প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাকিস্তানি আমলে তৈরি আইনের সংস্কার চাই

রাখাল রাহা : করণীয় নূন্যপক্ষে ৪টি : ১। পুলিশ বা কোনো বাহিনী খুন করলে তার তদন্ত পুলিশ বা সেই বাহিনী করতে পারবে না। ২। প্রত্যেকটা মৃত্যুর স্বাধীন তদন্তের আইন করতে হবে। ৩। কোনো হত্যাকা-কে বৈধ করতে রাষ্ট্র কোনো ইনডেমনিটির আইন করতে পারবে না। ৪। আদালতের দেওয়া শাস্তির রায় কোনো নির্বাহী আদেশ দিয়ে বাতিল করা যাবে না। এই ৪টি দাবীতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রের খুনী চরিত্র পরিবর্তনের জন্য উপনিবেশিক প্রশাসনিক আইন এবং এসব আইনের বৈধতা আসে সংবিধানের যেসব অংশ তা সংশোধনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া ।

এ যদি আমরা না করতে পারি তবে সারের দাবীতে আন্দোলনকারীদের গুলি করে যেমন মারা হয়েছে, বিদ্যুতের দাবীতে আন্দোলনকারীদের যেমন গুলি করে মারা হয়েছে, গণতন্ত্রের দাবীতে আন্দোলনকারীদের যেমন গুলি করে মারা হয়, মাদক নির্মূল বা অস্ত্র উদ্ধার বা জঙ্গি দমনের নামে যেমন খুনের উৎসব করা হয় — একই কায়দায়, একই আইনকে ‘ব্যবহার এবং অপব্যবহার’ করে যখন যাকে ইচ্ছা তাকেই রাষ্ট্র নিশ্চিহ্ন করে ফেলার ভয়াবহ-নৃশংস কাজটি অব্যাহতভাবে করে যেতে থাকবে। আর এই নৃশংসতা এবং হিং¯্রতাকে সমাজে এমনভাবে ছড়িয়ে দেবে যাতে সাধারণ মানুষ সর্বদা আতঙ্কগ্রস্ত ও সন্ত্রস্ত থাকে এবং রাষ্ট্র-সরকারের কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস সমাজে আর অবশিষ্ট না থাকে।

বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই এ পরিস্থিতি তৈরী করতে রাষ্ট্র অনেকাংশে সফল হয়েছে। কিন্তু এমন পরিণতির দিকে দেশের যাত্রায় এখনো যাদের কষ্ট হয়, চোখের সামনে অন্যায় দেখলে এখনো যাদের ঘুম হয় না, এখনো যারা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কাজ নিজেকে বিরত রাখতে পারেন না তাদের আজ ভাবা জরুরী যে, এমন আইন চাই কিনা, এমন আইনের শাসন চাই কিনা! নাকি অন্যরকম আইন চাই, অন্যরকম আইনীব্যবস্থা চাই, নাকি আরো অন্য কিছু! মাদকমুক্ত সমাজ আমরা চাই; মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক সমাজ আমরা চাই। তার জন্য ব্রিটিশ ও পাকিস্তানী আমলে তৈরী রাষ্ট্রের জংলী সকল আইনের আগে পরিবর্তন ও সংস্কার চাই।

পরিচিতি : লেখক / মতামত গ্রহণ : মো.এনামুল হক এনা / সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ