প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দারিদ্র্যের কারণে শাহিনের উচ্চশিক্ষা অনিশ্চিত

বিল্লাল হোসেন, কালীগঞ্জ (গাজীপুর): বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, “হে দারিদ্র্য তুমি মোরে করেছ মহান”। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে কেউ কেউ সামনে শুধু অন্ধকারই দেখে। কখনো কখনো অনেক ভালো কিছু অর্জন করলেও সামনের অন্ধকার দূর হয় না দারিদ্র্যের কারণে। ঠিক তেমনই অবস্থা হয়েছে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার দুর্বাটি গ্রামের হাদিউল ইসলাম শাহিনের।

চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার আরআরএন পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে শাহিন। শিক্ষা-সরঞ্জামের পর্যাপ্ত অভাব-অনটন ও দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত শাহিন লেখাপড়ার সুষ্ঠ পরিবেশ না পেলেও নিজের মেধার জোরেই ছিনিয়ে এনেছেন গৌরবোজ্জল এ সাফল্য।

শাহিনের বাবা মো. রুহুল আমিন ভূইয়া একটি পোষাক শিল্প প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল অবস্থানেই ছিলেন। বাবা-মা, বোন নিয়ে ভালই চলছিল তাদের পরিবার। হঠাৎ অজানা এক ঝড়। শাহিনের বাবা ২০১৫ সালে তার জেএসসি পরীক্ষার মাস তিনেক আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। মা সাবিনা ইয়াসমিন আর একমাত্র মানসিক প্রতিবন্ধি বোন সানজিদা আক্তার বিয়ানাকে (৯) নিয়ে বিপদেই পরে যায় কিশোর শাহিন। দুই বছর মামা-ফুফুদের সহযোগীতায় চলে তাদের পরিবার। পরে উপায়ান্তর না দেখে কাজ নেয় রাজ-যোগালির। সংসার নামক মহাসমুদ্রের সাথে পাল্লা দিয়ে সমান তালে চলে তার লেখাপড়াও। স্কুলে খুব বেশি যাওয়া হতো না তার। কেননা স্কুলে গেলে তার পুরো পরিবার উপুস থাকতে হবে। সারাদিন কাজ করতো আর রাতে বাড়িতে পড়ত। পরীক্ষায় সময় নিয়মিত পরীক্ষা দিত।

২০১২ সালে পিএসসি’তে ও ২০১৫ সালে জেএসসি’তে জিপিএ-৫ অর্জন করে শাহিন। ২০১৫ সালে জেএসসি মেধা তালিকা অনুসারে বৃত্তিও পায় শাহিন। এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার কোন সামর্থ্য তার পরিবারের ছিল না। তখন তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন শাহিনের স্কুলের গনিতের শিক্ষক শফিকুল আলম, স্কুলের ছাত্র কল্যাণ তহবিল ও প্রতিবেশী রায়হান শরীফ।

শাহিন ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু শাহিন মনে করে তার সেই স্বপ্নে বড় বাধা দারিদ্রতা এবং ভর্তি অনিশ্চয়তা। তাই উচ্চ শিক্ষা ও স্বপ্ন নিয়ে চিন্তিত শাহিন। একদিকে নিজের স্বপ্ন পূরণের হতাশা অন্যদিকে পরিবারের ঘানি। কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা শাহিন। তাই নিজে কায়িক পরিশ্রম করেও মফস্বলে থেকে এত ভাল ফলাফলেও তার মুখে হাসি নেই।

দুবার্টি গ্রামের বাসিন্দা ও শাহিনের প্রতিবেশী রায়হান শরীফ বলেন, ‘ছেলেটির মেধা ও ভদ্রতা দেখে আমি সহযোগীতায় এগিয়ে এসেছি। এখন সমাজের বিত্তবান মানুষগুলোর সহযোগিতায় শাহিনের উচ্চ শিক্ষা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

কালীগঞ্জ আর.আর.এন পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন চৌধূরী বলেন, দরিদ্র ও মেধাবী শাহিন এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে আমাদের স্কুলের মুখ উজ্জল করেছে। এই ছেলেটির ভবিষ্যৎ সহযোগীতায় কোন বিত্তবান মানুষ এগিয়ে আসলে হয়তো তার উচ্চ শিক্ষা ও স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত