প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উচ্চ ঝুঁকি সত্বেও উ. কোরিয়ায় বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশী কোম্পানিগুলো

নূর মাজিদ: উত্তর কোরিয়ায় বিনিয়োগের বহুমুখী ঝুঁকি বিদ্যমান। দেশটির সরকার ব্যবস্থার পক্ষ থেকে বেসরকারি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও নিম্নমানের অদক্ষ শ্রমশক্তি দেশটির বাজারে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদের প্রসারে অন্যতম প্রধান বাঁধা। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচী থেকে সরে আসার যে বার্তা কিম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দিয়েছেন তার প্রেক্ষিতে অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানই ভবিষ্যতে দেশটিতে বিনিয়োগের রূপরেখার সম্ভাবনা যাচাই করছেন।

দেশটিতে স্থানীয় উদ্যোক্তার সংকট, বিপুল পরিমাণ তরুণ জনগোষ্ঠী এবং অনুত্তোলিত দুর্লভ খনিজের মজুদ তাদের এই আকর্ষণের মূল কারণ। তবে বেশকিছু ব্যবসায় সম্প্রসারনের ক্ষেত্রে তাদের উত্তর কোরিয়ায় অনেক সাবধানতা অবলম্বন করেই এগোতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহৎ হুন্দাই শিল্পগোষ্ঠী প্রতিবেশী দেশটির অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। কিন্তু নিজ দেশের ওপর কোম্পানি স্যামসাং এর নিকট অতীতের শিক্ষাও তাদের চিন্তার অন্যতম প্রধান কারণ। অতিতে দুই কোরিয়ায় মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে স্যামসাং উত্তর কোরিয়ায় একটি কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে। যা উত্তর কোরিয় সরকার একসময় বন্ধ করে দেয় এবং ঐ স্থাপনাটি তাদের পরমাণু গবেষণার কাজে ব্যবহার করে। স্যামসাং এখনও দেশটির বাজারে ব্যবসায় আগ্রহী কিন্তু তারা এখন এই বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক।

স্যামসাং কোরিয়ার এক মুখপাত্র ডং ইয়েং সুয়াং বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়ায় মাইক্রোওভেন প্রস্তুত করা তুলনামূলক সস্তা হলেও আমরা তা করতে পারবনা। কারণ ঐ একই প্রযুক্তি মিসাইলের গাইডেন্স সিস্টেমেও ব্যবহার করা যায়।

তবে তাই বলে উৎসাহের কমতি নেই দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যান্য কোম্পানিগুলর মাঝে। উত্তরের দুর্লভ খনিজের চালান ব্যবহার করে এলজি’র মত কোম্পানি সেখানে অনেক কমমূল্যে ভালোমানের এলএইডি টেলিভিশন তৈরির কারখানা স্থাপন করতে পারবে। এই লক্ষ্যে ট্রাম্প-কিম সম্মেলনের পর থেকেই তারা একটি বাণিজ্যিক ঝুঁকি এবং সম্ভাবনার সমিক্ষা যাচাই-বাছাই করে দেখছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার কেটি এবং লটে টেলিকম কোম্পানিগুলোও নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে সেখানে যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগের পরকল্পনা করছে।

এর বাহিরে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের একাধিক কোম্পানি সেখানে বিশেষ চীনা শিল্পাঞ্চল স্থাপনে আগ্রহী। মঙ্গলবার শি-কিম বৈঠকেও এমন আভাষ পাওয়া গেছে। বৈঠকে কিম চীনের কাছে থেকে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহে আগ্রহ প্রকাশ করে। বলাই বাহুল্য, দক্ষিণ কোরিয়া বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাইতে নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী উত্তর কোরিয়ার সবচাইতে বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনের উত্থান হবার সম্ভাবনাই সব চাইতে বেশী রয়েছে। বিশেষত যখন বিচ্ছিন্ন দেশটির একমাত্র বৈধ বাণিজ্যিক মিত্র হিসেবে চীন দীর্ঘদিন থেকেই দেশটির পাশে অবস্থান করেছে। রয়টার্স

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত