প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাজারে ‘যমজ ডিম’

ডেস্ক রিপোর্ট : বাজারে মুরগির ডিমের ব্যাপক চাহিদা। আর সেই ডিমে থাকে একটি কুসুম। কিন্তু ইদানীং দুই কুসুমের মুরগির ডিমও বিক্রি হচ্ছে। যাকে ‘যমজ ডিম’ বা ‘ডাবল ডিম’ বলা হচ্ছে। সাধারণ ডিমের চেয়ে এসব ডিমের দাম দেড়গুণ বেশি। আর পুষ্টিগুণও বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে দীর্ঘদিনের প্রচলিত গুজবের কারণে ‘যমজ ডিম’ সবাই খেতে আগ্রহী নন। তবে সাম্প্রতিককালে চাহিদা বাড়ায় খামার থেকে ‘যমজ ডিম’ সংগ্রহ করে খুচরা বাজারে বিক্রি করছেন অনেক ক্রেতা।
জানতে চাইলে কাজির দেউড়ি বাজারের ডিম বিক্রেতা মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহক নিয়মিতভাবে এই ডাবল ডিম কেনেন। কাজির দেউড়ি বাজারে আমিই কেবল ডিমগুলো বিক্রি করি। ইদানীং চাহিদা বাড়ায় মুরগির খামারে আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখি। ডিম আসলে ক্রেতাদের ফোন করলেই এসে নিয়ে যান।’

তিনি জানান, গতকাল শনিবার সাধারণ মুরগির ডিম প্রতিডজন ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। আর ‘যমজ ডিম’ বিক্রি হয় প্রতিশ এক হাজার টাকায়। তবে বাণিজ্যিক খামার ছাড়া দেশি মুরগির ডাবল ডিম খুব একটা মেলে না।
জানা গেছে, কাজির দেউড়ি বাজারের এই ‘যমজ ডিম’ সংগ্রহ করা হয়েছে চট্টগ্রামের অন্যতম বড় মুরগি খামারি নাহার এগ্রো থেকে।

জানতে চাইলে নাহার এগ্রো গ্রুপের কর্ণধার ও চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক রকিবুর রহমান টুটুল বলেন, ‘আগে এগুলোর এত চাহিদা ছিল না। এখন পৃথকভাবেই সেগুলো খামার থেকে সংগ্রহ ও বিক্রি হচ্ছে। খামারে সাধারণ ডিমের চেয়ে এই ডাবল ডিমের দাম এক থেকে দুই টাকা বেশি।’
কেন এমন ডিম মুরগি পাড়ে?-জানতে চাইলে রকিবুর রহমান বলেন, ‘মুরগি ডিম পাড়ার শুরুর দিকে চাহিদার চেয়ে বেশি খাবার গ্রহণ করলে ডাবল ডিম পাড়তে পারে। তবে সবাই যে ডাবল ডিম পাড়বে তা নয়। প্রথমদিকে ২ থেকে ৩ শতাংশ ডাবল ডিম আসতে পারে। পরে মুরগির খাবার গ্রহণ স্বাভাবিক হলে ডাবল ডিম পাড়ার হার দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসে।’

‘ডিম পাড়ার পর সেগুলো আমরা ম্যানুয়ালি বাছাই করে রাখি। কারণ সেই ডিম থেকে বাচ্চা করা সম্ভব নয়। তাই যমজ ডিম পাড়া মানে খামারিদের লোকসান!’-যোগ করেন চেম্বার পরিচালক রকিবুর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামে ডিমের সবচেয়ে বড় আড়ত রিয়াজউদ্দিন বাজার ও পাহাড়তলীতে সচরাচর ‘যমজ ডিম’ বিক্রি হয় না। চাহিদা না থাকায় এসব ডিম আনেন না আড়তদাররা।

দীর্ঘদিন ধরে বাজারে একট কথা প্রচলিত আছে ‘জোড়া কুসুমের এই ডিম খেলে নাকি যমজ বাচ্চা হয়! এটা কতটা সত্যি। এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী?-জানতে চাইলে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. দীপন চৌধুরী বলেন, ‘আসলে এর কোনো সত্যতা নেই। বৈজ্ঞানিক কোনো যুক্তিও নেই। কেন কোত্থেকে এই তথ্য প্রচার আছে জানি না। ফলে এই যমজ ডিম খেলে বাচ্চা সিঙ্গেল বা ডাবল হওয়ার ভাবনাটা অযৌক্তিক ও অসত্য।’
মুরগি খামারিরা বলছেন, সাধারণ একটি ডিমের ওজন ৫৫ গ্রাম। কিন্তু যমজ ডিমের ওজন ৭০ থেকে ৭৫ গ্রাম হয়। ফলে ওজনে বেশি হওয়ায় পুষ্টিগুণ বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক।

উল্লেখ্য, একটি ডিমের মোট তরলের প্রায় ৩৩ শতাংশ কুসুম। এতে ৬০ ক্যালরি থাকে। ৩ ধরনের ক্যালরি ডিমের কুসুমে রয়েছে। একটি বড় ডিমের কুসুমে (মোট ৬০ গ্রামে ১৭ গ্রাম কুসুম) বিদ্যমান উপাদান : ২ দশমিক ৭ গ্রাম প্রোটিন ২১০ মিলিগ্রাম কোলেস্টোরেল, দশমিক ৬১ গ্রাম শর্করা এবং ৪ দশমিক ৫১ গ্রাম চর্বি। চর্বি জাতীয় দ্রবণীয় সকল ভিটামিন (এ, ডি, ই এবং কে) ডিমের কুসুমে পাওয়া যায়। ডিমের কুসুম একটি ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাবার। সূত্র : কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ