প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

এমপি পুত্রকে বাঁচানোর চেষ্টা!

রবিন আকরাম : সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে শাবাবকে এখনো গ্রেফতার করেনি পুলিশ। সেলিম ব্যাপারী নামে এক পথচারীকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করার পরেও ধরা- ছোয়ার বাইরেই রয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে নিহতের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে জামেলা মেটানোর চেষ্টায় রয়েছে এমপির পরিবার।

তথ্য মতে, নিহতের পরিবারকে এমপি একরামুল করিম চৌধুরী ‘সমঝোতার প্রস্তাব’ দেন। এমপির কথায়, টাকার বিনিময়ে তারা যেন মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।

টাকার বিনিময়ে আপসের বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারী একটি সংবাদপত্রকে একরামুল করিম বলেন, ‘এ বিষয়ে তো আমি কিছু জানি না, এটা আপনারাই জানেন, আই ডোন্ট নো। টাকার বিনিময়ে হোক আর যাই হোক, যেহেতু দেশে আইন আছে, আইনের মাধ্যমে যেটা হয় সেটাই দেখব।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আইন কি জিনিস সেটা আপনারা বোঝেন, আপনাদের সাংবাদিকরা বোঝে? আপনারা কি জানেন এই এক্সিডেন্ট আইনে কী হয়?’

এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে ঈদ-পরবর্তী ফাঁকা রাস্তায় সেলিম বেপারিকে মেরে পালিয়ে গিয়েছিল নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর স্ত্রীর মালিকানাধীন গাড়িটি। ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অন্তত দুজন বলেছেন, সাংসদের ছেলে শাবাব চৌধুরীই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। অভিযুক্ত শাবাব ওই প্রত্যক্ষদর্শীদের মারধরও করেন বলে অভিযোগ আছে। আর মানিক মিয়া এভিনিউর ন্যাম ভবনের একজন নিরাপত্তাকর্মীও বলেছেন, সাংসদের ছেলে তার বিলাসবহুল অডি জিপ গাড়িটি দুমড়ে যাওয়া অবস্থায় চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে ন্যাম ভবনে ঢোকেন।

তবে গাড়িটির মালিক সাংসদের স্ত্রী কামরুন্নাহার শিউলী গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমকে বলেন, দুর্ঘটনার সময় তার ছেলে গাড়িতেই ছিলেন না। গাড়িতে চালক একাই ছিলেন, তিনিই এ দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আহমেদ বলেন, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী গাড়িটি শনাক্ত হয়েছে। গাড়িটি কে চালিয়েছেন, সেটি শনাক্তের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে।

কাফরুল থানার ওসি শিকদার মোহাম্মদ শামিম হোসেন জানান, মামলার তদন্ত চলছে। তবে এ বিষয়ে জানতে ডিসি মিডিয়া মাসুদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলুন।

এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এখনি আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব না কে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তদন্তের পরই সবকিছু জানা যাবে। তবে এটুকু বলতে পারি কেউ আইনের উর্ধে নন। তিনি যদি এমপি পুত্রও হন।

অন্যদিকে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে শুরু থেকেই সমঝোতার চেষ্টা চালিয়েছে সাংসদের লোকজন। পরিবারটি সমঝোতা করতে রাজি হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। এখন ক্ষতিপূরণের টাকার অঙ্ক নিয়ে দেন-দরবার চলছে। নিহত সেলিমের পরিবারকে ২০ লাখ টাকার মতো ফিক্সড ডিপোজিট করে দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ভরণপোষণ দেওয়ার কথাও বলেছে গাড়ির মালিকপক্ষ। নিহত গাড়িচালক সেলিম বেপারি যাঁর গাড়ি চালাতেন, সেই মালিকপক্ষসহ নিহত ব্যক্তির স্বজনেরাও আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছেন।

নিহত সেলিম বেপারি নাওয়ার প্রপার্টিজ নামের একটি আবাসন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হোসেন খানের গাড়ি চালাতেন!

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত