প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঈদের একাল-সেকাল

সালেহ আকন : যন্ত্র ঈদের আমেজটাও কেড়ে নিয়েছে। বাস্তবিক যে আনন্দ আগে ছিলো, তার ছিটেফোটাও এবার লক্ষ্য করলাম না। শহুরে ঈদ হয়তো অনেক আগেই তার জৌলুস হারিয়েছে। যা টিকে ছিলো সেটা কেবল গ্রামে। কিন্তু এবারে গ্রামের ঈদ দেখেও অনেকটা অবাক হয়েছি। এক সময় ঈদ শুরু হতো চাঁদ দেখার আগ থেকে। মাগরিবের নামাজের পরই অনেকটা প্রতিযোগিতা শুরু যেতো কে কার আগে চাঁদ দেখবে। যেখান স্বচ্ছ আকাশটা দেখার সম্ভাবনা; সেখানটাতে সবাই জড়ো হতাম। ফজরের আযানের আগেই ডাকাডাকি শুরু যেতো। পাল্লা দিতেন মা-বোনরা; কাদের পায়েস রান্না আগে শেষ হয়।

পায়েসের সাথে থাকতো মলিদা। কাঁচা চালের গুড়া, নারকেল, চিনি, চিড়া আর মুড়ির শরবত। সাথে থাকতো আদার রস। মলিদা এবার আর চোখেই পড়লো না। যদিও ওটা আমার বেশী প্রিয় নয়, কিন্তু ঐতিহ্যতো! এভাবে একটা ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে? পাড়ায় ছুটে বেড়ানোর পাল্লায় শিশুদের সাথে বয়স্করাও কম যায়নি। এবার ওসবের ছিটেফোটাও দেখলাম না। সারাদিনে কেউ কাউকে টেনে নিয়ে বাড়িতে গেছে তা লক্ষ্য করিনি। কেউ কারো বাড়ি না গেলে রাগ হতেন। এবার মনে হলো, প্রত্যেকটা মানুষ যে যার মতো আছে। পরিবারের সদস্যদেরকে সময় দেবে তাতেও ব্যস্ত। রাস্তায় হাঁটছে আর মোবাইল টিপছে। বড়দের সালাম করার রেওয়াজটিও উঠে গেছে অনেকটা।

বারবার মনে হচ্ছিলো আমাদের শিশুকালের ঈদের কথা। অনাবিল আনন্দ, হৈহুল্লোড় আরো কতোকি? পুরো পাড়াটি মাতিয়ে রাখতাম আমরাই। খেতে খেতে পেট ফুলে যেতো। আমার সেই পাড়ায় এখন অনেক বাড়ি। কাঁদার রাস্তায় ইট বসেছে অনেক আগেই। এবার দেখলাম রাস্তা পাকা হচ্ছে। কিন্তু নতুন জামা পড়ে দল বেধে ছেলে-মেয়েদের হাঁটতে দেখিনি এবার। মনে পড়ে, এমনও ঈদ গেছে যেদিন কলার ভেলায় চড়ে এক বাড়ি আরেক বাড়ি গিয়েছি। নানা সাজের সেই শিশুরা কোথায় আজ? সেদিন মানুষ খেতে পারুক আর না পারুক, সে যে কি আনন্দ। আর আজ? মানুষতো বেশ খাচ্ছে। কিন্তু আনন্দ সিকেয় উঠেছে। হয়তো আর দু’চার বছর পর ঈদ মানে যে আনন্দ সেটুকুও মানুষ ভুলে যাবে।

লেখক: সভাপতি, ক্র্যাব/সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত