প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেনজির ভুট্টোর ‘গোপনে’ সন্তান জন্ম দেওয়ার দিনগুলো

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্তানের জন্ম দিয়ে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডার্ন। তিনি হচ্ছেন দ্বিতীয় সরকার প্রধান যিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্তানের মা হলেন। এ ঘটনার সাথে-সাথে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসছেন পাকিস্তানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর নাম, যিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ৩৭ বছর বয়সে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বেনজির ভুট্টোও ৩৭ বছর বয়সে অর্থাত্ ১৯৯০ সালে তাঁর কন্যা বখতাওয়ার ভুট্টো জারদারিকে জন্ম দিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় বখতাওয়ার ভুট্টো নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, বেনজির ভুট্টো দেখিয়েছিলেন যে আপনি একই সাথে মা হতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীও থাকতে পারেন।  আর্ডার্নের সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার ছয় মাস আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি সন্তান-সম্ভবা। তিনি এরই মধ্যে ছয় সপ্তাহের মাতৃত্ব-কালীন ছুটি নিয়েছেন এবং তাঁর সহকারীর কাছে সাময়িক সময়ের জন্য দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। কিন্তু বেনজির ভুট্টো তাঁর গর্ভবতী হবার বিষয়টিকে গোপন রেখেছিলেন। এমনকি তাঁর মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরাও এ বিষয়ে কিছু জানতেন না। বেনজির ভুট্টোর মন্ত্রী পরিষদের এক সদস্য জাবেদ জব্বার পরবর্তীতে বিবিসিকে বলেছিলেন, মন্ত্রী পরিষদের কোনো সদস্যই জানতেন না যে প্রধানমন্ত্রী সন্তানের জন্ম দিতে যাচ্ছেন। আকস্মিকভাবে আমরা জানতে পরলাম যে তিনি শুধু গণতন্ত্রের জন্ম দেননি, একই সাথে তিনি সন্তানেরও জন্ম দিয়েছেন।

বেনজির ভুট্টো সে সময় উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভেতরে ছিলেন। যখন বখতাওয়ারের জন্ম হয় সে সময় সেনা-সমর্থিত একটি ডানপন্থী রাজনৈতিক জোট সরকারকে ঘিরে ধরেছিল। তিনি তখন একটি অনাস্থা ভোটে টিকে গিয়েছিলেন। এ অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ভুট্টোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সে সময় পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা বা আইএসআই তাঁর দল থেকে অর্থের বিনিময়ে সংসদ সদস্যদের ভাগিয়ে নেবার চেষ্টা করেছিল।

পাকিস্তানে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রেসিডেন্টের যে একক কর্তৃত্ব ছিল সেটিকে বাতিল করার জন্য সংগ্রাম করছিলেন ভুট্টো। কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত সফল হননি। এজন্য ভুট্টো যখন সন্তানসম্ভবা হয়েছিলেন তখন তিনি বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করেননি এবং মাতৃত্ব-কালীন কোনো ছুটিও নেননি। ভুট্টোর ব্যক্তিগত গাইনোকলজিস্ট তার অপারেশন করেছিল এবং সন্তান জন্মের পর ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তিনি দ্রুত কাজে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ভুট্টো সে সময়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, পরের দিন আমি কাজে ফিরেছিলাম। সরকারি কাগজপত্র পড়েছি এবং সরকারি ফাইলে স্বাক্ষর দিয়েছি। পরে আমি জানতে পারলাম যে ইতিহাসে আমিই হচ্ছি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সন্তানের জন্ম দিয়েছে।

বেনজির ভুট্টো বলেছিলেন যে, তাঁর সন্তান জন্মদানের বিষয়টি তখন নারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। কারণ এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে একজন নারী নেতৃত্বের সর্বোচ্চ অবস্থানে থেকে এবং নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সে সন্তানের জন্ম যেমন দিতে পারে তেমনি কাজও করতে পারে।

পাকিস্তানের রাজনীতিতে যত অনিশ্চয়তা এবং বিপদ আছে সেটি নিউজিল্যান্ডের রাজনীতিতে নেই। বখতাওয়ারকে জন্মদানের কয়েক মাস পরে তত্কালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট গুলাম ইসহাক খান বেনজির ভুট্টোর সরকারকে বরখাস্ত করেছিল। ভুট্টোর অপর দুই সন্তানের জন্মও একইভাবে গোপনীয়তার ভেতর দিয়ে হয়েছিল। সূত্র: ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত