প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তুতি চলছে

উম্মুল ওয়ারা সুইটি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। অক্টোবরেই এই নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভার ঘোষণা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা ১৫ সদস্যের করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করার হবে।

তবে এব্যাপারে সংসদের বাইরে থাকা দেশের বড় রাজনৈতিক বিএনপি বলছে, তারা শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবেনা এখনো এই সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে বিএনপি খুব শিগগিরই আন্দোলনে যাবে।

জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপি চাইলেই তো হবে না, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। শেখ হাসিনার অধীনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে এবার অতলে হারিয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকারে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদেরও এই মন্ত্রিসভায় স্থান হতে পারে। সংসদের বাইরে থাকার অযুহাতে বিএনপিকে উপেক্ষা করার জোর চেষ্টা রয়েছে সরকারের ভেতর। এ হিসেবে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে চাইলে অক্টোবরেই এ সরকার গঠন করতে হবে। সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার বলে কিছু না থাকার কারণে এর আকার কী হবে তা নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। প্রধানমন্ত্রী চাইলে দশম সংসদের আগের মতো মন্ত্রিসভার আকার ছোট করতে পারেন আবার বড়ও করতে পারেন। তবে আকার যা-ই হোক এ সরকারে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল রাজনৈতিক দলকেই অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতারা অভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা ঠিক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টারা এবং সিনিয়র নেতারা এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন।

উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে গঠন করা হয়েছিল নির্বাচনকালীন সরকার। ওই সরকারে সেসময়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা রাজনৈতিক দলগুলোর সবগুলোরই প্রতিনিধিত্ব ছিল। এবারও ব্যতিক্রম হবে না।
সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিন অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একই বছরের ২৯ জানুয়ারি নির্বাচিত সদস্যরা সংসদের প্রথম অধিবেশনে বসেছিলেন। এদিন থেকেই সংসদের ৫ বছরের মেয়াদ শুরু হয়েছে। যা শেষ হবে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি।

সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে (ক) ‘মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।’ এ কারণে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করতে হবে। ভোট গ্রহণের পর ঘোষিত ফলের গেজেট প্রকাশসহ কিছু কাজ থাকে। এ ছাড়া কিছু কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হলে সেগুলোর নির্বাচনও মেয়াদের মধ্যেই শেষ করতে হয়। এ জন্য নির্ধারিত ৯০ দিন শেষ হওয়ার আগেই ভোটের সময় নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে ডিসেম্বরের শেষ দিকের যে কোনো দিন ভোটের সম্ভাবনাই বেশি।

আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেন, সংবিধানে অর্ন্তর্বতীকালীন বা নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো বিধান নেই। নির্বাচনের সময় বর্তমান সরকার স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবে। নির্বাচনের সময় সরকারের আকার ছোট করতে হবে এমন কোনো বিধান নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী চাইলে সেটা করতে পারেন। এতে সংবিধানের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনকালীন সরকার ২০১৪’র আদলেই হবে। জাতীয় সংসদে বিদ্যমান দলগুলোর মধ্যে থেকে আনুপাতিক হারে সদস্য নিয়ে একটি ছোট মন্ত্রিসভা নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, আমরা একটি নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি। নির্বাচন কালীন সরকার হবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন, মন্ত্রিসভার আকার অত্যন্ত ছোট হবে। তিনি বলেন, এই সরকার শুধু রুটিন কাজ করবে।নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান কাজ হবে নির্বাচন কমিশনকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত