প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যেভাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রোয়েশিয়ার কাছে উত্তরসূরিদের বিধ্বস্ত হতে দেখে গ্যালারিতে বসে অসহায়ের মতো চোখের জল ফেলেছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। বৃহস্পতিবার নোভগোরোদ স্টেডিয়াম দেখেছে আকাশি-সাদা সমর্থকদের কান্না। প্রিয় দলের অভাবনীয় বিপর্যয় দেখে কেঁদেছে বাংলাদেশের অগণিত আর্জেন্টাইন সমর্থকও। গত পরশু রাতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের পর অনেকেই বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে আর্জেন্টিনার বিদায় দেখে ফেলেছেন। লিওনেল মেসিদের দ্বিতীয় রাউন্ডের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তবু অঙ্কের মারপ্যাঁচে টিকে রয়েছে আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোয় খেলার আশা। সেই আশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক যদি-কিন্তু। তিনটি কঠিন সমীকরণ মিললেই শুধু নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে ম্যারাডোনার দেশ। আর্জেন্টিনার ভাগ্য এখন নিজেদের হাতে নেই। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনাকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রুপের অন্য ম্যাচের দিকে। গ্রুপে থাকা আইসল্যান্ডের হারের জন্য প্রার্থনায় বসতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের।

এক ম্যাচ হাতে রেখেই ডি-গ্রুপ থেকে প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে ক্রোয়েশিয়া। প্রথম ম্যাচে নাইজেরিয়াকে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে তাদের পয়েন্ট ছয়। আর্জেন্টিনা দুই ম্যাচে একটি করে হার ও ড্র’য়ে পেয়েছে মাত্র এক পয়েন্ট। আইসল্যান্ড প্রথম ম্যাচে ড্র করে পায় এক পয়েন্ট, নাইজেরিয়া প্রথম ম্যাচে হেরে পয়েন্ট শূন্য ছিল। শুক্রবার রাতে নাইজেরিয়া ও আইসল্যান্ডের ম্যাচের পর সমীকরণে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিবর্তিত সমীকরণটা জানা যায়নি।

ডি-গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডের বাকি একটি টিকিটের জন্য লড়াই করছে তিন দল- আর্জেন্টিনা, আইসল্যান্ড ও নাইজেরিয়া। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আইসল্যান্ড যদি জিতে থাকে তাহলে আর্জেন্টিনার আশা আরও ক্ষীণ হয়ে যাবে। আফ্রিকান ঈগলদের বিপক্ষে জয় পেলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই আইসল্যান্ডের পয়েন্ট হবে চার। মেসিরা নাইজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জিতলে তাদের পয়েন্টও হবে চার। আইসল্যান্ডেরও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচ বাকি থাকবে। ওই ম্যাচে আইসল্যান্ড জিতলে বা ড্র করলে আর্জেন্টিনার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তবে আইসল্যান্ড হারলে কিছুটা সুযোগ থাকবে মেসিদের। সে ক্ষেত্রে আইসল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার গোল ব্যবধানই হিসাবে আসবে। যারা কম গোল খাবে এবং বেশি গোল দেবে তারাই দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে উঠে যাবে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় নাইজেরিয়া ও আর্জেন্টিনা এবং ক্রোয়েশিয়া ও আইসল্যান্ড মুখোমুখি হবে। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয়ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই মেসিদের সামনে। নাইজেরিয়াকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারলেই দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ আসবে আর্জেন্টিনার। তবে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা একই সময়ে আইসল্যান্ডের হারের জন্যও প্রার্থনা করবেন। আইসল্যান্ড যদি আর কোনো ম্যাচ জিততে না পারে তাহলেই কেবল মেসিদের সমীকরণ সহজ হবে। সে ক্ষেত্রে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয় পেলেই দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে যাবে আর্জেন্টিনা। তবে প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ড যেভাবে ড্র করেছে তাতে সহজে তারা হাল ছাড়বে না সেটা অনুমেয়। ভাগ্যের ছোঁয়া ছাড়া মেসিদের সামনে কার্যত কোনো পথ খোলা নেই।

এদিকে গ্রুপপর্ব থেকে এর আগে চারবার ছিটকে গেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ১৯৩৪ সালে পরের আসরে গ্রুপপর্ব থেকে বাদ পড়েছিল তারা। সেবার সরাসরি নকআউট পর্বের বিশ্বকাপ ছিল। ১৬ দলের ওই টুর্নামেন্টে সুইডেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় আকাশি-সাদারা। ঠিক ২৪ বছর পর আবারও গ্রুপপর্ব থেকে বিদায়ের তেতো স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা। ১৯৫৮ সালে প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে তারা। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে পশ্চিম-জার্মানি ও চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ১৯৬২ সালে পরের বিশ্বকাপেও একইভাবে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয় তারা। সেবার বুলগেরিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে যায় তারা। গ্রুপের তলানিতে থেকে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনার দেশ সর্বশেষ গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল ২০০২ সালে জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে। ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল নিয়েও সেবার তারা গ্রুপপর্ব পেরোতে ব্যর্থ হয়। সেবার নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জেতে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা-ভেরনের আর্জেন্টিনা। কিন্তু পরের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হার ও সুইডেনের সঙ্গে ড্র করলে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। এবারও সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসি দলে থাকার পরও গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কায় তারা। সূত্র: যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত