প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

সময় বেঁধে দিয়েও বিচ্ছিন্ন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দ্বৈত বিদ্যুৎ সংযোগ!

ডেস্ক রিপোর্ট : এক বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির এলাকায় অন্য কোম্পানির লাইন। এক গ্রাহককে সংযোগ দিচ্ছে দুই কোম্পানি। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন নির্দেশনা সত্ত্বেও বন্ধ হয়নি এমন সংযোগ দেওয়া। সংখ্যার হিসেবে এমন দ্বৈত সংযোগ ছিল চার হাজার ৬৪৪টি। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সময় বেঁধে দেওয়ার পরও এর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

এ অবস্থায় আগামীকাল রবিবার (২৪ জুন) দ্বৈত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি দ্বৈত সংযোগ দেওয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বলছে, তারা এখনও সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। অন্যান্য সংস্থার কাজেও অগ্রগতি নেই। এমন দ্বৈত লাইনের পরিমাণ ১৪ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার। সবচেয়ে বেশি দ্বৈত সংযোগ দেওয়া হয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি-পল্লী বিদ্যুৎ) এলাকায়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের পাওয়ার সেল জানায়, সারাদেশে চার হাজার ৬৪৪টি দ্বৈত সংযোগ ছিল। এরমধ্যে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩৩৩টি লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বাকি লাইনগুলো বিচ্ছিন্ন করার জন্য পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিকে (ওজোপাডিকো) ২২ জুন, নর্দার্ন ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) ২৪ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

বর্তমানে দেশে ৬টি কোম্পানি বিদ্যুৎ বিতরণ করছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা ভৌগোলিক এলাকা নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। দেশের পল্লী অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আরইবি। জেলা শহরগুলোতে সরবরাহ করে পিডিবি। পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলোতে ওজোপাডিকো এবং উত্তরাঞ্চলে নেসকো বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। রাজধানীর দুই অংশে কাজ করছে ডিপিডিসি ও ডেসকো।
জানা যায়, এ পর্যন্ত আরইবি এলাকার ৭০০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। নেসকোর এমন দুই হাজার ৪০০টি সংযোগের মধ্যে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে মাত্র ৪০টি। ডিপিডিসির ৩৮টি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে কোন বিতরণ কোম্পানির কতটি দ্বৈত সংযোগ রয়েছে তা জানা যায়নি।
গতমাসে বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এক বৈঠকে বিতরণ কোম্পানির দ্বৈত সংযোগ সরিয়ে নিতে ২৪ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন।
আজ শনিবার (২৩ জুন) বিকালে পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) প্রকৌশলী মো. ফকরুজ্জামান জানান, পিডিবির দ্বৈত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রম চলছে। বিদ্যুৎ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা মনে করিয়ে দিলে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ তবে দ্বৈত লাইনের বিষয়ে এখনও কোনও নির্দেশনা পিডিবির কাছে আসেনি বলে জানান তিনি।
পল্লী বিদ্যুতের (আরইবি) অভিযোগ, পিডিবি, ওজোপাডিকো ও নেসকো আরইবির এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করেছে। পিডিবি ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম এবং সিলেটে জোর করে আইবির এলাকায় বিদ্যুতের লাইন দিচ্ছে। অন্যদিকে, ওজোপাডিকো বরিশাল ও খুলনা এলাকা আর নেসকো উত্তরবঙ্গে আরইবির এলাকায় একইভাবে লাইন নির্মাণ করছে।

আরইবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, ভৌগলিক এলাকা আরইবির। তাই ওইসব এলাকায় আরইবির লাইন স্থাপন করার কথা। কিন্তু অনেক স্থানেই ওই তিন বিতরণ কোম্পানিও লাইন স্থাপন করছে।
এই দ্বৈত লাইনের বিরোধ মেটাতে ২০১৫ সালে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাকসুদা খাতুনকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়। এরপর আরও কয়েকটি কমিটি করা হয় কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে মাকসুদা খাতুন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেকবার কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকও করেছেন। এ বিষয়ে করণীয় কি তা সুপারিশও করেছে কমিটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও সমাধান হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবার বিদ্যুৎ সচিব নির্দেশ দিয়েছেন। সময়ও বেঁধে দিয়েছেন।’ তা মানা না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতউল্লাহ বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন স্থাপন নিয়ে দিনের পর দিন এভাবে কোটি কোটি টাকার অপচয় আর দুর্নীতি হলেও দেখার কেউ নেই। আলোচনা হয়, উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু আবার তা এক সময় থেমে যায়। আবার আগের মতোই চলতে থাকে দ্বৈত লাইন বসানোর কাজ।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্পূর্ণভাবে আইন অমান্য করে এসব বিনিয়োগ করা হয়। শুরুতেই বিতরণ কোম্পানির সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, কে কোন পর্যন্ত বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করতে পারবে। সুতরাং, দ্রুত এই ধরনের লাইন নির্মাণ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত