প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

কীভাবে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন শেখ হাসিনা?

নিজস্ব প্রতিবেদক :  ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। সে সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা। পিতা-মাতাসহ পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য নিহত হওয়ার ছয় বছর পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা।

এর আগে ১৯৮১ সালেই শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। শেখ হাসিনা কীভাবে আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে উঠলেন, সে প্রসঙ্গ উঠে আসে তার প্রয়াত স্বামী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার রচিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ বইতে।

দিল্লিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা

শেখ হাসিনা ও ওয়াজেদ মিয়া যখন ভারতে অবস্থান করছিলেন, তখন ১৯৭৯ ও ১৯৮০ এই দুইবছরে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা তাদের খোঁজ নিতে বিভিন্ন সময় দিল্লি যেতেন।

এম এ ওয়াজেদ মিয়া তার বইতে লিখেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক কাবুল যাওয়ার সময় ও সেখান থেকে ফেরার সময় তাদের সঙ্গে দেখা করেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান, আবদুস সামাদ আজাদ, তৎকালীন যুবলীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তৎকালীন আওয়ামী লীগের অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দিল্লিতে যান। তাদের সে সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিতে রাজি করানো।’

এ প্রসঙ্গে ওয়াজেদ মিয়া তার বইতে লিখেন, ‘আওয়ামী লীগের উপরোল্লিখিত নেতৃবৃন্দের দিল্লিতে আমাদের কাছে আসার অন্যতম কারণ ছিল ঢাকায় ১৯৮১ সালের ১৩- ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের ব্যাপারে হাসিনার সঙ্গে মতবিনিময় করা। আমি এ প্রস্তাবে কখনোই সম্মত ছিলাম না।

আমি তাদের সকলকে বলেছিলাম যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অকল্পনীয় মর্মান্তিক ঘটনার পর বঙ্গবন্ধুর আত্মীয়স্বজনদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা উচিত হবে না, অন্তত বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত।’

অবশ্য শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই ঘোষণা করা হয় দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে। ওয়াজেদ মিয়ার বইতে ওই বিবরণ আসে এভাবে, ‘১৬ ফেব্রুয়ারি (১৯৮১) সকালে লন্ডন থেকে ফোনে সংবাদ পাওয়া যায় যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে হাসিনাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে। পরের দিন দিল্লিস্থ অনেক সাংবাদিক শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়ে পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন বিষয়ে তার মন্তব্য ও মতামত প্রকাশ করেন।’

এর এক সপ্তাহ পরে আওয়ামী লীগের ওই সময়কার শীর্ষ নেতারা যান দিল্লিতে।

‘১৯৮১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে আওয়ামী লীগের আবদুল মালেক উকিল, ড. কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, আবদুল মান্নান, আবদুস সামাদ, এম কোরবান আলী, বেগম জোহরা তাজউদ্দীন, স্বামী গোলাম আকবার চৌধুরীসহ বেগম সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, বেগম আইভি রহমান, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ দিল্লি পৌঁছান’- এভাবেই ঘটনাবলীর বর্ণনা করেন ওয়াজেদ মিয়া।

তারা শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়েকটি বৈঠকে মিলিত হন। এরপর ড. কামাল হোসেন ও সাজেদা চৌধুরী ছাড়া সবাই ঢাকায় ফিরে যান।

‘ড. কামাল হোসেন ও বেগম সাজেদা চৌধুরীর ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল আমাদের পারিবারিক ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করে হাসিনার ঢাকা ফেরার তারিখ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করার জন্যে’, লেখেন ওয়াজেদ মিয়া।

অবশ্য শেখ হাসিনার ঢাকা ফেরার বিষয়ে ড. কামাল হোসেন ও সাজেদা চৌধুরী মার্চের দুটো সম্ভাব্য তারিখ প্রস্তাব করলেও ওই তারিখের ব্যাপারে ওয়াজেদ মিয়ার আপত্তি ছিল।

ওয়াজেদ মিয়ার বর্ণনায়, ‘এরপর মে মাসের ১৭ তারিখ ফেরার দিন চূড়ান্ত হয়। ১৬ তারিখে আওয়ামী লীগের আবদুস সামাদ আজাদ, এম কোরবান আলী শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে পুতুলকে নিয়ে দিল্লি থেকে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কোলকাতা পৌঁছান। এরপর ১৭ই মে তারিখে সন্ধ্যায় তারা কোলকাতা থেকে ঢাকায় পৌঁছান।’

শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করার প্রস্তাব

শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করার বিষয়টি প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন দলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুর রাজ্জাক- এমনটাই বলছিলেন সেই সময়কার আওয়ামী লীগ নেতা ও শেখ মুজিব সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘মূল নেতা যাদের মনে করা হতো, তারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন। দলও কিছুদিনের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। দলকে পুনর্জ্জীবিত করার জন্য যখন চেষ্টা হচ্ছিল, তখন বেগম তাজউদ্দিন ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিলেন। অবশ্য এখন আর কেউ তার কথা বলে না।’

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘বেগম তাজউদ্দিন থানায় থানায় ঘুরে দলকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। আমি তখন অক্সফোর্ড থেকে, লন্ডন থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। তিনি বলতেন- এখন আসা ঠিক হবে না। যখন আসলে ভূমিকা রাখতে পারবেন, দলের অবস্থা তেমন হলে জানাব। এরপর ১৯৮০ সালে তিনি বললেন, এখন ফিরতে পারেন।’

এরপর দলের মধ্যে যে কয়েকজন নেতা রয়েছেন তাদের মধ্যে একক কাউকে টানাহেঁচড়া না করে সাতজনের যৌথ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মতৈক্য হয়, জানান ড. কামাল হোসেন।

১৯৮০ সালে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করা হয়। এরপর দলের প্রেসিডেন্ট করা হয় জোহরা তাজউদ্দীনকে এবং সাধারণ সম্পাদক হন আবদুর রাজ্জাক। রাত ২টার দিকে এই সিদ্ধান্ত হয়, আর ঠিক হয় পরদিন এ ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়া হবে। কিন্তু পরদিন সকালে ঘটল ভিন্ন এক ঘটনা, যা মোড় পাল্টে দিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘সকাল সকাল আমার কাছে আসেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর স্বামী- এখন মারা গেছেন নাম বলতে পারি। তিনি এসে বললেন, খুব ভালো কাজ হয়েছে কাল রাতে, পার্টি বাঁচিয়ে দিয়েছেন। দেখুন আর একটা কাজ করা যায় কি না- আপনি তো বলেছিলেন শেখ হাসিনাকে সসম্মানে আনবেন। ওকে তো নিয়ে আসার একটা সুযোগ হয়েছে। ওকে চেয়ারম্যান করে দিন না! ওর তো ক্ষমতা বঙ্গবন্ধুর ঐক্যের প্রতীক হিসেবে।’

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘তারা শেখ হাসিনাকে আনতে চেয়েছিলেন শেখ মুজিবের প্রতি আস্থা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা তো ঐক্যের প্রতীক! বঙ্গবন্ধুর প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা তখনো ছিল, এখনো আছে।’

সে সময় দলের মধ্যে বিভক্তির কথা উঠে আসে ড. কামাল হোসেনের কথায়ও। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে গ্রুপিং ছিল, সেটা জেনেই আমরা দেখলাম যেন সব গ্রুপের লোক ওখানে মনোনীত হয়। বিভিন্ন গ্রুপ মিলে কমিটিও গঠন করা হয়। বিভিন্নজনের পরামর্শ নেওয়া হলো। এ যে আওয়ামী লীগকে ধরে রাখা, কেননা জিয়াউর রহমান তো ম্যাক্সিমাম চেষ্টা করেছে এটা ধ্বংস করতে।’

ড. কামাল বলেন, ‘বেগম তাজউদ্দীন সে সময় যে ভূমিকা রেখেছেন, তিনি যদি ওইভাবে সংগঠনকে পুনর্জ্জীবিত না করতেন, তাহলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বই থাকত না। তারপর কাউন্সিল করে সবাইকে এক জায়গায় এনে উনাকে (শেখ হাসিনাকে) নিয়ে আসা হলো একেবারে স্বেচ্ছায়। বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে এই ঐক্যটা রক্ষা করবে সে এবং আমরা তাকে শ্রদ্ধা-সমর্থন সবই করব।’

শেখ হাসিনা যেদিন ফিরে এলেন

ছয় বছর প্রবাসে কাটানোর পর শেখ হাসিনা যেদিন ফিরে এলেন, সেদিন ছিল রবিবার। ১৭ মে ১৯৮১ সাল।

এম এ ওয়াজেদ মিয়া তার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ গ্রন্থে লিখেন, ‘ওইদিন বিকেলে ঢাকায় একটু একটু ঝড়বৃষ্টি হয়। যা হোক, ঢাকায় পৌঁছেই রাত ১১টার দিকে হাসিনা আমাকে টেলিফোনে জানান যে, সেদিন সভাস্থল মানিক মিয়া এভিনিউ হতে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দর পর্যন্ত ছিল লোকে লোকারণ্য।’

ওয়াজেদ মিয়া আরও লিখেন, ‘ওইদিন তাকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য ১০ থেকে ১২ লাখ লোকের সমাগম হয়েছে বলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা সূত্রে বলা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মতে, ওই দিন ঢাকায় ১৫ লাখ লোকের সমাগম হয়েছিল।’

স্বামী ওয়াজেদ মিয়া শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে।

‘আমি তখন হাসিনাকে বললাম, ১০-১৫ লাখ লোকের সমাগম হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখন থেকে তোমাকে মাথা ঠান্ডা রেখে দলীয় কাজকর্ম চালাতে হবে। অন্যের তোষামোদিতে তোমার মাথা যেন মোটা না হয়ে যায়, তার জন্য তোমাকে এখন থেকে সতর্ক থাকতে হবে নিরন্তর।’

বইতে ওয়াজেদ মিয়া আরও উল্লেখ করেন, ‘ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ ও ফলিত পদার্থ বিজ্ঞানের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ছাত্রদের জন্য একটি পাঠ্যপুস্তক প্রকাশনার কাজে তিনি ব্যস্ত ছিলেন এবং শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরেও ভারত সরকার তাকে ভারতে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছিল।’

‘আমি নেতা নই, সাধারণ মেয়ে’

শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসার সংবাদ পরদিন (১৮ মে, ১৯৮১) ঢাকার বিভিন্ন সংবাদপত্রে গুরুত্ব-সহকারে প্রকাশিত হয়। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের লেখা ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার পথচলা’ শীর্ষক গ্রন্থে বিভিন্ন পত্রিকার খবরের বরাত দিয়ে উঠে এসেছে সেই দিনটির বর্ণনা।

‘শেখ হাসিনার দেশে ফেরা’ শিরোনামের অধ্যায়ে তুলে ধরা হয়, ১৮ মে ১৯৮১ সোমবার প্রকাশিত বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকার প্রথম পাতার রিপোর্টের কিছু অংশ।

পুলিশের বেষ্টনী অতিক্রম করে বহু মানুষ বিমানবন্দরে প্রবেশ করে। এরপর আসে কাঙ্ক্ষিত সে বিমানটি। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা-স্বাগতম জানানো গগনবিদারী স্লোগানে প্রকম্পিত গোটা বিমানবন্দর।’

‘ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছিল আওয়ামী লীগ’

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ মোটামুটি ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছিল। দলের মধ্যে ছন্দটা হারিয়ে গিয়েছিল। মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আলাদা আওয়ামী লীগ – এমন পরিস্থিতিতে দল আবার ভাঙার অবস্থা হয়েছিল।’

মহিউদ্দিন বলেন, ‘দলকে এক রাখার জন্যেই দলের কয়েকজন নেতা দিল্লিতে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনার সঙ্গে পরামর্শ করতে। তারা তাকে রাজি করান সভাপতির পদ নিতে।’

তার ফিরে আসা আওয়ামী লীগের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এমন প্রসঙ্গে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দলের মধ্যে নেতাকর্মীরা উৎসাহ পেয়েছিলেন। তৃণমূলের কর্মীরা অনেকটাই নেতৃত্বহীন ছিলেন। কারণ এই ধরনের মধ্যবিত্তের দলে একজন ক্যারিশম্যাটিক নেতা না থাকলে দল খুব একটা এগোতে পারে না।

বিশেষ করে বড় দলগুলোর জন্য এটা একটা বড় সমস্যা। আদর্শভিত্তিক দলগুলোর জন্য এটা খুব একটা সমস্যা হয় না, কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো একটি দলের – বঙ্গবন্ধুর মতো একজন মহীরুহ ছিলেন যে দলের নেতা, তার অবর্তমানে তাজউদ্দীন নেই, সৈয়দ নজরুল ইসলাম নেই, অন্যান্য নেতা নেই। ফলে দলটি অগোছালো হয়ে পড়েছিল।’

দলের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা

মহিউদ্দিন আহমেদ আরও যোগ করেন, আওয়ামী লীগের মধ্যেই হার্ডলাইনাররা ছিলেন। মহিউদ্দন আহমদ এবং আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি অংশ বেরিয়ে ‘বাকশাল’ নামে দল গঠন করেন, ফলে আওয়ামী লীগ একটু দুর্বল হয়ে যায়।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে শেখ হাসিনার কর্তৃত্ব যতই সংহত হতে থাকুক না কেন, তরুণদের মধ্যে বিশেষ করে ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে- আবদুর রাজ্জাকের অনুগতদের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।’

‘আন্দোলনের মধ্য দিয়েই কিন্তু শেখ হাসিনা দলের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন আন্দোলনের নেতা হিসেবে। ফলে দলের মধ্যেও তার অনেকটাই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় আশির দশকে’, বলেন মহিউদ্দিন আহমেদ।

সূত্র: বিবিসি বাংলা, প্রিয়.কম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত