প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কতোখানি ইঙ্গিতপূর্ণ এই চলে যাওয়া!

ডা. রাজীব দে সরকার : কর্তব্যরত অবস্থায় মারা গেলেন একজন চিকিৎসক, রাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা, একজন স্বাস্থ্য প্রশাসক।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার দাস (৪৯) দায়িত্বরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
কাজ করার ব্যস্ততার মাঝেই এই মৃত্যু। এ মৃত্যু এক কর্মসাধকের মৃত্যু।  অথচ তাঁর এই চলে যাওয়া কতোখানি নীরবতার মধ্যে। । একজন পুলিশ সদস্য যখন দায়িত্বরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়। মরণোত্তর পদক দেওয়া হয়। বাহিনী প্রধান শোক প্রস্তাব প্রেরণ করেন। বাহিনীর ওয়েবসাইটে Sacrifice in action সেগমেন্টে জল জল করে জ্বলে তার জীবনচরিত। মানুষ জানতে পারে, একজন মানুষ দায়িত্বপালনরত অবস্থায় জীবনের শেষ প্রহর কাটালেন।

অথচ মেডিকেল সায়েন্স এর শপথ পূরণ করে জীবনের শেষ ক্ষণ পর্যন্ত দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অবদান রেখে চির বিদায় নিলেন একজন সরকারী কর্মকর্তা, একজন চিকিৎসক।

কতোখানি নীরবতার মাঝে এই চলে যাওয়া!
কতোখানি ইঙ্গিতপূর্ণ এই চলে যাওয়া!!

আসুন কিছু ভাবি…
কিভাবে এই কর্মসাধকের মৃত্যু , সে খবর মিডিয়ায়ও এসেছে খুব অবহেলিতভাবে। বেশীর ভাগ মিডিয়া খবরটি প্রকাশ করার দায় বোধ করে নি।
দুয়েকটি অনলাইন মিডিয়ায় খবর এসেছে ।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার দাস (৪৯) দায়িত্বরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে কচুয়া উপজেলা হাসপাতালে তার অফিস রুমে চেয়ারে বসা অবস্থায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দ্রুত বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ডা. তাপসকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. অরুণ চন্দ্র মন্ডল বলেন, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার দাস তার কার্যালয়ে আসেন। সেখানে দাফতরিক কাজ করার সময়ে হঠাৎ তিনি তার সহকর্মীদের ডেকে তার বুকে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে বলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

এ সময় তার সহকর্মীরা তার চিকিৎসা শুরু করেন। তার অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে দ্রুত বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

ডা. তাপস কুমার দাস বরিশাল মেডিকেল কলেজে থেকে এমবিবিএস পাস করে ২১তম বিসিএসে কৃতকার্য হন। ২০০৩ সালের ২১ মে মেডিকেল অফিসার হিসেবে স্বাস্থ্য বিভাগে যোগদান করেন। সর্বশেষ তিনি ২০১৬ সালে পদোন্নতি পেয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চরকাঠী দাসপাড়া এলাকার মৃত. শরৎচন্দ্র দাসের পুত্র। ৭ ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। জয়িতা দাস (১৫) নামে তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ৩ বছর আগে তার স্ত্রী ডা. তপতী পোদ্দার মারা যান।

ডা রাজীব দে সরকার
রেজিস্ট্রার, সার্জারী বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
অনলাইন সদস্য, সিএসসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
ইমেইলঃ [email protected]

সূত্র : ডাক্তার প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত