প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শত অর্জনে সফল আওয়ামী লীগ, সহস্র চ্যালেঞ্জ আগামীর পথে

ডেস্ক রিপোর্ট: উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালের এই দিনে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগ তথা আজকের আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। জনলগ্ন থেকে সাত দশক বা ৭০ বছর ধরে আওয়ামী লীগ জাতীয় রাজনীতির অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে গেছে।

এই সাত দশকে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে দলটির যথেষ্ট অর্জন রয়েছে। আবার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেশকিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের।স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও আওয়ামী লীগের ইতিহাস একসূত্রে গাঁথা।

১৯৪৮ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার দাবিতে সূচিত ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ’৬২ ও ’৬৪-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬-দফা আন্দোলন, ’৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৬-দফাভিত্তিক ’৭০-এর নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় ও ’৭১-এ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালির হাজার বছরের স্বাধীনতার স্বপ্ন-আকাক্সক্ষা পরিপূর্ণতা লাভ করে আওয়ামী লীগের হাত ধরে।

আওয়ামী লীগের উদ্যোগেই মাতৃভাষা বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করে। ২১ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত হয় জাতীয় ছুটির দিন ‘শহীদ দিবস’। আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা এবং ৩ নভেম্বর কারাগারের অভ্যন্তরে চার জাতীয় নেতাকে হত্যার পর সামরিক শাসনের নির্যাতন আর নিপীড়নের মধ্যে পড়ে ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি।

নেতাদের মধ্যেও দেখা দেয় বিভেদ। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দলীয় সভাপতি হিসেবে দেশে ফিরে কয়েক ভাগে বিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেন। আন্দোলন শুরু করেন সামরিক শাসক এইচএম এরশাদের বিরুদ্ধে। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর, নারীর ক্ষমতায়ন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি, মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার চুক্তি, ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় ও স্থলসীমান্ত চুক্তি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নয়নে গতিশীলতা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়নের ফলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণ এবং সাবমেরিনের মালিকানা অর্জনের মধ্য দিয়ে জল-স্থল-মহাকাশ জয় করেছে বাংলাদেশ।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাঙালির যত শ্রেষ্ঠ অর্জন রয়েছে, তার পেছনে নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ মূলত ছিল বাঙালিদের দল এবং বাংলাভিত্তিক রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ কখনো সর্বপাকিস্তানভিত্তিক রাজনৈতিক দল হতে চায়নি। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার মূলে ছিল বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন।

দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশের রাজনীতিতে সমজনপ্রিয়তা নিয়ে এবং প্রভাব নিয়ে টিকে আছে। এটার মূলে হলো এই দলের কতকগুলো বৈশিষ্ট্য। একটা হলো আওয়ামী লীগ মানে জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন। আওয়ামী লীগ এই ৭০ বছরে সব সময় জনগণের পাশে থেকে জনগণের আশা আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে পথ চলেছে।

এই ৭০ বছরের পথচলায় কোনোকিছুই চ্যালেঞ্জ ছাড়া কল্পনা করা যায় না। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে বিভিন্ন সময় ৭ দশকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগোতে হয়েছে।অনেক অর্জনের পাশাপাশি সামনের দিকে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আমাদের সময়কে বলেন, আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং বঙ্গবন্ধু এটা একটা সরলরেখায় চলে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাস্তবায়ন করাই এখন আওয়ামী লীগের মূল এজেন্ডা। আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য এবং দেশবাসীর প্রত্যাশা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তোলা।

মূল লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেভাবে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে চলেছেন। ২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল একটা রাষ্ট্র এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার যে লক্ষ্যমাত্রা, সেটি বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকবে। রাজনৈতিকভাবে এই দেশের স্বাধীনতাবিরোধী একটা শক্তি কাজ করে তাদের বিরোধিতা তো আছে, একই সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা অসামঞ্জস্য, বৈষম্য-দুর্নীতি এগুলো কাজ করে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি : জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রতিবছরের মতো এবারও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ সকাল ৯টায় ধানম-িতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে পুস্পার্ঘ্য নিবেদন, সকাল ১০টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সংগঠনের নবনির্মিত কার্যালয় ভবন উদ্বোধন। নবনির্মিত কার্যালয় ভবন উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একই দিন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের এক বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।গতকাল এক বিবৃতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব জেলা, উপজেলাসহ সব স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: দৈনিক আমাদেরসময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত