প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৮০ ভাগ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট: গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারের বাকি আর তিন দিন। ২৪ জুন মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে প্রার্থীদের প্রচার। শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে নানামুখী পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্টসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রায় ৯ হাজার সদস্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ ছাড়া নানা দিক বিবেচনায় নির্বাচনের ৪২৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩৭টি কেন্দ্রই বিভিন্ন ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারিফুজ্জামান জানান, প্রার্থী বা প্রভাবশালীদের বাড়ির কাছাকাছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত কেন্দ্র, অতীতে যেসব ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা হয়েছিল, যেসব ভোটকেন্দ্রে যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ এবং এলাকার গোয়েন্দা তথ্যসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও প্রশাসনিক ভাষায় এসব কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করা হয়। ঝুঁঁকিপূর্ণ কেন্দ্র পাহারায় পুলিশ ও আনসারের ২৪ সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ১২ জন অস্ত্রধারী ও বাকি ১২ জন লাঠিসহ অবস্থান করবেন।

এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের বাইরে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির টহল বেশি থাকবে। ৫৭টি ওয়ার্ডে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের ৫৭টি মোবাইল ও ২০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র্যাবের ৫৮টি টিম ও ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারের নিজ নিজ ওয়ার্ডের সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। জাহাঙ্গীর আলমের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কানাইয়ার তিনটি কেন্দ্রে সাড়ে ছয় হাজার ভোটার রয়েছেন। অন্যদিকে হাসান সরকারের ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১০টি কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ৩৭ হাজার। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র বিএনপির সহসভাপতি এমএ মান্নান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানের ভোট কেন্দ্র দুটিও ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে।

ইভিএম ব্যবহার : গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৬টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া দুটি কেন্দ্রে থাকবে সিসিটিভি। সামনের নির্বাচনগুলোয় ইভিএম ব্যবহারের পরিমাণ বাড়াতে চায় নির্বাচন কমিশন। এ জন্য ভোটারদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগও নিয়েছে কমিশন। তবে এ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে প্রধান দুই দলের প্রার্থী ও নেতাদের মধ্যে রয়েছে মতভেদ। এর মাধ্যমে ভোট কারচুপির আশঙ্কা করছে বিএনপি।

বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম বলেন, শুরু থেকে বিএনপি ইভিএমের বিরোধিতা করে আসছে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল কারচুপির আশঙ্কায় ভুগছি আমরা। তবে বাংলাদেশ এগিয়েছে উল্লেখ করে নির্বাচনে তথ্যপ্রযুক্তি তথা ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ।

রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিবউদ্দিন ম-ল বলেন, এবার সিটি নির্বাচনে ৬টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। সামনের নির্বাচনগুলোয় ইভিএম ব্যবহার বাড়ানোর চিন্তা করছে কমিশন। এ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এটির ব্যবহারে যৌক্তিকতা রয়েছে। সূত্র: দৈনিক আমাদেরসময়

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত