প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

কুর্দিদের হাতেই এরদোগানের ভাগ্য?

ডেস্ক রিপোর্ট : তুরস্কের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের শেষ সময়ে দুই বড় দলের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। জনমত জরিপ বলছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে থাকলেও পার্লামেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোগানের দল একেপি’কে চ্যালেঞ্জ জানাবে কামাল আতাতুর্কের দল সিএইচপি। আর পুরো নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে কুর্দিদের ভোট।

ইতোপূর্বে কুর্দিদের ভোট পেতো মূলত এরদোগানের একেপি এবং কুর্দিপন্থী বাম দল এইচডিপি। গত দুই নির্বাচনে এমনটাই দেখা গেছে। ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে এইচডিপি’কে কুর্দি গণ্ডির বাইরে মূলধারার রাজনীতিতে নিয়ে আসেন বর্তমানে কারাবন্দি দলটির সাবেক নেতা সেলাহাত্তিন ডেমিরতাস। এবার প্রেসিডেন্ট পদে তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তুরস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী কুর্দি সংগঠন পিকেকে’র সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে ২০১৬ সালের নভেম্বরে তাকেসহ এইচডিপি’র বেশ কয়েকজন নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সেলাহাত্তিন ডেমিরতাসের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ১৪২ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এই রাজনীতিক।

একেপি এবং সিএইচপি’র মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ায় সংবাদমাধ্যমে সেভাবে এইচডিপি নেতার নাম আসছে না। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া ও নিজের আইনজীবীদের ওপর আস্থা রাখছেন সেলাহাত্তিন ডেমিরতাস। কারাগারে দেখা করে আইনজীবীরা তার বার্তা সমর্থকদের কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। গ্রেফতারের পর গত ১৭ জুন তাকে প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে দেখা যায়। এদিন কারাগার থেকে রেকর্ড করা তার একটি বক্তব্য সম্প্রচার করা হয়। এতে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে থাকার একমাত্র কারণ হচ্ছে একে পার্টি আমাকে ভয় পায়।’

এখন কারাবন্দি এইচডিপি’র প্রতি কুর্দিদের সহানুভূতি তৈরি হলে তাতে বিপাকে পড়বে এরদোগানের একেপি। কেননা, দলটির ভোট বেড়ে যাওয়ার মানে হচ্ছে একেপি’র ভোট কমে যাওয়া। জনমত জরিপগুলো বলছে, রবিবারের নির্বাচনে এইচডিপি যদি ১০ শতাংশের বেশি ভোট পায় তাহলে একে পার্টির পক্ষে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব হবে না।

৬০০ আসনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জিততে হলে একেপি’কে ৩০০টির বেশি আসন নিশ্চিত করতে হবে। অবশ্য এরদোয়ান ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ আসন না পেলে তার দল অন্যদের সঙ্গে নিয়ে জোট সরকার গঠন করবে।

নির্বাচনেও জোটগতভাবেই অংশ নিচ্ছে দুই বড় দল। এরদোগানের একেপি’র নেতৃত্বাধীন ‘পিপলস অ্যালায়েন্স’ জোটে রয়েছে একে পার্টি, ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী দল এমএইচপি। অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদে বিশ্বাসী কামাল আতাতুর্কের দল সিএইচপি’র নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল অ্যালয়েন্স’ জোটে রয়েছে ডানপন্থী ইয়ি পার্টি এবং ইসলামপন্থী দল সাদাত পার্টি। দুই শক্তিশালী জোটের কারণে এরদোগানের পিপলস অ্যালায়েন্সের নিরঙ্কুশ জয় কঠিন হয়ে পড়বে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে কুর্দিদের ভোট পেয়ে আসলেও এবারের নির্বাচনে এরদোগানের সেই ভোট ব্যাংকে ভাগ বসাতে পারে সিএইচপি। ফলে এরদোগানের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করবে কুর্দিদের রায়ের ওপর। রবিবারের নির্বাচনে কোনও দল বা জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলে ভোটগ্রহণ দ্বিতীয় দফায় গড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রভাবশালী সিএইচপি’র ভোট এরদোগানেরবিরোধীদের বাক্সেই পড়বে।

এরদোগানের দল একে পার্টি’র প্রধান প্রতিপক্ষ সিএইচপি আধুনিক তুরস্কের স্থপতি মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের দল। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তুরস্কের রক্ষণশীলরা দলটিকে অভিজাততন্ত্রের ধারক-বাহক হিসেবে দেখে এসেছে। অন্যদিকে কুর্দিরা দলটিকে দেখেছে বলপ্রয়োগকারী একনায়কতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে। কিন্তু এখন যারা এরদোগানের বিরোধিতা করছেন তারা সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পক্ষপাতী। তাদের প্রত্যাশা, এরদোয়ানবিরোধী ইসলামপন্থী ও কুর্দিদের এক করতে পারবেন মুহাররেম ইনজে।

ইনজে পদার্থবিজ্ঞানের সাবেক শিক্ষক। তিনি এখন ইয়ালোভা প্রদেশের একজন এমপি। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন লাভের পর তিনি কারাবন্দি এইচডিপি নেতা সেলাহাত্তিন দেমিরতাসকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুর্দিদের সমর্থন পাওয়া জরুরি। কারণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বে কোনও প্রার্থী যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পান তাহলে নির্বাচন চলে যাবে দ্বিতীয় পর্বে। তখন কুর্দিদের ভোট দরকার হয়ে পড়বে। কুর্দিরা আগে এরদোয়ানকে ভোট দিয়েছিল। অনুন্নত কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় নতুন বিনিয়োগ করা এবং তাদের জন্য নাগরিক অধিকার ও তাদের ভাষার অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রক্ষণশীল কুর্দিদের সমর্থন পেয়ে আসছেন এরদোয়ান। কিন্তু নানা বাস্তবতায় সম্প্রতি সে সম্পর্কে চিড় ধরেছে।

কুর্দিদের সমর্থিত বামপন্থী এইচডিপি’র এমপি মিথা সানচার বলেছেন, ‘বিরোধীদের শক্তিশালী অবস্থান দেখে আমরা আনন্দিত। দ্বিতীয় পর্বে যেতে না পারলে আমরা তখন ইনজেকেই সমর্থন দেবো।’ আর দলটির নেতা সেলাহাত্তিন ডেমিরতাস বলেছেন, নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়ালে এরদোগানের বিরুদ্ধে থাকা যে কোনও প্রার্থীকেই সমর্থন দেবে এইচডিপি। সূত্র: আল জাজিরা, মিডল ইস্ট আই।

সূত্র : বাংলাট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত