল হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক করিম সিকদার ও শওকত রায়হান, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হালিম সরকার, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আফজাল হোসেন সরকার, গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিরা সরকার।

অন্যদিকে একই দিন বিকালে মহানগরীর তেলিপাড়া সাগর সৈকত কনভেনশন সেন্টারে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ, যুবলীগের জেলা কমিটির আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন। সূত্র: বণিক বার্তা