প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতিবছর মানুষের গড় আয় বাড়ছে ১১৬ ডলার

ডেস্ক রিপোর্ট : অর্থনীতির উচ্চতর প্রবৃদ্ধির ধারা বদলে দিচ্ছে মানুষের জীবনমান। দেশের মানুষের গড় আয় বাড়ছে দ্রুতগতিতে। জেলা প্রশাসক সম্মেলনে উত্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, প্রতিবছর মানুষের গড় আয় বাড়ছে ১০০ ডলারেরও বেশি। সে হিসাব অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে মানুষের গড় আয় ছিল ১০৫৪ মার্কিন ডলার। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ আয় দাঁড়িয়েছে ১৭৫২ মার্কিন ডলারে। সে হিসাবে গত ছয় বছরে আয় বেড়েছে ৬৯৮ ডলার। এতে প্রতিবছর আয় বেড়েছে ১১৬ মার্কিন ডলার। আগামী বছরের শেষ দিকে এ আয় ২ হাজার মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে বলে মনে করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
গড় আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের জীবনমানও বদলে যাচ্ছে বলে মনে করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, যার প্রভাব পড়ছে মানুষের সার্বিক জীবনযাপনে। এতে মানুষের গড় আয়ুও বাড়ছে। দারিদ্র্যের হার কমছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। ফলে ধীরে ধীরে উন্নত জীবনব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। মানুষের আয় বৃদ্ধির ফলে খাদ্যাভ্যাসেরও পরিবর্তন ঘটছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এক সময় দেশে দারিদ্র্য, অনাহারী, অভাবী মানুষ ছিল। অভাব শব্দটা এ দেশে আর নেই। বাংলাদেশে যে গুণগত পরিবর্তন হয়েছে ১৯৭১ সালের দেশ আর আজকের এই দেশÑ সেই দেশ না। এ দেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। গ্রামেগঞ্জে লোকজন সুখেশান্তিতে বাস করছে। মঙ্গা এই দেশ থেকে উজাড় হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫২ ডলার, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৬১০ ডলার। এতে আগের বছরের চেয়ে আয় বেড়েছে ১৪২ ডলার।
সংস্থাটির হিসাবমতে, স্বাধীনতার ৪৭ বছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় অন্তত ১৬ গুণ বেড়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৮৮ মার্কিন ডলার। এক দশক পর ১৯৮২-৮৩ অর্থবছরে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৯ ডলারে। পরের দশকে ১৯২-৯৩ অর্থবছরে সেটা ২৮৫ মার্কিন ডলারে, ২০০২-০৩ অর্থবছরে ৪৭১ ডলারে দাঁড়ায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১০৫৪ ডলারে আর সর্বশেষ গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৬১০ ডলার এবং বর্তমানে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা ১৭৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। শুধু মাথাপিছু আয় নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যান্য সূচকেও বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে বলে মনে করে সংস্থাটি।
এদিকে মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করেছে বলে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ১৯৭৩ সালে বিশ্বব্যাংকের উপস্থাপিত একটি হিসাবে দেখা যায়, তখন মাথাপিছু আয় ছিল ১২০ ডলার। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০১৭ সাল শেষে এ দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৯৬ ডলারে। যদিও বিবিএস হিসাবে ১৬১০ ডলার। তা আরও বেশি। বিবিএসের সর্বশেষ ২০১৬-১৭ সালের খানা আয়-ব্যয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখানে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১৬১০ ডলারে। বিবিএস ও বিশ্বব্যাংকের হিসাবের পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় এ পার্থক্য।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ছিল ৮ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৩ বিলিয়ন ডলারে। স্বাধীনতার বছর দেশের ৮০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করত। সর্বশেষ হিসাবে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭১ দশমিক ৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। অথচ ১৯৭১ সালে গড় আয়ু ছিল ৪৭ বছরের একটু বেশি।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর আমাদের সময়কে বলেন, শুধু আমরা একাই নই, অন্যান্য দেশও এগিয়েছে। তবে আমাদের সমস্যা বেশি ছিল। সেখান থেকে এ ধরনের উন্নতি প্রশংসনীয়। তবে আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলো যে দ্রুততার সঙ্গে এগোচ্ছে, আমরা সেভাবে এগোতে পারছি না। আমাদেরও এগিয়ে যাওয়ার গতি বাড়াতে হবে। সেটি যাতে টেকসই হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অনেকে একসময় আমাদের ‘বিশ্বভিক্ষুক’ হিসেবে দেখতেন। এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা ছিলাম। ওই পরিস্থিতির মধ্যে এখন আমরা নেই। আমাদের অগ্রগতি দেখে তারাই এখন প্রশংসা করছে।
সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত