প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৫০ বছরই ক্ষমতার বাইরে আওয়ামী লীগ!

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শনিবার (২৩ জুন)। এই সাত দশকের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী দলটি ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পেয়েছে মাত্র ১৯ বছর; ৫০ বছরই থাকতে হয়েছে ক্ষমতার বাইরে। এই দীর্ঘ সময় গণতন্ত্রের জন্য রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে তাদের। আর এ আন্দোলন-সংগ্রামের প্রায় পুরোটা সময় আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ ছিল সামরিক সরকার।

আওয়ামী লীগের গঠন এবং এর পরবর্তী আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া যায়।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠার ৫ বছরের মাথায় সমমনা কয়েকটি দলকে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে আওয়ামী লীগ প্রথম ক্ষমতার স্বাদ পায়। সেই সময় ১৩ মাস ক্ষমতায় থাকার সুযোগ হয় কোয়ালিশন সরকারের। ২৪ বছরের পাকিস্তান আমলে এই এক বছরই আওয়ামী লীগ দেশ শাসনের সুযোগ পায়। বাকি ২৩ বছরই দলটির কেটেছে পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে। এই সংগ্রামের বড় অংশ ছিল সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। সত্তরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও দেশ শাসনের সুযোগ দেওয়া হয় না বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে। এ জন্য দলটিকে বেছে নিতে হয় স্বাধীনতা-সংগ্রামের পথ। দীর্ঘ ৯ মাসের স্বাধীনতা সংগ্রামের পর ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে দেশের শাসনভার গ্রহণ করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে আওয়ামী লীগ। এরপর আবারও দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয় দলটিকে। আন্দোলন করতে হয় দুটি সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে। পঁচাত্তরের পর দীর্ঘ ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। ৫ বছর পর আবারও ক্ষমতা হাতছাড়া হয় তাদের। এরপর ২০০৯ সালে নতুন মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর টানা সাড়ে ৯ বছর ক্ষমতায় রয়েছে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দলটি। এ মেয়াদে সরকারের আরও ৬ মাস ক্ষমতায় থাকার সুযোগ রয়েছে।

অবশ্য স্বাধীনতার ৪৭ বছরের মধ্যে রাজনৈতিক দল হিসেবে এককভাবে আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বেশি সময় দেশের নেতৃত্ব দিয়েছে। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলটি বর্তমান মেয়াদ নিয়ে ১৮ বছরের বেশি সময় দেশ শাসন করছে। বিএনপি দেশ শাসন করেছে ১৩ বছরের মতো। আর দল হিসেবে জাতীয় পার্টি ৫ বছর দেশ শাসন করেছে। তবে দল গঠনের আগে ও পরে সব মিলিয়ে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশ শাসন করেন প্রায় ৯ বছর, ১৯৮১ থেকে ১৯৯০। তবে আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়াদে কাগজে-কলমে বিরোধী দলে থাকলেও ক্ষমতায় জাতীয় পার্টির একধরনের অংশীদারত্ব আছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দলটির বর্তমান প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এককভাবে দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় ১৯৮১ সালে দলের ‘ঐক্যের প্রতীক’ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে দলের হাল ধরেন। এরপর থেকে অদ্যাবধি তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আছেন। সব মিলিয়ে তার নেতৃত্বের বয়স ৩৭ বছর। আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তিনটি পদে অধিষ্ঠিত থেকে মোট ২৫ বছর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে সভাপতি হিসেবে ৮ বছর, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৩ বছর এবং ৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত